আহত ১৫,ফাঁকা গুলি : নাটোরে বিজিবির সাথে চোরাকারবারী ও ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ

natore-110শেখ তোফাজ্জ্বল হোসাইন, নাটোর প্রতিনিধি  :
নাটোরে বডার সিকিউরিটি গার্ড (বিজিবি) র সাথে চোরাকারবারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় কমপেক্ষ ১৫জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি ছয় রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে।  সোমবার বিকেল তিনটার দিকে নাটোর রেল স্টেশন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। কুষ্টিয়া বিজিবির ৩২ ব্যাটালিয়ানের মেজর তারেক মাহমুদ সরকার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা সাংবাদিকদের জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে সোমবার সকালে নাটোর রেল স্টেশন এলাকায় সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সংঘবদ্ধ চোরাকারবারী দলের সদস্যরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে বিজিবির দুই সোর্স আহত হয়। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের সময় সাগর চৌধুরী নামে এক চোরাকারবারীকে আটক করে বিজিবি। পরে বিকেল তিনটার দিকে নাটোর রেল স্টেশন এলাকায় বিজিবি পুনরায় অভিযান চালায়। এসময় লাঠি চার্জ করলে সাধারণ ব্যবসায়ী পথচারীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে এলাকাবাসী ও চোরাকারবারীরা বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি ছয় রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়লে এলাকাব লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। পরে তারা আবারও সংঘটিত হয়ে বিজিবি সদস্যদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। সংবাদ পেয়ে নাটোর সদর আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে জনগনকে শান্ত করে। এর আগে সোমবার সকাল সাতটায় নাটোর রেল ষ্টেশন এলাকায় কয়েকজন দরিদ্র মহিলাকে মারপিট করে ভারতীয় শাড়ী ও জিরা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় বিজিবি কুষ্টিয়ার মীরপুর ক্যাম্পের সদস্যদের সাথে চোরাকারবারীদের ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এ সময় উত্তেজিত হামলাকারীরা বিজিবির ব্যবহূত পিকআপ (কুষ্টিয়া-ঠ-১১-০০১১) এ ইটপাটকেল ছুঁড়ে ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেল তিনটায় বিজিবি কুষ্টিয়া মিরপুর ক্যাম্পের ৩২ ব্যাটালিয়ান সদস্য এবং রাজশাহী সেক্টরের শতাধিক সদস্য নাটোর ষ্টেশন এলাকায় এসে নির্বিচারে লাঠিচার্জ করা শুরু করে। এ সময় তাদের লাঠি ও পাইপের আঘাতে ষ্টেশন এলাকায় কর্মরত ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কর্মচারী, পথচারী এবং পাটফরমে অপেক্ষামান ১৫ জনের অধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়। আহতদের নাটোর আধুনিক হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নেয়। বিজিবি সদস্যদের নির্বিচারে লাঠিচার্জের প্রতিবাদে স্থানীয় জনসাধারন মারমূখী হয়ে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ও রেললাইনের পাথর ছুঁড়ে মারে। এতে ষ্টেশন বাজার এলাকার সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি সদস্যরা ছয় রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। চোরাকারবারবারী ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে সীমান্তপথে দেশের ভিতরে ভারতীয় মালামাল অবাধে প্রবেশ করছে। সীমান্তে ব্যবস্থা না নিয়ে ম্যাজিষ্ট্রেট ছাড়াই নাটোর জেলার বিভিন্ন স্থানে লাল নিশান টাঙিয়ে ট্রেন থামিয়ে ভারতীয় মালামাল আটক করে আসছিল কুষ্টিয়া জেলার মীরপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। চোরাকারবারীদের অভিযোগ রাজশাহী অঞ্চলের বিজিবি সদস্যদের পাশ কাটিয়ে মীরপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ছিন্নমূল ও নিম্নবৃত্ত হাজার খানেক চোরকারবারীর দেড় কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় নানা পণ্য আটক করে নিয়ে গেলেও শুল্ক গোডাউনে জমা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। নিকটস্থ রাজশাহী বিজেবি ক্যাম্প থাকার পরও ম্যাজিষ্ট্রেট সহায়তা ছাড়া কুষ্টিয়ার বিজিবি সদস্যদের ঘন ঘন নাটোর জেলায় তলাশীর বিষয়টি নিয়ে চোরাকারকারবারীদের মধ্য দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠেছিল।