সাগরে গোসল করতে নেমে ২ কলেজ ছাত্রের মৃত্যু : উদ্ধার ৬, নিখোঁজ ৪

clip_image0012_66178এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার :
সেন্টমার্টিনদ্বীপে সাগরে গোসল করতে নেমে আহছান উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ৪ ছাত্রকে। নিখোঁজ রয়েছে আরো ৪ ছাত্র। ১৪ এপ্রিল ১লা বৈশাখ সোমবার সাড়ে ১২ টার দিকে সেন্টমার্টিনদ্বীপের উত্তর সৈকতে গোসল করতে নেমে ১০ ছাত্র ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গেলে এ মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটে।

উদ্ধারকৃত ছাত্র আসিফ (২৫) জানান, ঢাকা আহছান উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪ জনের শিক্ষার্থীর একটি দল রবিবার সেন্টমার্টিন ভ্রমনে আসে। দ্বীপের বাজারস্থ মেনগুট নামক এক আবাসিক হোটেলে উঠেন তারা।

সোমবার দুপুরে দলবেঁধে সাগরে গোসল করতে নামেন শিক্ষার্থীরা। সাগরে প্রচন্ড ঢেউয়ের তোড়ে ৬ ছাত্র ভেসে যায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোস্টগার্ড সদস্যরা ২ ছাত্রের মৃত দেহ ও ৪ জনকে মুর্মূষ অবস্থায় উদ্ধার করলেও নিখোঁজ রয়েছে আরো ৪ ছাত্র।

নিহতরা হচ্ছেন, ঢাকা মোহাম্মদপুরের মানফেজুল ইসলাম (২৫), ফার্মগেটের সাদ্দাম হোসেন(২৫)। তারা ২জনই ঢাকা আহছানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের চর্তুথ বর্ষের ছাত্র।

মূর্মূষু অবস্থায় উদ্ধারকৃতরা হচ্ছে, শেওড়া পাড়ার আসিফ (২৫),কুমিল্লার ফয়সাল (২৩),ফরহান(২৫), ইফতেকার ইসলাম (২৩)। এখনো নিখোঁজ রয়েছে, সাব্বির (২৬), উদয়(২৫), বাপ্পী(২১), নোমান(২৫)। সোমবার রাত ৮ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে এখনো জানা যায়নি।

কোস্টগার্ড ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লেঃ কাজী হারুন অর রশিদ ও সেন্টমার্টিন লেঃ শহীদুল ইসলাম জানান, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ জন ছাত্র বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। উদ্ধার হওয়া মৃত দেহ দুটি টেকনাফ হাসপাতালে রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মুজাহিদ উদ্দিন জানান, নিহত ২ ছাত্রের মৃত দেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য টেকনাফ থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসংগত,২০০৬ সালে,সেন্টমার্টিন দ্বীপের টুরার মাথা নামক স্থানে সাগরপাড়ে ফুটবল খেলতে নেমে  ২ বুয়েট ছাত্রের সলিল সমাধি ঘটেছিল। প্রতিবছর এ ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় পর্যটকের সলিল সমাধির ঘটনা ঘটে।

প্রশাসন এব্যাপারে কোন সর্তক সংকেত, সাগওে নামার নিয়মাবলী ও সতর্কামূলক নোটিশ সাইনবোর্ড কোন কিছুই স্থাপন না করায় প্রতিবছর এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে আসছে।