‘রানা প্লাজা ধসে জড়িতরা শাস্তি না পেলে সব অর্জন ব্যর্থ হবে’

20067_photoবিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : রানা প্লাজার দুর্ঘটনার জড়িতদের শাস্তি না দিলে এক বছরে গার্মেন্ট খাতে যতো অগ্রগতি হয়েছে তার সবটুকু ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। এ রকম ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনলে এ ধরণের ঘটনা আরও বেড়ে যাবে। আজ টিআইবির সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে টিআইবির চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ড. শরিফ আহমেদ চৌধুরী ও নাজমুল হুদা মিনা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল রানা প্লাজা ট্রাজেডির ঘটনার পর গার্মেন্টস সেক্টরের নজিরবিহীন নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের বহুমুখী অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা থেকে উত্তরনের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার, সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, বিজিএমইএ, কারখানার মালিক এবং ক্রেতাপক্ষ গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই অগ্রগতি অব্যাহত রাখার স্বার্থে এবং বহু অংশীজনের সুশাসন বিষয়ক বিভিন্ন উদ্যোগের সমন্বয় এবং তাদের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক কার্যকরতা নিশ্চিতকল্পে টিআইবি গার্মেন্টস সেক্টরের জন্য একটি ‘তৈরি পোশাকখাত সুশাসন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের প্রস্তাব করে। একইসঙ্গে টিআইবি সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল এবং নৈতিকতার অনুশীলনের আহ্বান জানিয়ে এই অভিমত ব্যক্ত করে যে, এই খাতে সুশাসনের ঘাটতি ও দুর্নীতি অব্যাহত থাকলে শ্রমিকরা নিরাপত্তা এবং অধিকার বঞ্চনার শিকার হতে থাকবে।
সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বছরের ৩১শে অক্টোবর টিআইবি’র এক গবেষণায় চিহ্নিত ৬৩ ধরনের সুশাসনের সূচকের মধ্যে ৫৪টি সূচক সংশ্লিষ্ট ১০২টি উদ্যোগ গ্রহণ করে এই শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনেরা। এই ১০২টি উদ্যোগের মধ্যে ৩১ শতাংশ উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে, ৬০ শতাংশ উদ্যোগ বিভিন্ন পর্যায়ের অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং ৯ শতাংশ উদ্যোগ এখনো ফলপ্রসূ হয়নি।
সুলতানা কামাল বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থের বিষয়ে যথাযথ সমন্বয় জরুরি। শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদী ও মৌলিক স্বার্থের বিষয়ে সরকার ও মালিক পক্ষের আরও বেশি ভূমিকা প্রত্যাশা করি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গৃহীত ইতিবাচক উদ্যোগসমূহ সুশাসনের প্রতিকারে প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করলেও, টেকসই পরিবর্তনের জন্য তা অপর্যাপ্ত। সরকারের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও প্রস্তাবিত গার্মেন্টস পল্লীতে কলকারখানাগুলো সরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। অনেকগুলো দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা হতাশার জন্ম দিয়েছে। সরকার এবং ক্রেতাপক্ষ এবং তাদের ফোরাম কর্তৃক কারখানা পরিদর্শনে গতি খুবই শ্লথ এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত মানের স্বচ্ছতা ছিল না। ক্রেতার প্রতিনিধিত্বকারী কিছু পরিদর্শকদের ক্ষেত্রে স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঝুঁিক রয়ে গেছে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত যাচাই বাছাই ব্যতিরেকে ও সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা ছাড়াই নন-কমপ্লাইন্সের অত্যুৎসাহী অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনেক অর্ডার প্রত্যাহার বা বাতিল হয়ে গেছে, কমপক্ষে ৫০টি কারখানা বন্ধ হওয়ায় প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক চাকুরিচ্যুত হয়েছেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে এবং যদি ক্রেতাপক্ষ দায়িত্বশীল ও নৈতিকতা সম্পন্ন ব্যবসা পরিচালনায় ব্যর্থ হন, তাহলে আরো হাজার হাজার শ্রমিক চাকুরি হারাবে সেই কারণের জন্য, যার জন্য তারা মোটেই দায়ী  নন।