গাইবান্ধায় নারী শ্রমিকরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত

gaibandha-01গাইবান্ধা থেকে মোঃ আঃ খালেক মন্ডলঃ  গাইবান্ধা জেলাাসহ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দিন দিন নারী শ্রমিকদের কদর বেড়ে গেলেও তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। মাঠ-ঘাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় পুরুষদের সাথে নারীরাও পাল্লা দিয়ে কাজ করলেও মজুরির বেলায় তাদের কম দেয়া হচ্ছে। তাই হারভাঙ্গা পরিশ্রম করার পরও ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে তাদের। এগুলো যেন দেখার কেউ নেই।

জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলাসহ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদর সহ ১৭ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে আদিবাসি নারী সহ অনেক নারী শ্রমিক বিভিন্ন কাজের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। ফসলের মাঠ থেকে শুরু করে নির্মান কাজ, চাতাল, বয়লার, হোটেল-রেস্তরা ও  বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে দিন দিন নারী শ্রমিকদের কদর বেড়েই চলছে। পুরুষ শ্রমিকদের সাথে পাল্লা দিয়ে সপরিমান কাজ করার পরও মজুরি দেয়ার সময় নারী শ্রমিকদের মজুরি কম দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে গোবিন্দগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলে একজন পুরুষ শ্রমিক সারা দিন কাজ করে যা মজুরি পাচ্ছে নারী শ্রমিক তার প্রায় অর্ধেক মজুরি পাচ্ছে। অল্প মজুরিতে বেশি কাজ করে নেয়ার জন্য নারী শ্রমিকদের কদর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় শত শত চাতাল, রাইচমিল, বিভিন্ন হোটেল-রেস্তরা এবং কোচাশহর ও মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নে গড়ে উঠা হাজার হাজার হোসিয়ারী কারখানায় বেশির ভাগ নারী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন ফসলি জমিতে আদিবাসি নারীদের দিয়ে অনেক কম মজুরিতে কাজ করানো হচ্ছে। নারী শ্রমিকরা কাজে বেশি আগ্রহী এবং ফাঁকি না দেয়ায় দিন দিন এদের চাহিদা বেড়েই চলেছে। গতকাল রোববার দুপুরে স্বামী পরিত্যাক্তা ও বিধবা বেশ কয়েকজন নারী চাতাল শ্রমিক এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছে, পেটের দায়ে আমরা এসব কাজ করতে আসি। আমাদের পুরুষদের চাইতে মজুরি কম দেয়া হলেও বাড়ির আসপাশেই কাজ করা যায় এবং দিনে মজুরি দিনেই পাওয়া যায় বলে বেশি পরিশ্রম হলেও আমরা এই কাজ করি। বিভিন্ন সরকারী ও বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানে নারী পুরুষের সমান মজুরীর মতো বিভিন্ন মালিকানাধীন পতিষ্ঠানেও নারীদের মজুরী পুরুষদের মজুরীর সমান পাওয়া ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ঠ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের একান্ত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।