মুজিবনগর আমাদের অস্তিত্ব দেশ ও জাতির অস্থিত্বের জন্যে মুজিবনগর দিবস পালন করা হয় : লন্ডনে সৈয়দ আশরাফ

syed ashroughমতিয়ার চৌধুরী ,লন্ডন প্রতিনিধিঃ মুজিবনগর আমাদের অস্থিত্ব  দেশ ও জাতির অস্থিত্বের জন্যে মুজিবনগর দিবস পালন করা হয়। আমাদের দায়িত্ব হলো মুজিবনগরের চেতনায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়া। এমন্তব্য আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী ও এল-জি-আর-ডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি‘র। গত বৃহস্প্রতিবার লন্ডনে  মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অথিতির বক্তব্যে সৈয়দ আশরাফ এমন্তব্য করেন। তিনি বলেন কেউ বলেন বিপ্লবী সরকার আর কেউ বলেন অস্থায়ী সরকার এসব ভূল। আসলে মুজিব নগর ছিল প্রথম জাতীয় সংসদ। জাতির জনকের নেতৃত্বে ৭০এর নির্বাচনে  মোট ভোটের পাঁচ ভাগের চার ভাগ ভোট পেয়ে বঙ্গবন্ধূ অবিংশবাদী নেতা হিসেবে হিসেবে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃতি লাভ করেন, আর তিনিই প্রথম নির্বাচিত নেতা। আর নির্বাচিত বৈধ জন প্রতিনিধিরা ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র গঠনের ঘোষনা প্রদান করেছিলেন। এই ঘোষনায় পরিস্কার ভাবে বলা আছে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিংসবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্টার জন্য ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ ঢাকায় যথাযথ ভাবে স্বাধীনতা ঘোষনা করেন এবং বাংলাদেশের অখন্ডতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্যে বাংলাদেশের জনগণনের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান। আর এই ঘোষনা বলেই বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি করে ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি করে মুজিবনগর সরকার শপথ নেয়। এটি ছিল সংবিধানের প্রস্থাবনা। কোন সরকারই এই প্রস্থাবনা পরিবর্তন করে নাই, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, এরশাদ কেউই তা পরিবর্তন করতে পারে নাই।  ১০ই এপ্রিলের ঘোষনা বলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃতি লাভ করে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে পরিস্কার ভাবে বলা আছে জনপ্রতিনিধি বা অবিংশবাদী নেতা ছাড়া কেউ স্বাধীনতা ঘোষনা দিতে পারেনা। তিনি তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন এনিয়ে কে কি বললো তাতে কিছু যায় আসেনা। পাগলের প্রলাপে কান দিয়ে লাভ নেই। কেউ যদি স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষঢ়যন্ত্র করে তা অবশ্যই সহ্য করা হবেনা। সৈয়দ আশরাফ আরো বলেন মুক্তিযুদ্ধ করো একার নয়, সাড়া জাতির। যারা যুদ্ধে অংশ নিয়েছে সকলের অবদানকে আমরা শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি। তিনি ১৯৭১এর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন করে বলেন জিয়াউর রহমান এবং আমি এক সাথে যুদ্ধ করেছি। তিনি বলেন ইতিহাস তার আপন গতিতে চলবে, বাস্তব সত্যকে অস্বীকার করলেও মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়না।  তিনি বলেন বঙ্গবন্ধু প্রথম রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক এটি আইন সিদ্ধ সত্য। তিনি আরো বলেন স্বাধীনতা পরাজিত শত্রুরা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে নানা ষঢ়যন্ত্র করছে- এই ষঢ়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। গতকাল ১৭ই এপ্রিল লন্ডন সময় সন্ধ্যে সাতঘটিকায় ইষ্ট লন্ডনের টয়েনবি হলে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মুজিব নগর দিবসের আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি আলহাজ্ব শামসুদ্দিন খান, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, নইমুদ্দিন রিয়াজ, মারুফ চৌধুরী, আব্দুল আহাদ চৌধুরী, শাহাব উদ্দিন চঞ্চল, শাহ শামীম, এমএ গণী, তারিফ আহমেদ, খছরুজ্জামান, ব্যারিষ্টার আবুল কালাম চৌধুরী প্রমুখ।