দিনাজপুরে বৃষ্টির অভাবে বোরো চাষীদের মাথায় হাত : উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা

dinajpur pic copyমো.নুরুন্নবী বাবু দিনাজপুর প্রতিনিধি  :
চলতি বোরো মৌসুমে বৃষ্টির অভাবে অসহনীয় তাপদাহের কারনে ভু-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে। কৃষকদের জমিতে ৮-১০ ফুট গর্ত করে তাতে সেচপাম্প বসিয়ে পানি উত্তোলনের চেষ্টা করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও এই চেষ্টাও কাজে আসছে না।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৭৯ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের জন্য কৃষকেরা উদ্যোগ নেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৫৬ হেক্টর উচ্চ ফলনশীল ও ১৬ হাজার ৮২৩ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড জাতের ধান। আর উৎপাদন পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৮২ হাজার ৪০ মে.টন চাল।

ধান উৎপাদনে দেশের প্রথম সারির জেলা দিনাজপুরে বৈশাখের শুরুতে ভরা বোরো মৌসুমে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বোরো চাষ হুমকির মুখে পড়েছে। সেচ সুবিধা দিতে কৃষকেরা নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। গত ২ মাস ধরে কোন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ভূগর্ভস্ত পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এর ফলে কৃষকেরা তাদের গভীর ও অ-গভীর নলকূপ স্থাপনে কাঙ্খিত পানি পেতে মাটিতে গর্ত করছেন। কিন্তু তারপরও কোন ফল পাচ্ছেন না।

দিনাজপুরের সদর উপজেলার বোলতৈড় গ্রামের সেলিম রেজা জানান, নতুন নতুন সেচযন্ত্র বসাতে গিয়ে ১০ বছর আগে যে পরিমাণ গভীরতায় পানি পাওয়া যেত তা এখন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কোথাও ১২০ ফুট আবারও কোথাও ৯০-১০০ ফুট পর্যন্ত মাটির গভীরে পাইপ বসিয়ে পানি তুলতে হচ্ছে। যা এক যুগ আগে ৬৫-৮০ ফুটের বেশি ছিল না।

সদর উপজেলার দক্ষিণনগর গ্রামের কৃষক বেনু রাম সরকার জানান, এ বছর তিনি সেচযন্ত্র বসাতে গিয়ে গত বছরের চেয়ে ১৫ ফুট বেশি গভীরতায় পানির পাইপ স্থাপন করেছেন। তারপরও আগে সেচযন্ত্রে যে পরিমাণ পানি পেয়েছেন বর্তমানে তা ৩৫-৪০ শতাংশে কমে এসেছে।

কৃষকরা জানান, আগের তুলনায় সেচযন্ত্রে পানি কম ওঠায় তাদের জ্বালানি খরচ বেড়েছে। পূর্বে প্রতি মৌসুমে ১ বিঘা জমিতে ১৫-১৮ লিটার ডিজেল ব্যয় হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২২-৩০ লিটারে দাড়িয়েছে। এছাড়া পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় জমিতে সেচ দিতে গিয়ে আগের তুলনায় সময়ও বেশি লাগছে।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভরা বোরো মৌসুমে ভু-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষক ৭-১০ ফুট কোন কোন ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি গর্ত করে সেচযন্ত্র (শ্যালোমেশিন) নিচে বসিয়ে পানি তোলার প্রাণান্তর চেষ্টা করছেন।

বিরল উপজেলার বাজনাহার এলাকার কৃষক আফজাল হোসেন জানান, আশপাশের মাঠের বেশিরভাগ শ্যালোমেশিন পানির স্তর সমস্যার কারণে মাটি গর্ত করে শ্যালোমেশিন বসিয়ে পানি সেচ দিচ্ছেন।##