মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জিত হয়নি : প্রেসিডেন্ট

18999_b1বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ বলেছেন, ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরড়নেতৃত্বে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশকে স্বাধীন করতে পারলেও দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আজও পুরোপুরি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। আর সেই অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তোমাদের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখতে হবে। বঙ্গবন্ধু সব সময় একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন। শিক্ষার্থীকে তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে সুধী সমাবেশ, কৃতী শিক্ষার্থী ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সংবর্ধনা পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংবর্ধনা একদিকে যেমন তোমাদের অর্জনের স্বীকৃতি দিচ্ছে, তেমনি ভবিষ্যতে নতুন কর্মউদ্দীপনা নিয়ে তোমাদেরও লেখাপড়ায় মনোযোগী হবে। যে কোন অর্জনের পেছনে থাকে সম্মিলিত প্রয়াস। ছাত্রছাত্রীদের কৃতিত্বেরড়পেছনে
রয়েছে শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা, মা-বাবাদের অন্তহীন উৎসাহ ও শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম। প্রতিটি মানুষ কম-বেশি মেধা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের দায়িত্ব হচ্ছে সে মেধা কাজে লাগানো। আজকের সাফল্য সামনে এগিয়ে চলার পথ একদিকে যেমন উন্মুক্ত করেছে, তেমনি তার জ্ঞান অর্জনে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও বলেন, মনে রাখতে হবে, সামনের পরীক্ষাগুলো আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে। তাই এখন থেকে ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিয়ে নিজেকে তৈরি করতে হবে। ক্লাস নোট আর কোচিং সেন্টারের সীমিত নোটসর্বস্ব জ্ঞানে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে বই পড়ার অভ্যাস করতে হবে। ১৯৭১ সালে ১২ই এপ্রিল রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আজ (গতকাল) ১২ই এপ্রিল। ১৯৭১-এর এই দিনে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক এবি সিদ্দিকীসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেন। আমি এসব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সালেহা ইমারত চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং রাকসুর সাবেক ভিপি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা নূরুল ইসলাম ঠান্ডু, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ দারা, আয়েন উদ্দিন ও আখতার জাহান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সালেহা-ইমারত ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৪২০ জন কৃতী শিক্ষার্থী ও ১০ গুণীজনকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। সংবর্ধনা পাওয়া গুণীজনরা হলেন- স্বাস্থ্যে ডা. গোবিন্দ চন্দ্র সাহা, কৃষিতে ব্রজেন কুমার প্রামাণিক, বনায়নে মোল্লা আলতাফ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম (মরণোত্তর), সাংস্কৃতিতে শিল্পী এমএ খালেক, নারী শিক্ষায় শিরিন আকতার, শিক্ষায় আবদুল জলিল (মরণোত্তর), রাজনীতিতে রাখাল চন্দ্র (মরণোত্তর), শান্তিশৃঙ্খলায় বাগমারা থানা, প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাগমারা প্রেস ক্লাব। এর আগে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দুপুর ১২টায় হেলিকপ্টারে বাগমারা পৌঁছান। তিনিড় হেলিকপ্টারে গিয়ে বাগমারার উত্তর একডালা হেলিপ্যাডে নামেন। সেখান থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর কমপ্লেক্স ও সালেহা ইমারত মেডিকেল সেন্টার পরিদর্শন করেন।