খুলনা বিভাগে প্রায় ৫শতাধিক ভবন ঝুকিপূর্ণ হলেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি কতৃপক্ষ

khulnaডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল : সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধসের পরে সারদেশ জুরে ভবন ধসের আন্তকে রয়েছে অনেকে। খুলনা,রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের অনেক ভবন ঝুকি পূর্ণ রয়েছে বলে জানাগেছে । এই সব ভবন অনেকদিন পূর্বে পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হলেও এখনো ভেঙ্গে ফেলেনি কতৃপক্ষ। তথ্যনুসন্ধানে জানাযায়,শুধু খুলনা মহনগরীতে রয়েছে ১০৭টি বাড়ি যে বাড়ীগুলিকে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকাভুক্ত করে। ২০০৮ সালে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) মাধ্যমে ৪৪টি ভবনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আরও ১০৭টি বাড়িকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকাভুক্ত করে। এই ১০৭টি ভবনের মধ্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের চিহ্নিত ৪৪টি ভবনের সঙ্গে আরও ৫০টি ভবন যোগ হয়ে কেসিসি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৪-এ। পক্ষান্তরে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত এলাকা নওয়াপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় নওয়াপাড়া পৌরসভা ও দামোদর ইউনিয়ন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা ৫৭টি। সব মিলিয়ে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ২০১টিতে। খুলনা মহানগরীর বড়বাজার এলাকায় জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ২৬টি ভবনের অধিকাংশ দোতলা বা তিনতলা। এসব ভবনের ওপরের অংশে লোকজন বসবাস করছেন এবং নিচতলায় দোকানপাট ও কাঁচামালের আড়ত। ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনে বসবাসকারী মানুষ ও বাজারে আসা লোকজনের জীবন হুমকির মুখে রয়েছে। কিন্তু বহুবার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এই সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কতৃপক্ষ। একটি সুত্রথেকে জানাযায়, বড়বাজার এলাকায় ২০০৮ সালে একটি ভবন ধসে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। নগরীর জেলা কারাগারের পুরোনো ভবন, টুটপাড়া আনসার ক্যাম্পের ভেতরে ভূতের বাড়ি, খুলনা জেনারেল হাসপাতালের সামনে একটি তিনতলা ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া স্যার ইকবাল রোডে, বসুপাড়া, হাজি মহসিন রোড, গগনবাবু রোড, মুন্সিপাড়া, রায়পাড়া, দোলখোলা, বানিয়াখামার, টুটপাড়া, মুজগুন্নী, খালিশপুর, দৌলতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। জরাজীর্ণ এসব ভবনের দেয়ালে পাকুড় ও বটগাছসহ বিভিন্ন ধরনের আগাছা জন্মেছে। অনেক আগেই এসব ভবনের পলেন্তারা খসে পড়ে দেয়ালগুলোয় ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। গত নয় বছর ধওে এই সব বাড়ীগুলি পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হরেও একনো ঐ বাড়ীগুলি এখনো ভেঙ্গে ফেলা হয়নি। এছাড়া মেহেরপু রয়েছে প্রায় ১১টি ঝুকি পূর্ণ ভবন ,সাতক্ষীরাতে রয়েছে প্রায় ২৬ টি ঝুকিপূর্ন ভবন,বাগেরহাটে রয়েছে ১৩টি ঝুকিপূর্ন ভবন, যশোর রয়েছে ২৪ টি ,মাগুরা ১৮টি,ঝিনাইদাহ ৩৪টিসহ বিভাগে প্রায় ৫শতাধিক ঝুকিপূর্ণ ভবন রয়েছে । অথচ এই সব ভবন গুলি কতৃপক্ষ চিহিৃত বা ভবন গুলির বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নেয়নি বলে জানাগেছে। সচেতন সমাজের দাবী এই সব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলি বিনষ্ট করে  এলাকাবাসীর জানমালের ক্ষয়-ক্ষতির হাত থেকে রক্ষ করা হউক।