প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের সাথে একান্ত বৈঠকে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল

Crest giving to HT Imamব্রিটেন এবং বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি এই প্রজন্মের মধ্যে থেকে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, ব্রিটেনে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন নতুন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আজ প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহি চৌধুরী বীরবিক্রম, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের সাথে একান্ত সাক্ষাত করেন।  
 
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পৃথক এসব বৈঠকে সংগঠনের কার্যক্রম ও স্বপ্ন বিষয়ে উপদেষ্টাদের অবহিত করেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল। পক্ষান্তরে, সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ব্রিটিশ-বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে গঠিত এ ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতি উন্নয়নের লক্ষ্যে এখুনি কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহŸান জানান উপদেষ্টারা।  
 
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা বর্তমান সরকারের অর্জিত সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, জনগণের সমর্থনপুষ্ট বর্তমান সরকার সত্যিকার অর্থেই একটি শক্তিশালী সরকার। মানুষের দীর্ঘস্থায়ী কল্যাণ নিশ্চিত করে এ ধরনের যে কোনো কাজে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। এ ছাড়া, দুই দেশের ছেলেমেয়েদের মধ্যেও দ্বিপাক্ষিক সফর কার্যক্রম আয়োজন করা যেতে পারে যাতে ভলান্টারি কাজের পাশাপাশি নিজের দেশকে ভালোভাবে চেনার সুযোগ পাবে। 
 
ব্যবসায়ী সংগঠনের নতুন উদ্যোগকে সময়োপযোগী হিসেবে অভিহিত করে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এ আন্তরিক প্রয়াসের মাধ্যমে উপকৃত হবে আমাদের নতুন প্রজন্ম। ২০২১ সালের মধ্যে নির্ধারিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সমিতির এ কার্যক্রমের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন তিনি।    
 
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রাথমিক শর্তই হচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। অর্থনীতির চাকা গতিশীল ও সচল রাখতে বর্তমান সরকার ব্যবসায়ীদের এ ধরনের উদ্যোগে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানে বদ্ধপরিকর। 
 
প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য ইউকেবিসিসিআই চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ ওবিই বলেন, ব্রিটেনে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত ইউকেবিসিসিআই-এর সদস্যরা বাংলাদেশের আর্থিক, তৈরি পোশাক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজতকরণ, পর্যটন, আইসিটি, স্বাস্থ্য ও সেবা, শিক্ষা এবং অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি ইউরোপ এবং পশ্চিমা বিশ্বে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য অর্থনৈতিক দূত হিসেবে কাজ করতে চায়। ‘বাংলাদেশি জনগণের জন্য বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। পাশাপাশি, কয়েক দশকে অর্জিত মূল্যবান অভিজ্ঞতা দুই দেশের নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই,’ জানান তিনি। 
বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরে ইউকেবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট বজলুর রশিদ বলেন, ব্রিটেনে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ১২ হাজার রেস্তোরাঁয় কর্মসংস্থানের প্রচুর চাহিদা থাকা সত্তে¡ও যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাবে আমরা এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারছি না। অথচ সরকারি সহযোগিতা নিয়ে প্রতিবেশি ভারতের অনুরূপ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা গেলে সম্ভব হবে বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান। পাশাপাশি, কীভাবে নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হয় সে বিষয়ে ভবিষ্যত উদ্যোক্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে চাই আমরা যার মাধ্যমে আরও গতিশীল হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি। 
 
পরবর্তীতে তারা মতিঝিলে ঢাকা শিল্প ও বণিক সমিতি (ডিসিসিআই) নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাত করেন এবং তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সহযোগিতামূলক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করেন। উল্লেখ্য, ধারাবাহিক সফর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এর আগে গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মিলিত হন। 
 
এসব বৈঠকে ইউকেবিসিসিআই প্রতিনিধিদলের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন এমএ রউফ জেপি, জামাল উদ্দীন মোক্কোদুস, আব্দুল মালিক, নাজমুল ইসলাম নুরু, আজাদ আলি, ব্যারিস্টার আনওয়ার বাবুল মিয়া এবং মিজ রোহেমা মিয়া।