নতুন অর্গাানোগ্রাম বাতিলের দাবীতে খনি শ্রমিককদের বিক্ষোভ সমাবেশ

Parbatipur Photoমোঃ মাহমুদুল হক মানিক, বিরামপুর প্রতিনিধি:
গত রোববার সকালে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির নতুন অর্গনোগ্রাম বাতিল করে পুরাতন অর্গনোগ্রাম বহালের দাবীতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে খনি শ্রমিকরা।

সম্প্রতি খনির সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষ নতুন একটি অর্গানোগ্রাম (জনবল কাঠামো) প্রস্তুত সহ তা পাশ করায়  চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের অধীনে কর্মরত ১হাজার ৩৫০  খনি শ্রমিকরা ছাটাইয়ের আশংকায় আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করেছে ।

খনি কর্তৃপক্ষ বলছে নতুন অর্গানোগ্রাম বিসিএসসিএল’র নিজস্ব অর্গানোগ্রাম এর সাথে চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্টান এক্সএমসির অধীনে কর্তরত খনি শ্রমিকদের কোন সর্ম্পক নেই।

গত রোববার বেলা ১১ টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা খনির উপরিভাগে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। এ সময় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ৪৮ ঘন্টা সময় বেধে দিয়ে নতুন অর্গানোগ্রাম বাতিল করতে কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত আল্টিমেটাম দেয় । এর পর একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শ্রমিকরা বলেন, খনি প্রতিষ্ঠাকালে প্রস্তাবিত পিপিতে যে অর্গানোগ্রাম তৈরী করা হয় তাতে জনবল কাঠামো ছিল ২হাজার ৬৭৪ জন। সেখান থেকে অনেককে ছাটাই করে ১হাজার ৩৫০জন জনবল কাঠামো নিয়ে কয়লা উৎপাদন শুরু হয়।

সে অবস্থায় বর্তমানে প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি না করে গত ২৩ জানুয়ারী খনি কর্তৃপক্ষ ৭ সদস্যের একটি কমিটির মাধ্যমে মাত্র ৭৩৮ জনের কাঠামো নিয়ে একটি নতুন অর্গানোগ্রাম উপস্থাপন করেছেন। যার কার্যকারিতা শুরু হলে আরও অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। অনতি বিলম্বে নতুন অর্গানোগ্রাম বাতিল করে পূর্বের অর্গানোগ্রাম মোতাবেক খনি কার্যক্রম না চললে উৎপাদনসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেবেন বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আঃ ওয়াজেদ ও সাধারন সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর প্রফিট বোনাসে নিজের লভ্যাংশ বৃদ্ধি করতেই অসাধু কিছু কর্মকর্তারা শ্রমিক সংকোচনের ফরমুলা  মাথায় নিয়ে নতুন অর্গানোগ্রাম করেছেন।

এ ব্যাপারে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনং কোম্পানী লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলীমুজ্জামান মুঠো ফোনে নিউএজ কে বলেন, নতুন করে যে অর্গানোগ্রাম তৈরি করা হয়েছে তা বিসিএমসিএল এর নিজস্ব অর্গানোগ্রাম। এর সাথে চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্টান এক্সএমসির শ্রমিকদের কোন সর্ম্পক নেই। তারা এ নিয়ে কথা বলবে কেন? খনি শ্রমিকরাতো বিসিএমসিএল’র কর্মচারী না।

তারা আন্দোল করে ,আল্টিমেটাম দিয়ে খনির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করলে কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারী প্রতিষ্টানকে ধরবে। কেননা শ্রমিকদের বিষয়টি তাদের হাতে। তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, বাইরের কারো ইন্ধনে শ্রমিকরা খনির স্বাভবিক কার্যক্রম ও উৎপাদন ব্যাহত করতে তাদের সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন বিষয় নিয়ে অযৌক্তিকভাবে আন্দোলনে যাচ্ছে।