টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইয়াবা ব্যবসায়ী স্বেচ্ছাসেবক ও যুবলীগ নেতা নিহত

34616_1-4বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম :কক্সবাজারের টেকনাফে র‌্যাব ও বিজিবির সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তারা হলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ টেকনাফ পৌরসভা শাখার সভাপতি জাহেদ হোসেন জাকু ও তার সহযোগী যুবলীগ নেতা ফরিদুল আলম। গতকাল রোববার ভোর রাত ৪টার দিকে এই বন্দুকযুদ্ধ হয়। নিহত জাহেদ হোসেন ওরফে জাকু টেকনাফ সদরের কায়ুকখালী পাড়ার মৃত জয়নাল আবেদীন সওদাগরের ছেলে ও ফরিদুল আলম টেকনাফ সদরের শিয়ালীঘোনার মৃত সামসুদ্দিনের ছেলে।

তাদের মধ্যে জাহেদ হোসেন জাকু কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের আওয়ামী লীগ এমপি আবদুর রহমান বদির বন্ধু ও তার ‘ডান হাত’ নামেই এলাকায় সমধিক পরিচিত। এই জাকুই টেকনাফ সদরের অবৈধ ঘাট ‘নাইট্যংপাড়া ঘাট’ নিয়ন্ত্রণ করতেন। আর এই ঘাট দিয়েই যত অবৈধ মালামাল বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

এ দিকে নিহত ফরিদুল আলমের পারিবারিক সূত্র দাবি করেছে, ফরিদুল আলম কখনই ইয়াবা ব্যবসায়ী কিংবা সন্ত্রাসী ছিলেন না।

তবে টেকনাফ থানা পুলিশ দু’জনই তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে জানায়। বিজিবি ও র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’র পর টেকনাফের নেচার পার্ক এলাকায় তাদের লাশ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে দু’টি দেশী এলজি, একটি পাইপগান ও একটি কার্তুজ এবং দুই হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

টেকনাফের ৪২ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে, শনিবার রাত ১টার দিকে গোপন সংবাদের মাধ্যমে তারা জানতে পারে, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কপথে কক্সবাজার থেকে সন্ত্রাসীদের একটি দল অস্ত্র ও ইয়াবাসহ মাইক্রোবাসযোগে টেকনাফের উদ্দেশে আসবে। ওই সংবাদের পরিপ্রেেিত বিজিবির ৪২ ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ দমদমিয়া তল্লাশি চৌকির (বিওপি) আওতাধীন জাদিমোড়া এলাকায় ‘টেকনাফ ন্যাচার পার্কে’র সামনে আনুমানিক রাত ২টার দিকে নায়েব সুবেদার মো: ছবির মাহমুদের নেতৃত্বে আটজন বিজিবি সদস্য এবং উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো: আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে ১৬ জন র‌্যাব সদস্যের সমন্বয়ে একটি অস্থায়ী যৌথ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।

বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু জার আল জাহিদ দাবি করেন, ভোর রাত আনুমানিক সোয়া ৪টার দিকে কক্সবাজারের দিক থেকে একটি মাইক্রোবাস (চট্টমেট্রো-চ-৪৭৬০) যৌথ চেকপোস্টের সামনে এলে বিজিবি ও র‌্যাবের অস্থায়ী চেকপোস্ট গাড়িটি থামানোর জন্য সিগন্যাল দেয়। কিন্তু গাড়িটি না থামিয়ে তৎণাৎ ঘুরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে এবং গাড়ির ভেতর থেকে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ অবস্থায় আত্মরার্থে অস্থায়ী চেকপোস্ট সদস্যরা ২৩ রাউন্ড এবং র‌্যাব ৭০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। ‘বন্দুকযুদ্ধ’ শেষে মাইক্রোবাসের ভেতরে ড্রাইভিং সিটে একজন এবং মাইক্রোবাসের পাশে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

তার দাবি, ওই অভিযানকালে আরো চার থেকে পাঁচ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পালিয়ে যেতে সম হয়। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের দ্রুত টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।