সুনামগঞ্জে ব্রি-২৮ জাতের ধান রোপন করে বিপাকে কৃষকরা

sunamganj-18অরুন চক্রবর্তী,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষকরা ব্রি-২৮ জাতের ধান রোপন করে বিপাকে পড়েছেন। প্রচন্ড শৈত্য প্রবাহের কারণে ওই জাতের ধানের ফলন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা কাঙ্কিত ফসল না পেয়ে হতাশায় ভেঙ্গে পড়েছেন। উপজেলার পুঞ্জি গ্রামের কৃষক হারুন মিয়া মইয়ার হাওরে সাত কেদার জমিতে ব্রিআর ২৮ জাতের চারা রোপন করেছিলেন। বোধবার ধান কাটতে গিয়ে শ্রমিকরা দেখে চারায় কোন ফলন নেই। হতাশায় ভেঙ্গে পড়েন তারা। শুধু কৃষক শীপনই নন ব্রিআর ২৮ জাতের চারা রোপন করে অধিকাংশ কৃষক এখন হতাশ। কৃষকরা জানান, আগাম বন্যার আশঙ্কায় আগাম ফসল ঘরে তুলতে গিয়ে এ উপজেলার কৃষকরা গত কয়েক বছর ধরে ব্রিআর ২৮ ও ২৯ জাতের ধান রোপন করে আসছেন। চলতি বোরো মৌসুমে সময় মতো বৃষ্টি না হওয়া ও অতিরিক্ত শৈত্য প্রবাহের কারণে ধানের  চারা নষ্ট হয়ে গেছে। ধান পাকার পর দেখা গেছে ধানে চাল নেই।উপজেলার চিলাউড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল গফুর জানান সাড়ে সাত হাল জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। তন্মেধ্যে তিন হাল জমিতে ব্রি-২৮ রোপন করেছিলেন। তিনি জানান, ব্রিআর ২৮ জাতের ধান চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাটা  যায়। আর ২৯ জাতের ধান বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাটতে হয়। তাই অকাল বন্যার ঝুঁকির কারণে ২৮ ও ২৯ জাতের ধান লাগাই। কিন্তুু প্রচন্ড শৈত্য প্রবাহের কারণে চারা নষ্ট হয়ে গেছে।  ফলে ব্রি ২৮ থেকে ধান পাওয়া যায়নি। রসুলপুর গ্রামের কৃষক সুলতান আলী জানান, যেখানে কেদার প্রতি কমপক্ষে ১০মণ পাওয়ার কথা সেখানে ৭ কেদার জমিতে ২৮ ধান রোপন করে ধান পেয়েছি মাত্র ছয় মণ। যা দিয়ে শ্রমিকের ব্যয় নির্বাহ করা যাচ্ছে না। জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া বলেন, মইয়ার হাওরের পুরো অংশে ব্রি আর ২৮ জাতের ধান লাগানো হয়েছিল। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পড়ে কৃষকরা এবার সীমাহীন  লোকসানে পড়েছেন। ২৮ জাতের চারায় ফলন নেই বললেই চলে।জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ২০ হাজার ২০০ হেক্টর বোরো আবাদ করা হয়। তন্মেধ্যে ৮ হাজার ৮শ হেক্টর ব্রিআর ২৮ জাতের ধান লাগানো হয়। অপরাপর  ব্রি আর ২৯ ও দেশীয়  জাতের ধান লাগানো হয়। জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত হোসেন ভূঁইয়া জানান, ব্রি আর ২৮ জাতের  ধানের চারায় ফুল আসার সময়  (অর্থাত মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময়ে)  অতিরিক্ত শৈত্য প্রবাহ দেখা দেয়ায় ফলন নষ্ট হয়ে গেছে। এসময় তাপমাত্র ছিল ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নীচে যা ধানের চারার জন্য উপযোগী ছিল না। তিনি মইয়ার হাওরের কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, উপজেলার বৃহত হাওর নলুয়াতে এবার ভালো ফলন হয়েছে।##