পোশাকশিল্প নিয়ে অসত্য প্রচারণা চালালে ব্যবস্থা নেবে সরকার

savar-1bg20130424024044_68062বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : বাংলাদেশের পোশাকশিল্প নিয়ে অসত্য প্রচারণা চালালে তদন্ত সাপেক্ষে সরকার আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। সাভারের রানা প্লাজার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার এক বছর উপলক্ষে আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর প্রতিনিধি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের ২৪ এপ্রিল এই ভবন ধসের ঘটনায় ১১৩৫ জন নিহত হয়, যাদের প্রায় সবাই ওই ভবনে অবস্থিত ৫টি পোশাক কারখানার শ্রমিক।

ভবন ধসের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের নিহত হওয়ার এ ঘটনা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোতেও বেশ আলোচনা হয়।

দলমত নির্বিশেষে সবাইকে গার্মেন্টস শিল্পের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শাকিল ঘটনার পর পোশাক শিল্পের জন্য সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং আহত ও নিহতদের জন্য বিভিন্ন অর্থ সহায়তার তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে নিহত ও আহত শ্রমিকদের দেওয়া আর্থিক অনুদানের চিত্র তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বিজিএমইএর পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং শ্রমিকদের অর্থ সহায়তার বিষয়টিও সংগঠনের পক্ষ থেকে বর্ণনা দেওয়া হয়।

বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, চার-পাঁচ দিন আগে তথ্য পেয়েছি, দেশের কিছু এনজিও ও শ্রমিক সংগঠন জেনেভা, জার্মানিসহ ইউরোপে দেশের পোশাকশিল্প নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালাবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক উল্টো করে গায়ে দিয়ে তারা বলবে, ডোন্ট বাই বাংলাদেশ গার্মেন্ট।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বলেন, যাঁরা নিজেদের স্বার্থে রপ্তানিমুখী এই শিল্পের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, একবারও কি তাঁরা ভেবে দেখেছেন কারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে? রপ্তানি আয় যদি কমে যায়, তাহলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মালিকেরা তার কারখানা বন্ধ করে দেবে। লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে।

এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুল হক শাকিল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে করা হয়। কারা কত অর্থ দেয়, তা যেমন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ঠিক তেমনি কাকে কত অর্থ দেওয়া হচ্ছে, তা-ও প্রকাশ করা হচ্ছে।

সাভারের রানা প্লাজায় ভবনধসের পর উদ্ধারকাজ ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে সহায়তা, চিকিত্সাসহ যাবতীয় কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বলেন, গার্মেন্টস শিল্প আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটিকে রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। আগামীতে এমন ঘটনা যেন না ঘটে, কোনো কিশোর বা কিশোরীর যেন অকালমৃত্যু না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, রানা প্লাজার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী, খুব দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হবে। এ ঘটনায় সরকারের যে সহায়তা, তা কোনো আর্থিক নিক্তি দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না। এটা মানুষ হিসেবে শেখ হাসিনার মমত্ববোধের পরিচয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার দায়িত্ববোধের পরিচয়।

রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে দেওয়া ২২ কোটি ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭২০ টাকার খাতওয়ারি বিবরণ সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।