ড্রিল মেশিনে চিকিৎসা : সাতজনের সাজা

045_65941বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। জোড়াতালি দিয়ে চলছে বহু পুরনো এক্সরে মেশিনসহ অন্যান্য মেডিকেল যন্ত্রপাতি। রোগীদের জন্য গাদাগাদি ও নোংরা বিছানা। সাধারণ ড্রিল মেশিন দিয়েই চলছে হাড় ফুটো করার অপারেশন। অনভিজ্ঞ হাতেই চলে রোগীর অ্যানেসথেসিয়ার (অজ্ঞান) কাজ। কঠিন এসব কাজ অনায়াসেই করে চলেছেন অষ্টম শ্রেণী পাস এক ব্যক্তি। যিনি একসময় খুলনায় মাছের ব্যবসা করতেন। ওই হাসপাতালের মালিকও এসএসসি পাস। নির্দ্বিধায় ও সুনিপুণ (!) হাতে হাসপাতালের সব কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। রাজধানীর ১৬/১৪ নম্বর বাবর রোডে শনিবার সকালে এমনই এক অদ্ভুত হাসপাতালের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। এর নাম ন্যাশনাল কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল। ছয়তলা ভবনের তিনতলা ভাড়া নিয়ে গড়ে উঠেছে এ হাসপাতালটি। পেশাদার দালালদের মাধ্যমে পাশের পঙ্গু হাসপাতালে আসা রোগী ভাগিয়ে এনে এসব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে রোগ তো সারেই না, উল্টো মৃত্যুঝুঁকিতে থাকেন রোগীরা। সাধারণ রোগীদের সঙ্গে দিনের পর দিন এভাবে প্রতারণার অভিযোগে হাসপাতালের মালিকসহ সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। তারা হলেন হাসপাতালের মালিক বাবুল চন্দ্র পাইক ওরফে পাইক বাবু, তার প্রধান সহযোগী ও ভায়রা রতন কৃষ্ণ মজুমদার, অন্তরা শিকদার, ইমাম হাসান, জুয়েল মিয়া, মাসুম বিল্লাল ও শোভা বণিক। এদের মধ্যে পাইক বাবু ও রতনকে এক বছরের কারাদন্ড ও ১ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদন্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকিদের সাতদিনের কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এ সময় হাসপাতালটি সিলগালা করা হয় এবং এখানে থাকা রোগীদের পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অভিযানে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে পাইক বাবু ও রতন জানিয়েছেন, ড্রিল মেশিন (দেয়াল ফুটো করা যন্ত্র) দিয়ে রোগীর পায়ের হাড় ফুটো করে অপারেশন করেন। রতন পাঁচ বছর আগে খুলনায় মাছের ব্যবসা করতেন। পরে ব্যবসা ছেড়ে ভায়রার হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) দায়িত্ব নেন। আর পাইক বাবু বিভিন্ন ক্লিনিকে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন। পরে সাত বছর আগে নিজেই ১০ বেডের একটি হাসপাতাল চালু করেন। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ছাড়াই পঙ্গু হাসপাতালের আশপাশে এভাবে কিছু হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। রোগীপ্রতি ৫০০ টাকা কমিশনে তারা রোগী ভাগিয়ে আনেন। পরে বাকি বিলের ওপর আরও ৩০ ভাগ কমিশন দেয়া হয়। ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ কাজটি করছে। – See more at: http://alokitobangladesh.com/last-page/2014/04/13/65941#sthash.KwCkbE9K.dpuf