ডেমু ট্রেন ও দু’টি কথা

PIC-01বদরুদ্দোজা বুলুঃ
বাংলাদেশের জনগণের অভ্যাস হয়ে গেছে ট্রেন ছাড়ার সময় ট্রেনে ওঠার। আবার অনেকেই দৌঁড়ে গিয়ে ট্রেনে ওঠে পড়ে। এ অভ্যাস বদলাতে অনেক সময়ের প্রয়োজনের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে। বোঝাতে হবে কমিউটার (ডেমু) এ ট্রেনের নিয়ম কানুন। আর এ জন্য ব্যাপক প্রচারিভিযান চালাতে হবে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে।

পার্বতীপুর থেকে ঠাকুরগাঁগামী কমিউটার-২ (ডেমু) নামের ট্রেনে তিন সদস্যের একটি পরিবার (স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান) এ ট্রেনে যাচ্ছে পার্বতীপুর থেকে দিনাজপুর কর্মস্থলে। যথা সময়ে ট্রেনে আসন গ্রহণ করে ট্রেন ছাড়ার অপেক্ষা করছে। ট্রেন ছাড়ার সঠিক সময়ের পূর্ব মুহুর্তে সন্তানের বায়না পুরণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয় ওই ট্রেন যাত্রী পিতাকে। কারন ট্রেন ছাড়ার আগে ট্রেনের চালক দরজা বন্ধ করে দেন। ট্রেনের হুইসেল (বাঁশি) দিয়ে লোকোমোটিভ মাস্টার (রেল ইঞ্জিন ড্রাইভার) ট্রেন চালানো শুরু করে। আর ট্রেনে বসে থাকা ওই মহিলা ট্রেনের জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখছে তার স্বামী ট্রেনে ওঠতে পারলো কি না। স্বামী ট্রেনের সাথে সাথে প্লাটফরমে দিয়ে দৌঁড়াচ্ছে আর ট্রেনের ভেতর থেকে স্ত্রী বলছে দরজা তো খোলা যাচ্ছে না। প্লাটফরমের শেষ দিক পর্যন্ত যখন ট্রেনটি দাড়ালো না, তখন স্বামী স্ত্রীকে মোবাইল ফোন করে বলছে ড্রাইভারকে বল ট্রেন থামাতে অথবা তুমি ট্রেন থেকে নেমে পড়। চলন্ত ট্রেনে ওই মহিলা যাত্রী ড্রাইভারকে বিষয়টি খুলে বলেন। ড্রাইভার এখন কি করবে। ট্রেন দাঁড় করানোর কোন নিয়ম নেই। আর চলন্ত ট্রেনের দরজাও খোলা যাবে না। নাকি স্টেশন এরিয়া পার হয়ে ট্রেন থামিয়ে ড্রাইভারের দরজা দিয়ে ওই মহিলা যাত্রীকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দিতে সাহায্য করবে। সাহায্য করতে গিয়ে যদি ড্রাইভার রেলওয়ের আইনগত বিপদে পড়েন। এর দায়ভার বহন করবে কে ? ড্রাইভার ওই মহিলা ট্রেন যাত্রীকে বলেন ম্যাডাম এটি বাস নয় যে, যাত্রীদের কথামত দাঁড়াবে, এটি রেলওয়ে ট্রেন। নির্দিষ্ট স্টপেজে দাঁড়াবে। ম্যাডম আপনার লোকের সাথে কথা বলুন আপনি কি করবেন। অবশেষে স্বামী তার স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে বলছে সামনের স্টপেজে নেমে যাবে নাকি তুমি দিনাজপুরে যাবে। উত্তরে স্ত্রী বলে, আমি দিনাজপুর রেল স্টেশনে নেমে সেখানেই বসে তোমার জন্য অপেক্ষা করবো। তুমি সড়ক পথে চলে আসো। একটু ভূল একটু সচেনতার অভাবে এ ধরনের বিপদে পড়তে হতে পারে আপনার বেলাও। তাই এট্রেনের নিয়ম সম্পর্কে  এ ট্রেনের ভ্রমণকারী যাত্রীদেরকে জানতে হবে। জানতে হবে বিন টিকিটে রেল ভ্রমণ ও রেল ইঞ্জিনে ওঠে ভ্রমণ করা রেলওয়ের আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।

আর আমাদের দেশের জনগণের এখনও দৌঁড়ে গিয়ে বা চলন্ত ট্রেনে ওঠার অভ্যাস রয়েই গেছে। এ অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য সময়ের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। সেই সাথে এ ডেমু ট্রেনের ভেতরে টয়লেটের কোন ব্যবস্থা নাই। ট্রেন ছাড়ার আগে ট্রেনের ভেতরে মাইকযোগে ঘোষনা করা হয় ট্রেন ছাড়ার। সাথে সাথে ট্রেনের কোচের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। শুরু হয় ট্রেনের যাত্রা। তবে এবছরে দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মাঝে মধ্যে ডেমু ট্রেনের দরজা খোলা রাখতে দেখা গেছে।

এদিকে, অন্যান্য আন্তঃনগর ট্রেনের মত কমিউটার ১ ও ২ নামের (ডেমু) ট্রেনটি চলাচল বন্ধথাকে প্রতি সোমবার। ট্রেনটি পার্বতীপুর-ঠাকুরগাঁও অভিমুখে পার্বতীপুর ছাড়ে (কমিউটার-১) বিকেল ৪টায় ও অপর ডেমু ট্রেনটি পার্বতীপুর-লালমনিরহাট অভিমুখে ছাড়ে (কমিউটার-২) সকাল ৯টায়। ট্রেনটিতে দু’দিকে দু’টি ইঞ্জিন রয়েছে। ইঞ্জিনের কোচে ৯০+৯০ ও মাঝ খানের কোচে ১২০ জন (সর্ব মোট ৩০০জন) যাত্রী ধারন ক্ষমতা। এর মধ্যে ১৪৯ জন ট্রেন যাত্রী ছিটে বসে যেতে পারবেন বলে রেল সূত্র জানান।

উল্লেখ্য, অনেক পত্রপত্রিকায় লেখালেখির পরে পার্বতীপুর রেল স্টেশনের ৪ ও ৫ নম্বর প্লাটফরমটি আংশিক উঁচু করা হয়েছে। তবে লেখালেখির বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন পার্বতীপুর রেলওয়ের এসএসএই ওয়ার্কস (আই ও ডব্লিউ) তহিদুল ইসলাম।