নদী না খাল ? করতোয়ায় নেই কোন পানি কিংবা স্রোতধারা

krotoya riverবখতিয়ার রহমান, পীরগঞ্জ ( রংপুর) ঃ
এক সময়ের করতোয়া নদীর অববাহিকা এখন কাটছে নীরব-নিস্তবদ্ধতায়। নেই কোন জল কিংবা স্রোতধারা। উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর ও রংপুর জেলার ভৌগলিক এলাকার বুক চিড়ে পীরগঞ্জে প্রবেশ এ করতোয়া । অতীতে করতোয়া নদী প্রবাহের গতি ছিল এ বিশ্বয়কর।  নদীর গভীরতা , স্রোতের তীব্রতা ও জেলেদের মাছ শিকার এর মাধ্যমে নদীর তীরবর্তী সব শ্রেণী পেশার মানুষের ছিল আয়ের  ও আমিষের উৎস্য । এ সব কারনে নদী তীরবর্তী মানুষের  মাঝে ছিল আননেদর উচ্ছাস। অথচ আজ সবই যেন শুধুই স্মৃতি। অনেকের কাছে যেন রুপ গল্প ।

পীরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমঞ্চল ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার পূর্বাংশ দিয়ে প্রবাহিত এ করতোয়া নদী দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বুক চিঁড়ে বগুড়া জেলায় প্রবেশ করেছে । মাইলের পর মাইল দীর্ঘ পথ পেরিয়ে করতোয়া নদী শুধু নিজ জেলা-উপজেলা নয়। নামের সুবাদে করতোয়া দেশের সর্বত্রই পরিচিতি লাভ করেছে।

অথচ সে করতোআ যেন এখন আর নদী নয় । পরিণত হয়েছে আবাদী জমিতে । নদীতে উৎপাদন হচ্ছে তামাক,ভুট্টা, ধান সহ অন্যান্য ফসলাদি।

তাতে করে একদিকে উন্নয়ন ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারিয়ে ঘটছে নানা বিপর্যয়। ফলে সময়ের ব্যবধানে নদী তীরবর্তী জনবসিত আজ নানা মুখি সমস্যায় জর্জরিত। মুখ থুবরে পড়েছে সার্বিক আয়-উন্নতি । করতোয়া নদী বিধোত এলাকাবাসীর অর্থনৈতিক দৈনতা যেন আজ চিরস্থায়ী হিসেবে জেঁকে বসেছে।

যতদূর চোঁখ যায় শুধু ধূ-ধূ বালুচর। নদীর একুল ভাঙ্গে-ওকুল গড়ে এই তো নদীর খেলা। ভাঙ্গা-গড়ার চির খেলার মধ্য দিয়েও মানুষের মাঝে ছিল অফুরন্ত স্বস্তি। দিন যায় কথা থাকে । ঠিক তেমনি অতীতের সেই দিনগুলি ফুরিয়ে গেলেও নদী-খাল-বিলের ভবিষ্যত অন্ধকার হলেও বেঁচে আছে শুধু নদীর কথ কথা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য নদীর পানি সেচ দিয়ে পার্শ্ববর্তী জমি চাষ করা হলেও আজ সেই নদীতেই রোপনকৃত নানা ফসলাদিতে গভীর-অগভীর নলকুপ-স্যালো-টিওবয়েলের মাধ্যমে নদী গর্ভে সেচ দিয়ে চাষাবাদ করা হচ্ছে। কোথাও-কোথাও সামান্য পানির দেখা মিললেও অধিকাংশ এলাকাই এখন পানি শূন্য হয়ে ফেঁটে চৌচিঁর হয়েছে। নদী বাঁচাও-দেশ বাঁচাও শ্লোগানে শ্লোগানে ভূক্ত ভোগী নদী এলাকাবাসীর চলছে চরম আর্তনাদ।

তাদের প্রশ্ন এ সমস্যার সমাধান কি বাস্তবায়ন হবার নয়। বছরে ৩ মাস পানি থাকলেও ৯ মাসেই পানি থাকে না। এ অবস্থা চলছে বছরের পর বছর। দীর্ঘদিন কোন নদী খনন নেই। সরকারের দৃষ্টি প্রসারিত নয়। ফলে করতোয়া নদী এখন পুরোপুরি মরা খালে পরিণত হচ্ছে। শুধু তাই-ই নয়। পরবর্তীতে এলাকার উন্নয়নে খননকৃত খাল সমূহ ভরাট হয়ে উঠেছে। এক সময় এসব স্থান দিয়ে নৌকা চলাচল চোঁখে পড়লেও আজ তা কেবলই স্মৃতি। জলবায়ুর প্রতিক্রিয়ায় ক্রমান্নয়ে ভৌগলিক মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে মপ নদী। এসব খাল বিলের নদী বুক পেরিয়ে মানুষ পায়ে হেঁটে পথ চলছে। নদী নৈসর্গিক পরিবেশ ও অস্থিত্ব আজ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদী ও মানুষের স¤পর্ক দিন-দিন যেন পাল্টে যাচ্ছে। জীবন-জীবিকার অম্বেষনে চির ঐতিহ্য বাপ-দাদা পেশা পরিবর্তন করে ভিন্ন পেশার দিকে ধাবিত হচ্ছে নদী এলাকার মানুষ। তারা জানেন না করতোয়া আবারও বাস্তব রুপ ফিরে পাবে কিনা ?