কুড়িগ্রামের তিস্তার বালুচরে মিষ্টি কুমড়ার সমারোহ

Kurrigram Pumpkin field visit photo-1সৌরভ কুমার ঘোষ,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
নদীর বুকে জেগে ওঠা পরিত্যক্ত ধু ধু বালুচর।  সেই বালুচরে সবুজায়নের যুদ্ধে নেমেছে চাষীরা। এই যুদ্ধ জয় এতোটা সহজ আগে ভাবতেই পারেনি এই এলাকার নদী ভাঙ্গনে নিঃস্ব হওয়া ভিটেমাটি হারা চাষী ও শ্রমজীবি মানুষরা।

ধুধু বালু চরে কুমড়া চাষীরা জানান, বালুচরে কোনো ফসল ফলানো যাবে এটা আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি। ইইপি সিড়ি (ডিএফআইডি-জিওবি) মিনিষ্ট্রি অব রুলার ডেভলোপমেন্ট এন্ড কো-অপারেটিভ পার্টনার পিএনজিও ইউডিপিএস এর অর্থায়নে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন নামের একটি এনজিও প্রথমে আমাদের কুমড়ো চাষের প্রশিক্ষণ দেয়। পরে বালুচরে কুমড়োর চারা রোপন করতে বলে। এখন বালুচরে বপন করা কুমড়োর চারা আমাদের জীবনে সচ্ছছলতা এনে দিয়েছে। এবারই প্রথম এই চরে কুমড়া চাষ করে সফলতা পেয়ে নদীতে জেগে উঠা বালুময় চরে ৬ মাসের বিভিন্ন ফসল আবাদ করে ঘুরে দাড়ানোর স্বপ্ন দেখছে।

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুরের দলদলিয়া ইউনিয়নের তিস্তা নদীর বালুচরে গিয়ে দেখা যায়, সবুজে ভরা কুমড়ো ক্ষেত। গাছে গাছে কাচাপাকা, ছোট-বড় অসংখ্য কুমড়োয় ছেয়ে গেছে বালু চর। ৩০ কেজি ওজনের কুমড়ো হয়েছে এই চরে। প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন, বাংলাদেশ রংপুর সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন ধু-ধু চর এলাকায় সফলতার সাথে মিষ্টি কুমড়ো চাষের প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে।

শনিবার দুপুরে এই কুমড়ো ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহের একদল গবেষক। পরিদর্শন দলে ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সররকারের পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য  প্রফেসর ড. এম.এ. সাত্তার মন্ডল, কৃষি অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. এম.এ. সাত্তার, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডীন, প্রফেসর ড. শংকর কুমার রাহা, ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ ছোলায়মান আলী ফকির, হেড অব পিএফপি, প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশের নজমুল ইসলাম চৌধুরী, প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশের এ. মান্নান মোল্লা, সবুজবাংলাদেশ২৪.কম এর সম্পাদক ড. মোঃ সহিদুজ্জামান।

এসময় কুমড়া চাষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রফেসর ড. এম.এ. সাত্তার মন্ডল বলেন, প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন বৃহত্তর রংপুরের অনাবাদী বালুচড়ে কুমড়া চাষে যে সাফল্য অর্জন করেছে তা সত্যি অভাবনীয়। বিস্তৃর্ণ চরে এই সব সবুজায়ন দেশকে দেশের কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এক সময় যে নদীগুলো ছিল দুঃখের কারণ, এখন সেই নদীর বালুচর সুখের পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে চাষীদের। এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, যে কোন উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা। রংপুরের কৃষি ক্ষেত্রে সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও কৃষক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করলে রংপুরের কৃষিতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। হয়তো তা আর বেশী দুরে নয়।

বৃহত্তর রংপুরের অবহেলিত জনপদকে উন্নয়নে সমৃদ্ধ করতে কৃষিক্ষেত্রে কি কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে এর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও দিকনির্দেশনা প্রনয়নে প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন, আইসা, আরডিআরএস ও হেলভেটাস এর সহযোগীতায় রংপুরে দুই দিন ব্যাপি কর্মসুচীর আয়োজন করে কৃষিভিত্তিক অনলাইন পত্রিকা সবুজ বাংলাদেশ২৪.কম। প্রথম দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় আরডিআরএস মিলনায়তনে “রংপুরের কৃষি উন্নয়নে সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের অবদান ও ভবিষ্যৎ করণীয়” শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান কৃষি ক্ষেত্রে তাদের অবদান, বর্তমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরেন আগত কৃষি বিশেষজ্ঞরা। এরই অংশ হিসেবে শনিবার কুড়িগ্রামে তিস্তার চরে কৃষি বিশেষজ্ঞ দলটি ফিল্ড পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য যে প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশ উত্তরাঞ্চলের প্রায় ১১০০ একর জমিতে প্রায় ১৫০০০ মেট্রিকটন কুমড়া চাষ করে প্রায় ৫০০০ পরিবারকে সাবলস্বী করেছেন।