বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ২ মাসের জন্য উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত

Koelaনুরুন্নবী বাবু দিনাজপুর প্রতিনিধি :
উত্তোলিত কয়লা বিক্রি বন্ধ থাকায় উত্তোলনকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চীনা মাইনিং কোম্পানী সিএমসিকে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিঃ ২ মাস কয়লা উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালিত না করার জন্য পত্র দিয়েছেন। এই ঘটনায় শ্রমিকদের মাঝে দারুন ক্ষোভের ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড এই পত্র দিয়েছে। কয়লা বিক্রির মৌসুমে তা বিক্রি করতে না পেরে শত কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়েছে খনি কর্তৃপক্ষ। টন প্রতি ২হাজার ৫০০ টাকা কম দামে কয়লা বিক্রির ঘোষণা দিয়েও ক্রেতা পাচ্ছেনা কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ। কয়লা বিক্রির ভরা মৌসুমে কয়লা বিক্রি না হওয়ায় এই লোকসানে পড়তে হয়েছে। কয়লার প্রধান গ্রাহক ইট ভাটা মালিকেরা বলছেন ভরা মৌসুমে খনিকর্তৃপক্ষ কয়লা বিক্রি না করায় ভাটা মালিকরা বাধ্য হয়ে আমদানীকৃত কয়লার উপর নির্ভর করতে হয়।

কয়লা ইয়াডে কয়লা ধারন ক্ষমতা ২লাখ মেঃ টন। বর্তমানে কয়লা ইয়াডে মজুদ কয়লার পরিমান ৫লাখ মেঃ টন। এর ফলে ইয়াডটি ঝুঁকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। কয়লা খনিতে কর্মরত শ্রমিকেরা জানায় কয়লা ইয়াডে ধারন ক্ষমতার অধিক কয়লা মজুদ হওয়ায় কয়লার স্তুপে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে অগ্নিকান্ডের সৃষ্টি হচ্ছে। খনি কর্তৃপক্ষ সেচ দিয়ে পানির মাধ্যমে ইয়াডের মজুদকৃত কয়লা শীতল করার ব্যবস্থা করছে।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিঃ এর কয়েকজন কর্মকর্তা ও ইট ভাটা মালিকেরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কয়লা বিক্রির ভরা মৌসুমে খনি থেকে কয়লা বিক্রি বন্ধ করে দিয়ে কয়েকজন কর্মকর্তা বিশেষ বরাদ্দে কয়লা বিক্রি করে নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করলেও খনিটি পড়েছে লোকসানের মুখে।

এদিকে খনির কয়লা ইয়াডে কয়লা রাখার জায়গা না থাকায় কয়লা উত্তোলন বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়ে উত্তোলনকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চীনা মাইনিং কোম্পানী সিএমসিকে পত্র দিয়েছে বড়পুকুরিয়া কোল মাইন কোম্পানী লিঃ। এতে খনিতে কর্মরত মাইনিং শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। খনি শ্রমিকেরা জানায় যেখানে আমাদের একদিনও ছুটি মঞ্ছুর করা হয় না। সেখানে আমরা কেনও ২মাস বা ৩মাস বসে থাকব। তাদের দাবী আমাদের কে বসিয়ে রাখলে পুরো বেতন দিতে হবে।

এবিষয়ে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও কেউ কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।##