নীলক্ষেতে ছাত্র-ব্যবসায়ী সংঘর্ষ : আহত ১৫

2_65901বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজধানীর নীলক্ষেতে বই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। শনিবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর ও বইয়ের দোকানে আগুন দেয়া হয়।

আহতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদ, নুর মোহাম্মদ, শিমুল, শাহাদত, করিম, আলিম, শাহিন, সোহান, সাব্বির, স্যার এএফ রহমান হলের ক্যান্টিন পরিচালক বাবুল। বাকিদের নাম জানা যায়নি। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. এএম আমজাদ আলী নীলক্ষেতের বই ব্যবসায়ীদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, যারা ব্যবসা করে তাদের মনমানসিকতা ব্যবসাকেন্দ্রিক হতে হয়। দাম নিয়ে ঝামেলা হলেই শিক্ষার্থীদের মারধর করতে হবে এটা কোনো ব্যবসায়িক নীতি নয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে বই কেনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী নীলক্ষেতে যায়। এ সময় নীলক্ষেতের এক বই ব্যবসায়ীর সঙ্গে দাম নিয়ে তাদের বাকবিতান্ডা হয়। এক পর্যায়ে বই ব্যবসায়ীরা এক হয়ে নুর মোহাম্মদ নামের এক শিক্ষার্থীকে আটক করে মারধর করেন এবং অন্যদের ধাওয়া দেন। এতে শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে দৌড়ে হলে পালিয়ে আসে। বিষয়টি জানতে পারলে ক্যাম্পাসের প্রায় কয়েকশ’ শিক্ষার্থী নীলক্ষেতের বইয়ের দোকানে হামলা করে। তারা দোকান ভাংচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে নিউমার্কেট, নীলক্ষেত ফাঁড়ি ও শাহবাগ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে। পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য পুলিশ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ২০ থেকে ৩০ রাউন্ড টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. এএম আমজাদ আলী ও ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. এএম আমজাদ আলী বলেন, এরকম ঘটনা মাঝে মাঝেই হয়ে থাকে। আমরা অনেকবার বলার পরও তারা শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নীলক্ষেত ফাঁড়ির সাবইন্সপেক্টর সাহেব আলী বলেন, শিক্ষার্থীরা বইয়ের দোকান ভাংচুর এবং আগুন ধরিয়ে দিলে তাদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।