প্রচন্ড খরা ও তাপদহে অতিষ্ঠ গাইবান্ধাবাসী

gaibandha-01গাইবান্ধা থেকে মোঃ আঃ খালেক মন্ডল ঃ সীমাহীন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও বৃষ্টিহীন গাইবান্ধায় এখন চলছে প্রচন্ড খরা। সূর্যের প্রখর তাপদহে ফসলের ক্ষেত ফেটে চৌচির। খাল-বিল-নদী-নালার পানি শুকিয়ে সেচ সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এছাড়া প্রচন্ড গরমে জনজীবন চরম দুর্ভোগের কবলে পড়েছে।

বিরূপ এই প্রাকৃতিক পরিবেশে সীমাহীন বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ঘন ঘন লোডশেডিয়ের কারণে গাইবান্ধার জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। সেচ নির্ভর ইরি-বোরো জমির ক্ষেতে সেচ সংকটে জমির ফসল পুড়ে লাল হয়ে গেছে। ফলে এ বছর বিদ্যুৎ নির্ভর ইরি-বোরো উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এছাড়া সীমাহীন বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং সীমাহীন লোডশেডিংয়ের কারণে গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে প্রকাশিত নিয়মিত ৪ টি দৈনিক ও ৫টি সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রকাশনা ব্যাহত হচ্ছে।

শহরের চাইতে বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গ্রামগুলোতে একটানা ৩ থেকে ৯ ঘন্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। কোন কোন দিন পল্লী অঞ্চলে ২৪ ঘন্টায় মাত্র ২ থেকে ৩ ঘন্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না।

গাইবান্ধা জেলা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে পূর্ব ও পশ্চিম দুটি ফিডারে ভাগ করা হয়েছে। এরমধ্যে পশ্চিম ফিডারে সবগুলো স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা, হাসপাতাল, গুরুত্বপূর্ণ অফিস-আদালত, থানা, রেলওয়ে স্টেশন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অবস্থিত হলেও এই ফিডারেই ঘন ঘন লোডশেডিংসহ সব চাইতে বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘিœত হচ্ছে। অথচ বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিরসনে কর্তৃপক্ষের কোন নজর নেই। অভিযোগ রয়েছে গাইবান্ধার বিদ্যুৎ বিভাগের সরকার দলীয় শ্রমিক ইউনিয়নের সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের কর্মকর্তারাও ওই ইউনিয়নের নেতাদের কাছে একেবারে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

এব্যাপারে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গাইবান্ধা বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের কন্ট্রোল রুমের পাওয়ার ট্রান্সফরমারটি দীর্ঘদিনের পুরাতন হওয়ায় এর যন্ত্রাংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ি বিদ্যুতের প্রয়োজনীয় লোড এই ট্রান্সফরমারটি সংরক্ষণ করতে পারছে না। ফলে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। সে কারণে জরুরী ভিত্তিতে গাইবান্ধার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের কন্ট্রোল রুমে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পাওয়ার ট্রান্সফরমার স্থাপন করা অত্যান্ত জরুরী। এছাড়া গ্রিড লাইন থেকে গাইবান্ধার চাহিদা মোতাবেক বিদ্যু সরবরাহ না পাওয়াও বিদ্যু বিভ্রাটের অন্যতম কারণ। গাইবান্ধা বিদ্যুৎ চাহিদা ২২ মেগাওয়াট হলেও গ্রিড লাইন থেকে পিক আওয়ারে ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।