লালদীঘি ময়দানে ১১, ১২ এপ্রিল দুদিনব্যাপী ঐতিহাসিক শানে রেসালত সম্মেলন তৃণমূলে ব্যাপক গণসংযোগ

imagesআর মাত্র একদিন বাকি। ১১ এপ্রিল জুমার নামাজের পরপরই নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে শুরু হবে বহুল প্রত্যাশিত হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে শানে রেসালত সম্মেলন। চলবে পরদিন শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত। দেশের শীর্ষ আলিম, বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক) এর চেয়ারম্যান, হেফাজতে ইসলামের আমীর ও প্রাচীনতম বৃহৎ ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠা দারুল হাটহাজারীর মুহতামিম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফীর আখেরি বয়ান ও মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে এ সম্মেলন। বিশ্বনবীর জীবনাদর্শ আলোচনা উপলক্ষে আহুত এ শানে রেসালত সম্মেলনে ব্যাপক লোকসমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সব জায়গায় পোস্টারিং, তৃণমূল পর্যন্ত প্রতিটি এলাকায় স্থানীয় কমিটিগুলোর মাধ্যমে সম্মেলনের বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। নগরজুড়ে চলছে ব্যাপক মাইকিং।

উত্তর চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, মীরশ্বরাই, সীতাকুণ্ড, বোয়ালখালী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, পটিয়া এলাকায় চলছে শানে রেসালত সম্মেলনের যোগদানের প্রস্তুতি। দীর্ঘ বিরতির পর এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে শানে রেসালত সম্মেলনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। পার্শ্ববর্তী কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায়ও সম্মেলনে যোগদানের লক্ষ্যে ধর্মপ্রাণ মানুষের আগ্রহে কমতি নেই।

অন্যদিকে শানে রেসালত সম্মেলনের নানামাত্রিক প্রস্তুতি যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদনে গঠিত সাতটি উপকমিটির দায়িত্বশীলগণ শেষ মুহূর্তের কর্মতৎপরতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত কয়েকদিন আগে ফেনী জেলায় হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ্ আহমদ শফীর বয়ানে বিপুল লোকসমাগম এবং দেশের বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর দিকনির্দেশনামূলক উদ্দীপনাময়ী ভাষণের ফলে চট্টগ্রামের আশপাশের জেলাগুলোতেও লালদীঘির শানে রেসালত সম্মেলনকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে আলাপকালে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ১১ ও ১২ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের শানে রেসালত সম্মেলনকে ঘিরে পুরো চট্টগ্রামের নবীপ্রেমিক জনতা নতুন উদ্যমে জেগে উঠেছে। তিনি বলেন, ইতিহাসের এক অনিবার্য সন্ধিক্ষণে হেফাজতের ১৩ দফায় ধর্ম, রাষ্ট্রনীতি, সংস্কৃতি, দর্শনসহ সামগ্রিক ইসলামচর্চার নানা উপাদান নিয়ে আওয়াজ উঠছে। ঈমান-আক্বীদা, দেশের স্বাধীনতা-সংস্কৃতির প্রশ্নে চেতনা ও আন্দোলন-সংগ্রামের মিনার হয়ে বুক পেতে দাঁড়িয়েছে। দেশে যে নৈতিকতার চরম সংকট চলছে তার মোকাবেলায় এই হেফাজতে ইসলামীর বার্তা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সুষ্ঠু বিকাশের স্বার্থে সময়ে দাবি।

আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, দীনে ইসলামের হেফাজত, লালন ও প্রচার-প্রসারের জন্য, নারীদের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন সর্বস্তরের মুমিন মুসলমানদের মধ্যে বিপুল সাড়া জাগানোর কারণে দেশে-বিদেশে ইসলামের চেনা-অচেনা শত্র“দের গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে। হেফাজতে ইসলাম ও কওমী মাদরাসার বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করে দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কওমী মাদরাসা-শিক্ষাব্যবস্থা এবং আলিম-ওলামার কর্মক্ষেত্রকে অনেকে নিজের রঙ্গিন চশমায় দেখে থাকেন তাই ভুল সিদ্ধান্তও নিতে বাধ্য হন। হেফাজতে ইসলাম নেতৃবৃন্দ ও আলিম-ওলামাসহ দেশপ্রেমিক জনগণের দৃষ্টিতে এটি খুবই দুঃখজনক বিষয়।

আজিজুল হক আরো বলেন, দেশে এমন একটি শ্রেণী রয়েছে যাদের চোখে বর্তমানে দেশে চলমান সাম্প্রদায়িকতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধাচরণ, খুনখারাবী, সন্ত্রাস, হানাহানি, মারামারি, হল দখলের প্রতিযোগিতা, মাস্তানি, চাঁদাবাজি, ঘুষ, দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় তহবিল আত্মসাৎ, রাজনীতিকে হীনস্বার্থ উদ্ধারের কাজে ব্যবহার, সরকারি সম্পদ জবরদখল, হরতালের নামে দেশীয় সম্পদের ধ্বংস ও জ্বালাও পোড়াও, না কৌশলে রাষ্ট্রীয় অর্থের লুটপাট, অপসংস্কৃতির লালন ইত্যাদির কিছুই নজরে পড়ে না। তাই এগুলোর নিরসন নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যাথাও নেই। পক্ষান্তরে সেই নিরীহ কওমী মাদ্রাসার উলামা যারা শুধুমাত্র পবিত্র কুরআন কিতাব নিয়েই আজীবন পড়ে আছেন, যারা সূফী-দরবেশ-পীর-বুযর্গ হিসাবে সর্বদা আত্মপ্রচার বিমুখ হয়ে অন্তর্মুখী থাকতে ভালোবাসেন, তাদেরকে গায়ের জোরে, কুযুক্তি দিয়ে বেকার, অভাবী, অথর্ব, অকর্মণ্য, সন্ত্রাসী ও জঙ্গি প্রমাণ করার জন্য উঠে পড়ে লেগে আছেন তারা আসলে কারা? তাদের এই অপতৎপরতার আসল উদ্দেশ্য কী? এসব করে তারা কী আনন্দ পান এটা গভীরভাবে বুঝার দাবি রাখে।

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, স্বার্থহানি ঘটলেই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর নামে জঙ্গিবাদের অপপ্রচার চালানোর মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের শত্র“রাই লাভবান হচ্ছে ? যারা এই দুষ্কর্মে লিপ্ত প্রকৃতপক্ষে তারা ইসলামের আদর্শিক ভবনা এবং সর্বজনীন আবেদনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে সাম্রাজ্যবাদকে ঘরে টেনে নিয়ে আসছে। নতুন প্রজন্মের মানসপঠে ইসলাম সম্পর্কে একটি ভীতিকর চিত্র তৈরি করছে। প্রতিনিয়ত ধর্ম প্রশ্নে রাষ্ট্র ও ব্যক্তির মাঝে দ্বন্দ্ব তৈরি করছে। যথাসময়ে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।