বাংলাদেশ-ব্রিটেন বাণিজ্য ঘাটতি সমন্বয়ে ইউকেবিসিসিআই : হাইকমিশনার

Crest giving to Minsterবিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : ব্রিটেন এবং বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি এই প্রজন্মের মধ্যে থেকে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, ব্রিটেনে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন নতুন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ সম্ভাবনা আলোচনার লক্ষ্যে আজ বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাই কমিশনার হিজ এক্সেলেন্সি রবার্ট ডাবলিউ গিবসন সিএমজি, ইইউ প্রতিনিধিদলের ট্রেড অ্যাডভাইজার জিল্লাল হাই রাজি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সাথে একান্ত সাক্ষাত করেন। পৃথক এসব বৈঠকে ইউকেবিসিসিআই এর চলমান এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম তুলে ধরেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের এ সময়োপযোগী উদ্যোগকে বিপুল স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ব্রিটেনে রেস্তোরাঁ খাতে দক্ষ শ্রমশক্তির চাহিদা রয়েছে। এখানে প্রচুর কর্মসংস্থান সম্ভব। আমরা উদ্যোগী হয়েছি উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য। পরবর্তীতে ইউকেবিসিসিআইয়ের কনফারেন্স-এ যাওয়া এবং সংগঠনের যে কোনো কার্যক্রমে সর্বতো সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার ব্যবসায়ী সংগঠনের নতুন উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়ে তাদের সাথে সব ধরনের কাজে থাকবেন বলে আশ্বাস দেন। ব্রিটেন এবং বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে বিরাজমান ঘাটতি পূরণে কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম হবে ইউকেবিসিসিআই। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সমিতির এ কার্যক্রমের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন তিনি।

ইইউ প্রতিনিধিদলের ট্রেড অ্যাডভাইজার জিল্লাল হাই রাজি ব্যবসায়িক সম্পর্ক সমৃদ্ধকরণে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে উদ্যোগী হবার আহ্বান জানান। ‘অনেক উদ্যোক্তা রয়েছেন আমাদের কিন্তু দরকারি তথ্য ও যোগাযোগের অভাবে ব্যবসার সঠিক পথচিত্রটি খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। কার্যকর একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে এ শূন্যতা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ইউকেবিসিসিআই।

প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য ইউকেবিসিসিআই চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ ওবিই বলেন, ব্রিটেনে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত ইউকেবিসিসিআই-এর সদস্যরা বাংলাদেশের আর্থিক, তৈরি পোশাক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজতকরণ, পর্যটন, আইসিটি, স্বাস্থ্য ও সেবা, শিক্ষা এবং অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি ইউরোপ এবং পশ্চিমা বিশ্বে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য অর্থনৈতিক দূত হিসেবে কাজ করতে চায়। ‘এসব কাজ করতে গিয়ে কয়েক দশকে অর্জিত নিজেদের মূল্যবান অভিজ্ঞতা দুই দেশের নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই,’ জানান তিনি।

বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরে ইউকেবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট বজলুর রশিদ বলেন, আমরা এখানে বিনিয়োগ আনতে চাই। ব্রিটেনে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ১২ হাজার রেস্তোরাঁয় কর্মসংস্থানের প্রচুর চাহিদা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাবে আমরা এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারছি না। অথচ সরকারি সহযোগিতা নিয়ে প্রতিবেশি ভারতের অনুরূপ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা গেলে সম্ভব হবে বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান। ব্যবসাবান্ধব নীতিমালার সহায়তায় কীভাবে নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হয় সে বিষয়ে ভবিষ্যত উদ্যোক্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে চাই আমরা যার মাধ্যমে আরও গতিশীল হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি।

ব্রিটেনে সুপ্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মিজ রোহেমা মিয়া অনুপ্রেরণামূলক প্রতিশ্রুতির জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য ইতিবাচক প্রণোদনা ও সহায়তা দেয়ার মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম করে তোলা।

ইউকেবিসিসিআই নেতৃবৃন্দ এরপর বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদেও সাথে বৈঠকে মিলিত হন এবং খোলামেলা মতবিনিময় করেন।

উল্লেখ্য, নেতৃবৃন্দ এর আগে সফর কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনে মতিঝিলে ঢাকা শিল্প ও বণিক সমিতি (ডিসিসিআই) নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাত করেন এবং তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সহযোগিতামূলক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করেন।

এসব বৈঠকে ইউকেবিসিসিআই প্রতিনিধিদলের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন এমএ রউফ জেপি, জামাল উদ্দীন মোক্কোদুস, আব্দুল মালিক, নাজমুল ইসলাম নুরু, আজাদ আলি, ব্যারিস্টার আনওয়ার বাবুল মিয়া এবং মিজ রোহেমা মিয়া।