সম্মানজনক বিদায় আশা করেছিলাম : রুহুল আমিন হাওলাদার

19007_f6বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : জাতীয় পার্টির বিদায়ী মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, আমার বিদায় সম্মানজনকভাবে হওয়া উচিত ছিল। ভাবতেই পারিনি এরশাদের স্নেহ ও সহানুভূতি থেকে এভাবে বঞ্চিত হবো। আমি দীর্ঘদিন দলের মহাসচিব ছিলাম। চেয়ারম্যানের কাছে এজন্য কৃতজ্ঞ। গতকাল মানবজমিন-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। জানিয়েছেন, দলের নেতাকর্মীদের মতো তিনিও মনে করেন কোন চাপের কারণেই তাকে সরানো হয়েছে মহাসচিবের পদ থেকে।
রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, দলের ও চেয়ারম্যানের বিপদে এগিয়ে গিয়েছি। নিজের বিপদের  কথা কোনদিন ভাবিনি। চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নিয়েছি। দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশ- সরকারি গাড়ি পতাকা ছেড়ে দাও, আমি তাই করেছি। জাপার বিদায়ী  মহাসচিব প্রশ্ন রেখে বলেন, বলতে পারেন রাজনীতিতে স্বার্থ বিসর্জন দেয়া সবার পক্ষে কি সম্ভব? আল্লাহর রহমতে আমার পক্ষে তা সম্ভব হয়েছে। এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভায় ছিলাম। পার্টির জন্ম থেকে আছি। জাতীয় পার্টিতে নেতাকর্মীদের যেমন অবদান আছে। আমারও তেমন আবদান আছে। সবচেয়ে বেশি অবদান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের। তিনি এ দলের জন্য কারাভোগ থেকে শুরু করে অনেক নির্যাতন সহ্য করেছেন। রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, হঠাৎ করে রাজনীতিতে আসিনি। অনেক ত্যাগ ও শ্রমে গড়া এ দল। এজন্য অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। জেলে গিয়েছি। অনেক অপমান সহ্য করেছি। মাটি ও মানুষকে ভালবাসি বলে এসব করেছি। আমি যখন থাকবো না মানুষ যেন আমাকে মনে রাখে- এই ভেবে কাজ করেছি। সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার রাজনীতি অনুশীলন অনেক কঠিন কাজ মন্তব্য করে বলেন, জেনেশুনে রাজনীতি করি। দলের ক্ষতি বা দেশের স্বার্থের বাইরে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। যেহেতু দলে আছি। দলের আদর্শ লালন করি। দীর্ঘদিন ধরে মহাসচিব থাকায় আমি চেয়ারম্যান স্যারের কাছে কৃতজ্ঞ। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আপনার ফাইল নড়াচড়া করার পর পরই মহাসচিব পদ থেকে আপনাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, এর পেছনে কোন রাজনৈতিক কারণ কাজ করেছে কিনা- এমন প্রশ্নে বিদায়ী মহাসচিব বলেন, কর্তার ইচ্ছায় কর্ম। এ বিষয় দল দেশবাসী ও বিবেকের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ  বলেছেন, আমার ও রওশন এরশাদের মধ্যে দূরত্ব আছে বলে জনগণ ও দলের নেতাকর্মীরা মনে করে। নতুন মহাসচিব নিয়োগের ফলে এ ধারণা দূর হবে। কোন চাপে পড়ে মহাসচিব পরিবর্তন হয়নি। এসব প্রশ্নে রহুল আমিন হাওলাদার বলেন,  চেয়ারম্যান চাইলে যে কোন মুহূর্তে মহাসচিব পরিবর্তন করতে পারেন। তার সেই ক্ষমতা আছে। তবে আমি ভাবতেই পারিনি এরশাদের  স্নেহ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত হবো। আমাকে এ পদ থেকে সরানোর জন্য দুদক থেকে সম্পদের হিসাব চাওয়াসহ নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নেয়া হয়। দলের একটি চক্র এর সঙ্গে জড়িত। তারাই এটি করেছে। দলের  চেয়ারম্যানের ওপর চাপ প্রয়োগ করে মহাসচিব পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার  তো তাই  মনে হয় ।