সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের গুলিতে নিহত তিন জেলেসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

coxএম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার : কক্সবাজারের টেকনাফ সেন্টমার্টিন সাগরে টহলরত কোস্টগার্ডের গুলিতে নিহত ৩ জেলে সহ ১৫ জনকে আসামি করে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার সকালে শাহপরীরদ্বীপ স্টেশনের কমান্ডার তারেক বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। নিহতরা ইয়াবা পাচারকারী নয়, তারা সকলে জেলে বলে নিশ্চিত করেছে স্বজনেরা।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে কোস্টগার্ডের সাাথে গোলাগুলির ঘটনায় ৩ জেলে নিহত ও কোস্টগার্ড সদস্যসহ ৭ জন আহত এবং ৬ জন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে কক্সবাজার শহরের মাঝিরঘাট এলাকায় একটি ফিশিং বোট থেকে ৩ জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই সাথে সেখান থেকে আহত অবস্থায় ৫ জনকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত লাশের ময়না তদন্ত শনিবার শেষ করে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গ থেকেই নিহতদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি-তদন্ত) দিদারুল ফেরদৌস জানান, কোস্টগার্ডের মামলায় নিহত ৩ জন, একই সময় চিকিৎসা নিতে আসা গুলিবিদ্ধ একজনসহ আটক ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরো ৭ জনকে।

সূত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে নাফনদীর শাহপরীরদ্বীপ মোহনায় মাদক ব্যবসায়ী ও কোস্টগার্ডের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কোস্টগার্ডের ২ সদস্য ও কোস্টগার্ডের ট্রলার মাঝি। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ একজনসহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এতে আহত কোস্টগার্ডের এমই-১ আবদুস সামাদকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ও এবি মোহাম্মদ ফায়সালকে চট্টগ্রাম নৌবাহিনীর হাসপাতাল এবং কোস্টগার্ডের ট্রলার মাঝি আমান উল্লাহকে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতরা হচ্ছে, টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপের মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আমিন মাঝি, মহেশখালীর গোরকঘাটা এলাকার কালু ও কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদ এলাকার নুর হোসেনের ছেলে জহির আহমদ।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মোঃ সাহেদ উদ্দিন জানান, শনিবার বেলা দেড়টার দিকে জহির আহমদ মৃতদেহ গ্রহণের জন্য তার দ্বিতীয় স্ত্রী সেতারা আকতার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসেন। অপর ২ জনের মৃতদেহ গ্রহণের জন্য স্বজনের এসে লাশ নিয়ে গেছেন।

নিহত জহির আহমদের দ্বিতীয় স্ত্রী সেতারা আকতার জানিয়েছেন, তার এবং তার স্বামীর বাড়ি মিয়ানমারের মংডু শহরের লন্দাখালী এলাকায়। তারা কক্সবাজারের শহরের পাহাড়তলীর ইসলামপুর এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থাকেন। তিনি যতটুকু জেনেছেন তার স্বামী মঙ্গলবার চট্টগ্রাম থেকে ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে যায়। সেখানে তিনি মারা যান।

হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে গুলিবিদ্ধ আবস্থায় চিকিৎসাধীন মাঝি হোসেন জানান, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে কোস্টগার্ড সদস্যদের গুলিতে তারা হতাহত হন।

আহত অবস্থায় উদ্ধার করা ৫ জন হচ্ছে, কক্সবাজারের মহেশখালীর গোরকঘাটার মৃত শের মোহাম্মদের ছেলে সুলতান আহমদ (২৮), কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলীর ইসলামপুর এলাকার জাহেদ হোসেনের ছেলে আবুল কালাম (২৭), শহরের সমিতি পাড়ার মৃত এরশাদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ হোসেন, টেকনাফের সাবরাংয়ের আলী জোহার, কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলীর বাসিন্দা রহমত উল্লাহ। এদেরকে উদ্ধারের পর আটকও করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। গুলিবিদ্ধ মোহাম্মদ হোসেন পুলিশ প্রহরায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

উদ্ধার হওয়া আহতরা দাবী করেন, তারা সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ছিলেন। তারা ইয়াবা পাচারকারী নয়, জেলে মাত্র। কারা তাদের গুলি করেছে তাও তারা দেখতে পাননি বলে জানান আহতরা।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত¦াবধায়ক ডাঃ রতন চৌধুরী জানান, নিহতদের ময়না তদন্তশেষে লাশ ৩টি পুলিশ বুঝে নিয়ে স্বজনদের কাছে শনিবার বিকালে হস্তান্তর করেছে।