কুচবিহারে মমতা : ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বিবেচনা করবে সরকার

19000_b4বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : নির্বাচনী প্রচারণায় এবার ছিটমহল বিনিময় ও তিস্তার পানি বণ্টনের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বললেন, অপদখলীয় জমিতে বসবাসকারী মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে তার সরকার ছিটমহল বিনিময় ইস্যু বিবেচনা করবে। গতকাল তিনি কুচবিহারে নির্বাচনী সমাবেশে এ কথা বলেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। তিনি তিস্তার পানি বণ্টন প্রসঙ্গ তুলে ধরে তার অবস্থানের ব্যাখ্যা দেন। বলেন, কেন আমি তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিরোধিতা করেছি? এখন আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, তিস্তা শুকিয়ে গেছে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পান করার মতো পানিও পাওয়া যাবে না। তিনি এ সময় আরও বলেন, একটি রাজ্য সরকার ক্ষমতায় থাকতে তাকে এ বিষয়ে অবগত করতে হয় ও তার সঙ্গে পরামর্শ করতে হয়। মমতা বলেন, আমি ছিটমহলকে ভালবাসি। তাই আমি উচিত পদক্ষেপ নিয়েছি। আমি জনগণের চিন্তার কথা বাদ দিয়ে একতরফাভাবে কিছু করিনি। তিনি স্থানীয় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। বলেন, তারা ছিটমহল ইস্যুকে পুঁজি করে ভোটে সুবিধা পেতে চায়। কিন্তু এর আগে যখন বামফ্রন্টের সরকার ক্ষমতায় ছিল তখন তো তারা কিছুই করে নি। কিন্তু আমার সরকার জরিপ করেছে। পরিসংখ্যান করছে। মমতা আরও বলেন, এই এলাকায় বিজেপির এমন একজন আছেন যাকে সারা বছর আপনারা দেখতে পান না। কিন্তু যখনই নির্বাচন আসে তখন তারা ছিটমহল ইস্যুকে ব্যবহার করে। কুচবিহার ও বাংলাদেশের মানুষকে বিভক্ত করার চেষ্টা করে। এর মাধ্যমে তারা ভোটে সুবিধা পেতে চায়। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে বাংলাদেশ সফরে আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তখন তার সঙ্গে আসার কথা ছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সরকারের মিত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিরোধিতা করে তিনি এ সফর বাতিল করেন। শুধু তা-ই নয়, গত বছর ডিসেম্বরে ভারতের রাজ্যসভায় যখন সীমান্ত চুক্তি বিল উত্থাপিত হয় তখন এ বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থান নেন।