পরিচালকদের প্রতিক্রিয়া : গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংসের জন্যই ষড়যন্ত্র

8_65666বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : সরকার ৫ অক্টোবরের মধ্যেই গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করলে নোবেল বিজয়ী প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বলে কিছুই থাকবে না। জাতীয় সংসদ বা উপজেলা নির্বাচনের আদলে গ্রামীণ ব্যাংকের আড়াই হাজার শাখার ৮৪ লাখ সদস্যের ভোটে একযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে গেলে হাঙ্গামার সৃষ্টি হবে। স্থানীয় পর্ষদ নির্বাচনের মতো এ নির্বাচনও রাজনৈতিক রূপ পাবে। গ্রামীণ ব্যাংকে নতুন পরিচালনা পর্ষদ বসাতে ‘গ্রামীণ ব্যাংক (পরিচালক নির্বাচন) বিধিমালা-২০১৪’ গেজেট জারি করার পর শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্যাংকটির নির্বাচিত পরিচালকরা।

গেজেট অনুযায়ী, বিধিমালা প্রবর্তনের ছয় মাসের মধ্যে পরিচালক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান নির্বাচিত পরিচালকদের পদ শূন্য হয়ে যাবে। আর নির্বাচিত পরিচালকদের মেয়াদ হবে তিন বছর। এর প্রতিবাদ জানিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাচিত পরিচালকদের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক তাহসিনা খাতুন স্বাক্ষরিত এক প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, নির্বাচন হলে প্রতিষ্ঠানে কোন্দল, টাকার খেলা, পারস্পরিক কুৎসা তৈরি হবে। এতে ভোটের আগে ও পরে গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের মধ্যে বিভক্তি ও হানাহানির সৃষ্টি হবে। বর্তমান নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এ নতুন প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধি নির্বাচনের তোড়জোড় বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, তিন দশক ধরে একই পদ্ধতিতেই সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালক নির্বাচন করে আসছে। সদস্যদের মধ্য থেকে বা অন্য কোনো মহল থেকে এ বিষয়ে কখনও কোনো অভিযোগ ওঠেনি। গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো অভিযোগও ওঠেনি। তাই নির্বাচন করে এভাবে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করলে তা দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি মোক্ষম হাতিয়ারে পরিণত হবে।

এতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার নারী অধিকার ও নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে কাজ করছে বলে দাবি করে, অথচ দরিদ্র নারীদের মালিকানাধীন ও তাদেরই দ্বারা সুপরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার যে হীন ষড়যন্ত্রে তারা লিপ্ত হয়েছে, তা নজিরবিহীন। নির্বাচিত পরিচালকরা সরকারের এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।