রাবিতে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে বর্ষবরণ

indexরাবি প্রতিনিধি: বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন বর্ষকে বরণ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শোভাযাত্রা, পান্তা-ইলিশ উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন আয়োজনে মেতে উঠে হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা। বাঙ্গালীদের প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখে ক্যাম্পাসে যেন লাগে প্রাণের উচ্ছাস।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বাংলার নতুন বর্ষকে বরণ করতে ক্যাম্পাসকে সাঁজানো হয় নতুন ভাবে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি রাস্তা ও ভবনের সামনে রং-বেরঙ্গের আলপনা আঁকা হয়েছিল। সকাল থেকেই শাড়ি ও পাঞ্জাবী পরে ছেলে-মেয়েরা ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করে। বর্ষবরণ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলো চত্বরে চত্বরে দিয়েছিল বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল। নতুন নতুন বাহাড়ি রঙের পোশাকে যুবক-যুবতিদের মাঝে আনন্দের উচ্ছাস, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া, সিলসিলাসহ ক্যান্টিনগুলোতে পড়ে পান্তা-ইলিশের ধুম। বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে ফিরে পেয়ে মতিহার চত্বর যেন নতুন করে প্রান ফিরে পায়।

সকাল ৯টায় চারুকলা বিভাগের সামনে থেকে রাজশাহী অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মঙ্গল শোভাযাত্রায় পুরো ক্যাম্পাস যেন মাতিয়ে তোলে। মঙ্গল শেভাযাত্রায় বাঙালীর ঐতিহ্য, কৃষ্টি-কালচার তুলে ধরতে শেভাযাত্রার সামনে রাখে প্রধান তিনটি মোটিফ ‘দুইটি লোকেজোপুতুল ও একটি হাতি’আর সাথে ছিল অশুভ শক্তি দূর করার প্রত্যয়ে বিভিন্ন ধরনের মুখোশ। এ সময় তাদের সাথে আরো ছিল গরুর গাড়ী, পালকী সহ বিভিন্ প্রচীন বাঙলার কিছু জনিস।

বিকালে চারুকলা বিভাগের উদ্যেগে যন্ত্রসঙ্গীত, আবৃত্তি-সুন্দরম, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৃত্যানুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

চারুকলার পরপরই বিজনেস স্টাডিজ ফ্যাকাল্টি ডিবেটিং ফোরাম (বিএফডিএফ) এর উদ্যোগে ও গ্রামীনফোনের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয় পুরাতন ফোকলোর মাঠে বর্ণীল আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪২১ উদযাপন করা হয়। সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করে ক্যাম্পাস মাতান দেশ বরেণ্য জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী তপু, পড়শি, পলাশ, ক্ষুদে গানরাজ অর্পাসহ আরও অনেকে।

এছাড়া বাংলা, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা, দর্শন, নাট্যকলা ও সঙ্গীত, ভূ-তত্ব ও খনি বিদ্যা, বাংলা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি , মার্কেটিং, নৃ-বিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা, লোক প্রশাসনসহ বিভিন্ন বিভাগের পক্ষ থেকে বর্ষবরণ উদ্যাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের মধ্যে মঙ্গল শেভাযাত্রা, বাঙালী ঐতিহ্যবাহী খাবার পন্তা-ইলিশ ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল হৃদয়কারা।