জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯টি ক্যু হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা : সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমানকে খুনী মোশতাক সেনাবাহিনীর প্রধান করেছেন। জিয়াউর রহমান বিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফ, কর্ণেল হুদা, কর্ণেল তাহেরসহ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া অসংখ্য সেনা অফিসারকে হত্যা করেছে। তার সময়ে মোট ১৯টি ক্যু হয়েছে। তার শাসনামলে এমন কোনো রাত ছিলনা যে সৈনিক-অফিসারদের হত্যা করেনি। লোকে বলে নাস্তার টেবিলে বসেও মৃত্যুদ- দিতে কুণ্ঠাবোধ করতোনা। জিয়াউর রহমান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলে, এই বলে সেই বলে; তাহলে কীভাবে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের বড় পদে বসান? মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের হাতে পতাকা তুলে দেন। আর তার স্ত্রী ক্ষমতায় এসে নিজামী-মুজাহিদের মন্ত্রী বানান। এ সবের জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার রাত আটটায় জাতীয় সংসদের বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের নির্ধারিত দিনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, মসজিদে আগুন দেয়া ও কোরআন শরীফ পুড়ে দেয়ার মতো জঘন্য কাজ বিএনপি-জামায়াত করেছে। তারা কীভাবে নিজেদের ইসলামের ধারক বাহক বলে দাবি করে? নির্বাচনকে বানচাল করতে তারা এসব সহিংসতা চালিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের কোনো ভুল ভ্রান্তি থাকলে বিরোধী দল তা সংসদে তুলে ধরে জনগনের কথা বলবে। আমরা তাই যাই। আমি বলবো বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছে। কারণ এ অবস্থা পৃথিবীর আর কোথায় নেই। আমরা তা পেরেছি। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার প্রতিটি বক্তব্যে ‘পূর্ব বাংলার মানুষ’ বলে উদ্ধৃতি করেছেন। কাজেই কেউ বাংলাদেশের স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধ দিয়ে মিথ্যাচার করে, তারা পাকিস্তানিদের পদলেহনকারী। এরাই স্বাধীনতাকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে। এরা স্বাধীনতা চায়নি।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের সাথে সহযোগিতা করাও বিরোধী দলের দায়িত্ব। সে দায়িত্ব (জাতীয় পার্টি) যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছে। ভোটে নির্বাচিত হয়ে যারা পার্লামেন্টে এসেছে তারাইতো আইনসম্মত বিরোধী দল। যারা পার্লামেন্টে আসতে পারেনি। তারা কিসের বিরোধী দল। যারা সুবিধা নেয়ার জন্য বিরোধী দল, টাকা নেয়ার জন্য বিরোধী দল তাদের আমরা বিরোধী দল বলিনা। যারা নবম সংসদে বিরোধী দলে ছিলেন তারা কতদিন সংসদে ছিলেন তা দেখার বিষয়।’

তিনি বলেন, নবম সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী মাত্র ১০ দিন সংসদে এসেছেন। আর এ ১০ দিনে তিনি সাড়ে ৭ ঘন্টা বক্তিতা দিয়েছেন। অথ্যাৎ যিনি যখনই সংসদে এসেছেন তখনই কথা বলেছেন। ৯০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকলে সংসদের সদস্যপদ থাকেনা। যখনই তাদের সে পদ যাওয়ার অবস্থা হয় তখনই তারা সংসদে এসেছেন। যে বিরোধী দল সংসদে আসেনা তারা কিসের বিরোধী দল।’