বিরামপুরের কাটলা বাজার বিজিবি ক্যাম্পসহ ফসলি জমি হুমকির মুখে

dinajpur-14-150x150নুরুন্নবী বাবু দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার যমুনা শাখা নদীতে নীতিমালা উপেক্ষাকরে দীর্ঘ দিনধরে একটি স্বার্থনেষী মহল বালু উত্তোলনের ফলে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাটলা বাজার ,ব্রিজ, বিজিবি ক্যাম্প ও আবাদী জমি এবং কয়েকটি গ্রাম হুমকির মুখ। বালুউত্তোলন ও বন্ধের জন্য এলাকার মানুষ গণ স্বাক্ষর করে জেলা প্রশাসক সহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, হাকিমপুর(হিলি) উপজেলার নয়ানগর গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে মিজানুর রহমান নীতিমালা অপেক্ষা করে  বালু উত্তলোন দর্ঘীদিন ধরে বালু উত্তোলন করে আসছে। ফলে দিনাজপুর জেলার উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর, দামোদর পুর ও চৌঘুরীয়া  গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার এবং তিনটি গ্রামের কয়েক শ’একইর আবাদী জমি, কাটলা বাজার ও ৪০ বিজিবির অন্তর্ভূক্ত ঘাসুড়িয়া বিজিবি ক্যাম্প নদী ভাঙ্গনের কারণে হুমকির মূখে পড়েছে।

৬নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য যুদ্ধহত মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন (দিলু) জানান, এলাকাবাসীর সকল দাবি উপেক্ষা করে মিজানুর বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখলে এলাকাবাসী গনস্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগ ৩০ মার্চ দিনাজপুর জেলা প্রশাসক, সংসদ সদস্য, বিরামপুর উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যান সহ বিভিন্ন প্রশাসন দপ্তরে লিখিত  ভাবে অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে জানা যায়, কাটলাবাজার সংলগ্ন ব্রীজ এর দুই পাশ্বে ১০০ গজের মধ্যে এবং সরকারী স্থাপনা ঘাসুড়িয়া বিজিবি ক্যাম্প এর ৬০ গজের মধ্যে ফসলী জমি সংলগ্ন স্থানে  ইঞ্জিন চালিত মেশিন দ্বারা ২৫ থেকে ৩০ ফিট গভীর গর্ত করে বালু উত্তোলন করছে জনৈক  মিজানুর রহমান।

এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস,এম মনিরুজ্জামান আল্ মাসউদ জানান,অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে বালু উত্তোলনকারীর লীজ বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের বরাবরে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার গত ০২ এপ্রিল কাটলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার তাহসিনকে সঙ্গে নিয়ে ঘনাস্থলে তদন্ত করেছন।

সচেতন মহল জানান, অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে স্বার্থনেষী বালু ব্যবসায়ী লাভবান হলেও অচিরেই ২০ লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব আয়ের উৎস কাটলা বাজার, ৮২ লক্ষ টাকায় নির্মিত ব্রীজসহ কয়েক শ’একইর ফসলি জমি, কয়েকটি গ্রাম ও সরকারী বিজিবি ক্যাম্প নদীগর্ভে বিলিন হয়ে জাওয়ার আশংখা রয়েছে।

এলাকাবাসী দাবী সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে সরকারী সম্পদ, এলাকাবাসীর ফসলি জমি ও জনবসতি গ্রাম রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে সরকারী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।#