বরগুনায় বেড়ী বাঁধ নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম

Beri Badh Pic.বরগুনা প্রতিনিধি॥ বরগুনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪১/১ নং পোল্ডরে পূর্ব বুড়িরচর বেড়ী বাঁধ নির্মান কাজে শিডিউল অনুযায়ী কাজ করছেনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত শিডিউল ব্যাতীত নিজস্ব খেয়াল খুশী অনুযায়ী বেড়ীবাঁধ নির্মান করছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বরগুনা ৪১/১ নং পোাল্ডারে পূর্ব বুড়িরচর ১.২ কিলোমিটার বেড়ী বাঁধ নির্মানের প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছে, ১ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা। এ থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মহিউদ্দিন আহম্মেদ শতকরা ৪৩% লেস দিয়ে ৭৭ লক্ষ টাকা মূল্যে এ বেড়ীবাঁধ নির্মানের চুক্তিতে আবদ্ধ হন। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া শিডিউল অনুযায়ী আদৌ কাজ হচ্ছেনা। শিডিউলে দেয়া আছে বেড়ী বাঁধের রিভার সাইডে-৫০ ফিট এবং কান্ট্রি সাইডে-২০ ফিট স্লোব। কিন্তু কাজ হয়েছে রিভার সাইডে-২৭ ফুট এবং কান্ট্রি সাইডে ১৩ ফুট। উচ্চতায় ১০ ফুট প্রায়, কাজ হয়েছে ৭ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং টপে ১৪ ফুট, কাজ হয়েছে ৮ ফুট ৯ ইঞ্চি। প্রায় সব স্থানেই শিডিউলে দেওয়া মাপের সাথে গরমিল দেখা যায়। এ বেড়ীবাঁধ নির্মান কাজে ব্যাপক অনিয়মের দেখা মিলছে। বিশেষজ্ঞদের ধারনা নিয়ম মাফিক এ বাঁধ নির্মিত না হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে পানির তোড়ে ধ্বসে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। এদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বেড়ী বাঁধ নির্মানের সঠিক নিয়ম না মানলেও কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছেনা পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ারিং লেভেল অনুযায়ী এ বেড়ী বাঁধ নির্মানের কর্মতালিকায় মাটির অবস্থান পর্যবেক্ষন করে বেড়ীবাঁধের স্লোব, হাইট এবং লেন্থ নির্ধারন করেন। শিডিউলের নিয়ম না মেনে ঠিকাদার স্বপন মৃধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আল-আমিনের সাথে যোগ-শাজসে গোয়ার্তুমী করে কাজ করে যাচ্ছে। প্লান অনুযায়ী কাজ হচ্ছেনা দেখে আমরা বাঁধা দিলে ঠিকাদার তার লেবারদের লেলিয়ে দিয়ে আমাদের মারধর করে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, বললেন একাধীক গ্রামবাসী। এসও আল-আমিন ঠিকাদার স্বপন মৃধার কাছে ১০ লক্ষ টাকায় ম্যানেজ হয়েছেন, তাই সঠিক নিয়মে কাজ হচ্ছেনা দেখেও তিনি না দেখার ভান করছেন। সাইড পরিদর্শন করতে এসও সাহেব আসেন রাতের আঁধারে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমনটি বললেন, একজন গ্রামবাসী।

আমরা অফিসের দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছিনা। ঠিকাদারের নির্দেশ আমাদের মেনে চলতে হয় কারন আমরা হুকুমের গোলাম বললেন, বেড়ী বাঁধ নির্মানে কর্মরত ম্যানেজার হারুন হাওলাদার।

শিডিউল অনুযায়ী বেড়ী বাঁধের কাজ কেন হচ্ছেনা, এ প্রশ্নের উত্তরে ঠিকাদার স্বপন মৃধা বলেন, নিয়মানুযায়ী কাজ হচ্ছেনা সেটা আমি ভালো করেই জানি। আমি অফিস ম্যানেজ করে কাজ করছি, তাই কাজটা আমার ধরন মোতাবেক হবে। আপনাদের যা করার তা করতে পারেন, আপনারা নিউজ করবেন? করুন।

বেড়ী বাঁধ নির্মানে অনিয়ম হচ্ছে, সেকশন অফিসার আল-আমিনকে এ প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। এলাকাবাসীর অভিযোগ আপনাকে ঠিকাদার স্বপন মৃধা ১০ লক্ষ টাকায় ম্যানেজ করেছে একথার মানে কি? এর কোন সঠিক উত্তর তার কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে বিশ্ব ব্যাংক কর্তৃক নিয়োজিত কনসাল্টেন্ট দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত করে যে সকল সমস্যা দেখা গেছে তা উল্লেখ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে প্লান অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে এ যাবৎ কোন বিল পেমেন্ট করা হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল মালেক বলেন, এ কাজের ব্যাপারে এলাকা থেকে অনেক অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্তে দেখা গেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্লান অনুযায়ী কাজ করছেনা, তাই আমি তাদেরকে বলে দিয়েছি প্লান অনুযায়ী কাজ না হলে কোন মতেই বিল দেওয়া যাবেনা। আর তাছাড়া প্লান অনুযায়ী কাজ না হলে ঐ এলাকায় স্বাভাবিক জোয়ারের  চেয়ে পানি বৃদ্ধি পেলে এলাকার লোকজন পানিতে নিমজ্জিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

বরগুনার পূর্ব বুড়িরচর এলাকার ভুক্তভোগী মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন জীবন রক্ষাকারী এই বেড়ীবাঁধের। তাই, এই বেড়ীবাঁধের নির্মান কাজে যেন কোন অবস্থাতেই অনিয়ম না হয় কর্তৃপক্ষের কাছে এটাই এলাকার সাধারন মানুষের দাবী।