রানা প্লাজা ট্রাজেডি : মানিকগঞ্জের নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম এখনো কাটেনি

Copy of manikgonjআব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ : সাভারের রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে মানিকগঞ্জের নিহত ৮ পরিবারের বাড়িতে এখনো শোকের মাতম থামেনি। ভবন ধ্বসের এক বছর পরে তাদের মনে অবার জেগে ওঠে কষ্টের বিভীষিকা।

চোখের সামনে কয়েকজনের করুন মৃত্যু দৃশ্য দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ছে গার্মেন্টস কর্মী দুই মা- মেয়ে। আমেনা কাজ করতো ৪র্থ তলা এবং তার মেয়ে শাবনুর কাজ করতো ৬ষ্ঠ তলার গার্মেন্টেসে। ঘিওর উপজেলার শোলধারা গ্রামের মো: সাহাবুদ্দিনের স্ত্রী আমেনা ও মেয়ে শাবনুর মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে  এসে এখনো স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেনা।

মানিকগঞ্জের ঘিওর এলাকার মজলিশ মল্লিকের স্ত্রী আলেয়া বেগম (৩০) নিহত হয়েছেন।  তিন বছরের একমাত্র ছেলে এখনো খুঁজে বেড়ায় তার মাকে।

জীবিত অবস্থায় উদ্বার করা হয়েছে ঐ এলাকার ইশরাত আলীর নাতনী মালেকাকে (৩০)। সে সি এইম এইচ এ চিকিৎসাধীন থাকার পর পঙ্গুত্বের অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছে।

হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউপির কচুয়া গ্রামের বাচ্চু কাজীর মেয়ে চায়না (২১) আক্তারের মৃত্যু শোক এখনো কেটে উঠতে পারেনি তার পরিবার। বৃদ্ধ পিতা মাতার একমাত্র উপার্জক্ষম মেয়েকে হারিয়ে তাদেও দিন কাটে এখন অনেক কষ্টে।

সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে মানিকগঞ্জের নিহত হয়েছে ৮ , আহত ২২ জন, নিখোঁজ রয়েছে কমপক্ষে ২ জন। এর মধ্যে জেলার জেলার দৌলতপুর উপজেলা থেকে নিখোঁজ রয়েছে ভররা গ্রামের ছইন উদ্দিনের মেয়ে সেলিনা আক্তার পারভিন (২০)। এক বছর যাবৎ সে ঐ প্লাজার চতুর্থ তলায় এক গার্মেন্টেসে অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। কোন রকমে প্রানে বেঁেচ গিয়েছিল ঘিওর সরকারী কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র মিঠুন (১৮)। সে ঘিওর উপজেলার পয়লা পূর্বপাড়া এলাকার আব্দুল আওয়ালের ছেলে। পারিবারিক অভাব অনটনে লেখা পড়া বন্ধ হয়ে যাবে বলে মাত্র দুই মাস আগে সেখানে চাকুরি নেয় কলেজ ছাত্র মিঠুন। সে বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। দূর্ঘটনায় তার একটি পা থেতলে গেলে এখনো খুড়িয়ে চলে সে।

রানা প্লাজায় কর্মরত এক শ্রমিক সিংগাইর উপজেলার ছোট কালিয়াকৈর গ্রামের সকুমুদ্দীনের মেয়ে আল্লাদী (৩০)। আল্লাদীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও এখনো মিলেনি তার স্বামীর সন্ধান।

সাভারের রানা প্লাজা ট্রাজেডির ঘটনায় মারাতœক আহত মানিকগঞ্জের দিঘুলিয়া গ্রামের তিহান মিয়ার চোখে ভেসে উঠছে সেদিনের সেই ঘটনার ভয়াবহতা। কিছুতেই ঘুমাতে পারছেনা সে, দুচোখের পাতা এক করলেই ভয়ে চিৎকার করে উঠছে। দেয়াল চাপায় তার মুখের একটা অংশ থেতলে গেছে। সন্তোশ মিয়ার পুত্র তিহান রানা প্লাজার ৮ম তলায় নিউ ওয়েভ গার্মেন্টেসে সুইয়িং সেকশনে হেলপার পদে চাকুরী করতো।

একই ঘটনায় বাকরুদ্ধ হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছে বরাইদ গ্রামের আঃ রশিদের পুত্র রানা। সৎ মায়ের সংসারে অবহেলিত রানা বেচে থাকার তাগিদে চাকুরী নিয়েছিল নিউ ওয়েভ গার্মেন্টেসে। দেয়াল চাপা পড়ে রানার ডান হাতে রড ঢুকে যায় এবং দুই পা দেয়াল চাপা অবস্থায় আটকে থাকে ৬ ঘন্টা।

একই গার্মেন্টেসে ৬ষ্ঠ তলায় ৬ মাস আগে চাকুরীতে যোদ দেয় সাটুরিয়ার জালশুকা গ্রামের শিল্পী বেগম। স্বামী পরিত্যক্তা শিল্পী জানায়, ঘটনার সময় একই ফ্লোরে কাজ করছিল তার সাবেক স্বামী জাহাঙ্গীর। সাড়ে তিন ঘন্টা পর উদ্ধার করা হয়েছিল দেয়াল চাপা শিল্পীকে ।