ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি যেন হারিয়ে না যায়….

SITOL PATIঅমিত বনিক অপু, ঝালকাঠিঃ

ঝালকাঠির শীতল পাটি গরমের প্রশান্তি হিসেবে দেশ বিদেশে পরিচিত। ইতোমধ্যে দেশ বিদেশে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছে এ অঞ্চলের শীতল পাটি। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠি ও সাংগর গ্রামের প্রায় দুইশত পরিবারের চার শতাধীক লোক এ পেশার সাথে জড়িত। এ দুটি গ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের শীতল পাটি গ্রাম হিসাবে পরিচিত এবং এ পাটি পেশার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে স্থানীয় ভাষায় পাটিকর বলে। পাটি তৈরিই এখানকার অধিকাংশ হিন্দু সম্প্রদায় পরিবাগুলোর প্রধান পেশা।

গরমের এই সময়টিতে তারা বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি ব্যস্ত থাকেন। গরমে ক্লান্তির ছোয়া লাগলেও পাটি তৈরির এ মৌসুমে পাটিকরদের কাজে নেই ক্লান্তির ছাপ। পাটি তৈরির প্রধান কাঁচামাল পাইতরা নামক এক প্রকার গুল্ম জাতীয় গাছ যা বন থেকে কেটে বেতি তৈরি করা এবং তৈরিকৃত পাটি বাজারে বিক্রি করে পুরুষরা। বেতি দিয়ে বাড়িতে পাটি বোনার আসল কাজটি করেন নারীরা। তবে মাঝে মধ্যে পুরুষরাও নারীদের সাথে এ কাজে হাত লাগায়। যুগ যুগ ধরে বংশ পরম্পরায় এরা পাটি তৈরি করে আসছেন। গ্রাম দুটির প্রবেশ পথে মাইলের পর মাইল পাইতরা বন চোখে পড়ে।

কিন্তু বর্তমান বাজারে শীতল পাটির চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে পাটি তৈরী শিল্পীরা জানিয়েছেন। আর তাই এই পাটির উৎপাদনও কম হচ্ছে। এর কারণ হিসাবে তারা তাদের অর্থনৈতিক সমস্যা এবং বর্তমান বাজারের প্লাস্টিকের তৈরি পাটিকে দায়ী করেছেন। তারা জানিয়েছেন, “শীতল পাটির উৎপাদন খরচ বেশি এবং ১টি শীতল পাটি বুনতে একজনের ৩ থেকে ৫ দিন সময় লাগে। অথচ বর্তমান বাজারে প্লাস্টিকের পাটি কম দামে বিক্রি হওয়ায় শীতল পাটি বিক্রি করে তারা আশানুরুপ অর্থ উপার্জন করতে পারছেন না। তাই অনেকে পুরোনো এ পেশা ছেড়ে নতুন পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন।

এ সম্পর্কে গ্রামের সন্তোষ পাটিকর বলেন, ‘আগে গরম এলেই শীতল পাটির চাহিদা অনেক বেশি ছিল। এখন আর আগের মতো নেই। কারণ বর্তমান যুগের প্লাস্টিকের তৈরি পাটি বাজার দখল করে রেখেছে।’

ঝালকাঠি শহরের পাটি বিক্রেতা গনেশ চন্দ্র দে জানিয়েছেন, প্লাস্টিকের তৈরী পাটি শীতল পাটির চেয়ে দামে কম হওয়ায় এবং দেখতে সুন্দর হওয়ায় ক্রেতারা এখন প্লাস্টিকের তৈরী পাটি বেশি ক্রয় করছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, গরমে প্রশান্তি  আনে শীতল পাটিতেই। তবুও দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতার অভাবে এ পাটির কদর দিন দিন কমে যাচ্ছে।

এ শিল্পটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থকরি ফসল পেয়ারা, সুপারি এবং আমড়ার মত অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। দক্ষিণাঞ্চলের এ গ্রাম দুটিতে মৌসুম ছাড়াও বছরে প্রায় ১৫ হাজার পাটি তৈরি করা হয়। ঝালকাঠি বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক মোঃ আশ্রাফুজ্জামান বলেন, ‘আমি এখানকার পাটিকরদের সাথে কথা বলেছি। তারা যদি আমাদের কাছে আসেন তাহলে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে বিসিক থেকে ঋণ ও পরমর্শ সহায়তা দেওয়া হবে।’