রাবিতে দেশি-বিদেশি অস্ত্রের ছড়াছড়ি : প্রশাসন নীরব

3_65675বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে বিপুল সংখ্যক অবৈধ দেশি-বিদেশি অস্ত্র রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অন্তত ২০ জন নেতার কাছে রয়েছে একটি করে বিদেশি পিস্তল। অন্যদিকে শিবিরের নেতাকর্মীদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র কম থাকলেও রয়েছে বিপুল সংখ্যক ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ, সাধারণ শিক্ষার্থী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এসব অস্ত্র উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে হলে আতঙ্ক নিয়েই থাকছেন শিক্ষার্থীরা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতারা ক্যাম্পাসে শিবিরকে প্রতিহত, আধিপত্য বজায় এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য কাছে রাখছেন বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অন্তত ২০ জন নেতার কাছে রয়েছে একটি করে বিদেশি পিস্তল। এরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহম্মেদ রুনু, শামসুজ্জামান ইমন, যুগ্ম সমপাদক নাসিম আহম্মেদ সেতু, পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মুস্তাকিম বিল্লাহ, উপ-প্রচার সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম, দফতর সম্পাদক আনিসুর রহমান প্রমুখ। সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সুদীপ্ত সালামও আগ্নেয়াস্ত্র রাখতেন। বর্তমানে সালাম জেলহাজাতে আছেন। ৩১ মার্চ দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলিসহ সালাম ও আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক আখতারুল ইসলাম আসিফকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অস্ত্রধারীরা বিশ্ববিদ্যলয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আবাসিক হলের বিভিন্ন কক্ষে থাকছেন। এদের মধ্যে রুনু ২৩০ এবং সেতু ৩১৭ নম্বর কক্ষে থাকছেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে। এছাড়াও আরও যারা আছেন তাদের কাছে রয়েছে, ধারালো হাঁসুয়া, রামদা, চাপাতি, লোহার রডসহ নানা ধরনের দেশীয় অস্ত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখ্শ হলেও রয়েছেন কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা। তাদের কাছেও অস্ত্র আছে বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্র বলেন, ছাত্রলীগের কাছে পিস্তল রাখার বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। খেলনা পিস্তলের মতো তারা পিস্তল নিয়ে ঘুরে পুলিশের সামনেই। তবুও তাদের গ্রেফতার করা হয় না। এখন ছাত্রলীগে নাম লেখালেই একটি করে অস্ত্র পাওয়া যায় বলে তারা শুনেছেন।

প্রসঙ্গত ২ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় ছাত্রলীগ সালাম, রুনু, সেতু, বিল্লাহ, আনোয়ার ও ইমন। গত বছর ২৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে দেখা যায় ছাত্রলীগ নেতা রুনু, পলাশ ও সুরঞ্জিত বৃত্তকে।

অন্যদিকে রাবি শিবিরের নেতাকর্মীদের কাছে কত আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে তা জানা যায়নি। তবে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, তাদের কাছে বিপুল সংখ্যক ককটেল, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম, রামদা, রগ কাটার যন্ত্র, চাপাতিসহ নানা ধরনের দেশীয় অস্ত্র আছে। শিবিরের বেশ কয়েকটি ইউনিট হাতবোমা তৈরি ও ব্যবহারের কাজে নিয়োজিত রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মেহেরচ-ি, বিনোদপুর, কাজলা, ধরমপুর, বুথপাড়া এলাকার বিভিন্ন মেসে তারা এগুলো তৈরি করছে। যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি আশরাফুল আলম ইমনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত, গত বছর ২৮ নভেম্বর ছাত্রলীগের মিছিলে ককটেল হামলা চালায় শিবির। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতিসহ সাত নেতাকর্মী আহত হন। ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়াসহ আট শিবির নেতাকর্মীকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে আট রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল ও ১৩টি তাজা ককটেল, দেশীয় অস্ত্রসহ বেশকিছু জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রলীগের অস্ত্রধারী চিহ্নিত নেতারা অবৈধ অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে ঘুরলেও তাদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে নানা সময় নামমাত্র তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশি চলাকালে যেসব হলে ছাত্রলীগ অস্ত্র নিয়ে থাকে সেসব হলে অভিযান চালানো হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. তারিকুল হাসান বলেন, ক্যাম্পাসের সার্বিক দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ বিভিন্ন হলে এর আগে তল্লাশি চালিয়েছে। প্রয়োজন হলে আগামীতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে তল্লাশি চালানো হবে।

নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম রেজাউল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে এক অস্ত্রধারীকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধার ও অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।