দিনাজপুরে ভূগর্ভস্থের পানি নীচে নামায় বোরো আবাদ নিয়ে শংকা

dinajpur-14-150x150নুরুন্নবী বাবু দিনাজপুর প্রতিনিধি :
ইরিবোরোর মৌসুমে প্রচন্ড তাপদাহের কারনে ভু-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। ৮-১০ ফুট গর্ত করে এবং সেচপাম্প ব্যবহার করেও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পাচ্ছেন না কৃষকরা। এতে করে বোরো উৎপাদন হুমকীর মুখে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্র মতে, দিনাজপুর জেলায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৭৯ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৫৬ হেক্টর উফশী (উচ্চ ফলনশীল) ও ১৬ হাজার ৮২৩ হেক্টর জমি হাইব্রীড ধান। আর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৮২ হাজার ৪০ মে.টন চাল।

খাদ্যশস্য ভান্ডার খ্যাত দিনাজপুরে বৈশাখের শুরুতে ভরা বোরো মৌসুমে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বোরো চাষি কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। বছর বছর পানির স্তর নিচে নামার ফলে কৃষকরা তাদের গভীর ও অ-গভীর নলকূপ স্থাপনে কাঙ্খিত পানি পেতে মাটিতে গর্ত করছেন। কিন্তু তারপরও কোন ফল পাচ্ছেন না।

দিনাজপুরের সদর উপজেলার বোলতৈড় গ্রামের সেলিম রেজা জানান, নতুন নতুন সেচযন্ত্র বসাতে গিয়ে ১০ বছর আগে যে পরিমাণ গভীরতায় পানি মিলত এখন তা মিলছে না। ফলে কোথাও ১২০ ফুট আবারও কোথাও ৯০-১০০ ফুট পর্যন্ত মাটির গভীরে পাইপ বসিয়ে পানি তুলতে হচ্ছে। যা ২০-২৫ বছর আগে ৬৫-৮০ ফুটের বেশি ছিল না।

সদর উপজেলার দক্ষিণনগর গ্রামের কৃষক বেনু রাম সরকার জানান, এ বছর তিনি সেচযন্ত্র বসাতে গিয়ে গত বছরের চেয়ে ১৫ ফুট বেশি গভীরতায় পানির পাইপ স্থাপন করেছেন। তারপরও আগে সেচযন্ত্রে যে পরিমাণ পানি পেয়েছেন বর্তমানে তা ৩৫-৪০ শতাংশে কমে এসেছে।

কৃষকরা জানান, আগের তুলনায় সেচযন্ত্রে পানি কম ওঠায় তাদের জ্বালানি খরচ বেড়েছে। পূর্বে প্রতি মৌসুমে ১ বিঘা জমিতে ১৫-১৮ লিটার জ্বালানি তেল লাগলেও বর্তমান সময়ে তা ২২-২৭ লিটারে গড়িয়েছে। এছাড়া পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় জমিতে সেচ দিতে গিয়ে আগের তুলনায় সময়ও বেশি লাগছে।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভরা বোরো মৌসুমে ভু-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষক ৭-১০ ফুট কোন কোন ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি গর্ত করে সেচযন্ত্র (শ্যালোমেশিন) নিচে বসিয়ে পানি তোলার প্রাণান্তর চেষ্টা করছেন।

বিরল উপজেলার বাজনাহার এলাকার কৃষক আফজাল হোসেন জানান, আশপাশের মাঠের বেশিরভাগ শ্যালোমেশিন পানির স্তর সমস্যার কারণে মাটি গর্ত করে শ্যালোমেশিন বসিয়ে পানি সেচ দিচ্ছেন।##