‘রক্তপাতের আশঙ্কায় ৭ই মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেননি বঙ্গবন্ধু’

20245_htimamaবিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : রক্তপাতের আশঙ্কায় ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা করেননি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। তিনি বলেন, যখন ভাষণ চলছিল তখন পাক আর্মির হেলিকপ্টার সমাবেশের উপর দিয়ে টল দিচ্ছিল। সমাবেশের চারপাশে ছিল পাক আর্মিরা। তাই এত লোকের সমাবেশে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে রক্তপাতের আশঙ্কা ছিল। তাই তিনি ৭ই মার্চের ভাষনে স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। কারন তিনি ( বঙ্গবন্ধু) মনে করতেন আমরা নির্বাচনে সংখ্যাগড়িষ্ঠতা লাভ করেছি তাই আমাদের দাবি পুরন করা হবে। পরে পাকিস্তানিরা ২৫শে মার্চ আমাদের উপর হামলা করলে বঙ্গবন্ধু ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের উদ্যোগে ‘ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এইচটি ইমাম বলেন, ১০শে এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রেসিডেন্ট ও তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করে বাংলাদেশে অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। এ সরকারের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির বিষয়ে ভারতের সহযোগিতায় সমগ্র বিশ্বের সমর্থন পাওয়ার জন্য ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা সর্ম্পকে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের ভেতরে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে শাখাটি রয়েছে তা ঠিক হয়নি, তবে শাখাটির স্থান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা অর্থ মন্ত্রনলায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, যেহেতু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়েছে সেহেতু শেখ মুজিবুর রহমানই ছিলেন বাংলাদেশে একমাত্র নেতা ও বৈধ মুখপাত্র। তাই এ বৈধ নেতাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার একমাত্র নায়ক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, সুদুর লন্ডনে বসে বাংলাদেশের ইতিহাস নতুনভাবে  বিকৃত করার অপপ্রয়াস করা হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জনসাধারণ কখনো মেনে নেবে না। প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর এসব অসত্য ও বানোয়াট ইতিহাস বর্জন করে সঠিক ইতিহাস চর্চা করা উচিত। প্রভাষক এস. এম. তানভীর আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খোদেজা খাতুন।