রাজশাহীতে সাংবাদিকদের ওপর ইন্টার্নি চিকিৎসকদের হামলা, আহত ১০

20189_f2বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চিকিৎসক সমাজ। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তাদের যেন কোন দায়বদ্ধতা নেই। কোন বিচার নেই। সেবার মহান দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। কথায় কথায় ধর্মঘটে আর তাদের অন্যায্য দাবির মুখে বারবার পিছু হটেছে কর্তৃপক্ষ। রোববার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর অভিভাবকরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুললে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা তাদের মারপিট করে। এসময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা বাঁশের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে ১০ সাংবাদিককে আহত করে। এদের মধ্যে যমুনা টিভির ক্যামেরাপারসন রাসেল মাহমুদ ঢাকায় এ্যাপোলো হাসপাতালে আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে হামলাকারী ইন্টার্নি চিকিৎসরা উল্টো কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এ ঘটনায় রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিনকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া সাংবাদিকদের হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগে বোয়ালিয়া থানার ওসিকে বাধ্যতামূলক ছুটি দেয়া হয়েছে। এর আগে (৩০শে মার্চ) ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগে কারাবন্দি চিকিৎসক স্বাচিপ নেতা ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলকে ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে সাধারণ রোগীদের জিম্মি করে মুক্ত করে আনেন রাজশাহীর চিকিৎসকরা। সে সময় চিকিৎসকদের আলটিমেটামের মুখে আদালতের জামিন পান ওই স্বাচিপ নেতা। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ)-এর জেলা শাখার সভাপতি এস আর তরফদার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ডা. শিমুলকে মুক্তির ব্যাপারে আশ্বস্ত করায় রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি স্থগিত ছিল। তবে দুপুরে ডা. শিমুলের জামিন হওয়ায় কোন কর্মসূচিতে না গিয়ে কর্মসূচি পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।’ এদিকে গত শনিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রদর্শনে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম চিকিৎসকদের সেবার ব্রত নিয়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কথায় কথায় ধর্মঘট ডাকবেন না। ধর্মঘট চলাকালে একজন রোগী বিনা চিকিৎসায় মারা গেলে তার দায় নেবে কে? সত্যিকার অর্থে যদি আপনি একজন চিকিৎসক হন, তাহলে ধর্মঘট করবেন না। আপনার পেশা আপনাকে এ ধরনের কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেয়নি। তবে চিকিৎসকরা সে কথায় কর্ণপাত করেননি। ২৪ ঘণ্টা না যেতেই রোববার রাত ১০টার দিকে তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে রোগীর অভিভাবকদের মারপিট ও বেশ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর-তা-ব চালায়। খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে এলে সাংবাদিকদের ওপর বাঁশের লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। পরে আবার সকল ইন্টার্নি চিকিৎসকরা একজোট হয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। অন্যদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ। এসময় আগামীকাল (আজ) আবারও দোষীদের শাস্তির দাবিতে নগরীর সাহেববাজারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। আহত সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে এক রোগীর অভিভাবকের সঙ্গে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের বাক্‌বিত-ার এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় ইন্টার্নি চিকিৎসকরা বেশ কয়েকটি কক্ষও ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। এসময় সাংবাদিকেরা হাসপাতালের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেয়া হয়। পরে সাংবাদিকেরা ভেতরে ঢুকে ছবি তোলার চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলা চালায় চিকিৎসকরা। এসময় সকল ইন্টার্নি চিকিৎসকরা এক জোট হয়ে বাঁশের লাঠি ও রড দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের ক্যামেরাপারসন আবু রায়হান, যমুনা টেলিভিশনের রাসেল মাহমুদ, দৈনিক কালের কণ্ঠের ফটোসাংবাদিক সালাহউদ্দিন, সময় টিভির আবদুস সালামসহ ১০ সাংবাদিক আহত হন। হামলার সময় তাদের কাছে থাকা ৪-৫টি ক্যামেরা  কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। রামেক হাসপাতাল বক্স পুলিশের উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, সাংবাদিকরা কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই পেছন থেকে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা একযোগে হামলা করে। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও তাদের ওপরও চড়াও হয় তারা। পরে সাংবাদিকরা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। ঘটনার পরে রামেক হাসপাতালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন আয়েনসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সায়েদুর রহমান ভূঁইয়ার সামনেই সাংবাদিকদের বেধড়ক মারপিট করা হলেও তিনি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন বলে সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন। হামলার শিকার চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের সাংবাদিক আবরার সাঈদ জানান, তাকে ইন্টার্নিরা আটকে রাখে এবং নারী ডাক্তাররা মারপিট করেছে। পুরুষদের ঘাড়ের উপর উঠে কিল-ঘুষি মেরেছে। অশ্লীল গালাগাল দিয়েছে। অথচ এরাই ক’দিন পরে সম্মানী ডাক্তার হবে। আহত সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা মার খেয়েছি, কারণ আমরা রামেকে যুদ্ধ করতে যাইনি, গিয়েছিলাম সংবাদ সংগ্রহ করতে। অসহায় রোগীর অভিভাবকেদের ওপর চিকিৎসকদের নির্লজ্জ হামলার খবর শুনে। এতে আমি লজ্জিত নই। কিন্তু মানবসেবার জন্য যারা জনগণের টাকায় সেখানে পড়ছে তারা আজ যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো তাতে আমরা লজ্জিত। যে হাত প্রাণ কেড়ে নিতে চায়, সেই হাত কি পারবে কোন প্রাণ বাঁচাতে? এদিকে, গতকাল দুপুরে রামেক হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে হাসপাতাল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিনকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, এ ঘটনা দুঃখজনক। এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাৎক্ষণিকভাবে মিটিংয়ের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়া গেলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে গ্রহণ করা হবে। রামেক হাসপাতালের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা জানান, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক। এ ঘটনা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান মানবজমিনকে জানান, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি রামেক কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ওই তদন্ত রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়া মাত্র দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইন্টার্নি চিকিৎসকদের বক্তব্য: ১৩নং ওয়ার্ডে এক রোগীকে ভর্তি করিয়ে তৎক্ষণাৎ ট্রিটমেন্টের দাবি করে রোগীর সহকারী (অভিভাবক)। এসময় ইন্টার্নি ডাক্তাররা অন্য রোগী নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাকে একটু অপেক্ষা করতে বলেন। এতে তারা ক্ষেপে গিয়ে ইন্টার্নি ডা. সুব্রত ম-লকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পরে ডাক্তাররা এই অশোভন আচরণের প্রতিবাদ করলে সাংবাদিকরা উপস্থিত হয়ে ছবি তুলতে শুরু করে। তাদের নিষেধ করা হলে একজন সাংবাদিক ক্ষেপে গিয়ে তাড়া করে আসে। ফলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় পুলিশ এসে সাংবাদিকদের প্রোটেকশন দেয় এবং রাজপাড়া থানা ওসি ডাক্তারদের আচার-ব্যবহারের শিক্ষা দিতে থাকেন।
এদিকে রোগীর লোকদের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে ও ৪ দফা দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকগণ ধর্মঘট পালন করছেন।
দাবিগুলো- রোগীর লোকদের তার কৃতকর্মের দায় স্বীকার করে ডাক্তার সমাজের প্রতি মাফ চাইতে হবে, রাজপাড়া থানার ওসিকে বরখাস্ত করতে হবে, বাংলাদেশের সকল ডাক্তারকে (ইন্টার্নসহ) রোগীর সহকারীরা স্যার/ম্যাডাম বলে সম্বোধন করবে এবং হাসপাতাল পরিচালকের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোন সাংবাদিক হাসপাতালের কোন ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে পারবে না। এই দাবিগুলো মেনে নোটিশ আকারে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেইন গেট, প্যাথলজি গেট ও হোস্টেল গেটে ঝুলিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় তাদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
অঘোষিত কর্মসূচি চলাকালে ৩ রোগীর মৃত্যু: ঘটনার পর রোববার রাত থেকে হাসপাতালে অঘোষিত কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ফলে চরম দুর্ভাগে পড়েছেন শ’ শ’ড় রোগী। এমনকি এই কর্মবিরতিতে রোববার রাত থেকে হাসপাতালের ১০, ২৪ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে তিনজন রোগী মারা গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: গতকাল দুপুর ১২ টার দিকে ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন রাজশাহী নগরীর জিরোপয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি পরে একই স্থানে এসে সমাবেশে রূপ নেয়। সমাবেশে থেকে হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয় এবং ৩ দফা দাবি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
দাবিগুলো হলো- হামলায় জড়িত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের গ্রেপ্তার, হামলার সময় নীরব দর্শক হয়ে থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা এবং সাংবাদিকদের ভেঙে ফেলা ক্যামেরার ব্যবস্থা ও হামলার শিকার সাংবাদিকদের চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন। স্থানীয় সোনালী সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ারুল আলম ফটিক, রাজশাহী টেলিভিশন ইউনিটির সভাপতি শ.ম. সাজু, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মামুনুর রশিদ, ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী সংগ্রাম রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, রাবি’র গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি তানভীর আহমদ। এ সময় বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েই চলেছে। এই হামলায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করায় অন্যরা উৎসাহিত হচ্ছে। তাই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানানো হয়। দাবি আদায়ে আজ মঙ্গলবার নওগাঁ, নাটোর, রাজশাহী ও চাঁপাই নবাবগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একই দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) উদ্যোগে দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে  মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
পাঁচ রোগীর মৃত্যু!
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের কর্মবিরতির মুখে রোববার রাত থেকে পাঁচ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত রোগী। এ কর্মবিরতিতে রোববার রাত ১০টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালের ১০, ২৪ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চার জন রোগী মারা যান। এছাড়া এদিকে অক্সিজেন দিতে না পাড়ায় বিকাল ৪টায় শহিদুল ইসলাম (৩৫) নামে এক রোগী মারা যান। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, শ্বাসকষ্ট ও বুকের ব্যথা অনুভব করলে শহিদুল ইসলামকে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সে সময় তিনি শ্বাস নিতে পারছিলেন না। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, অক্সিজেনের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এরপর তাদের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর নার্স বলেন, অক্সিজেন দিতে হবে, স্যারকে (কর্তব্যরত চিকিৎসক) ডাক দেন। কিন্তু ওই চিকিৎসকের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। অনেক ডাকাডাকি করলেও দরজা খোলা হয়নি। এসব করতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় পেরিয়ে যায়। তিনি (নাহিদুল) ফিরে এসে দেখেন তার পিতা আর নেই। রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, সময় মতো অক্সিজেন ও চিকিৎসা  পেলে শহিদুল ইসলাম বেঁচে যেতেন। হাসপাতাল বক্স পুলিশের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, রোববার রাত থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চার জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বিকালে আরও একজন রোগী মারা যান। তবে ওই রোগী অক্সিজেনের অভাবে না অন্য কোন কারণে মারা গেছেন তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কেননা, ২৬নং ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের সরবরাহ আছে।