ভারতে ক্ষমতার চাবি তিন নারী রাজনীতিকের হাতে : দিদি, বেহেনজি আর আম্মা

3_64705বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : ভারতের লোকসভা নির্বাচন শুরু হয়েছে সোমবার থেকে। প্রতিবেশী এ প্রভাবশালী দেশটির কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় পরিবর্তন এলে বাংলাদেশের রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ক্ষমতায় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এলে পররাষ্ট্রনীতিতেও আসতে পারে পরিবর্তন। বিভিন্ন জরিপে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, দিলি্লর মসনদ দখলের দৌড়ে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছে বিজেপিই; অর্থাৎ নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পাল্লাই ভারী। কিন্তু সবকিছুকে ছড়িয়ে সামনে এসেছে নতুন কিছু প্রশ্ন। নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে আঞ্চলিক দলগুলোর সমর্থন কি পাবেন নরেন্দ্র মোদি? তাকে কি সমর্থন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা কিংবা উত্তর প্রদেশের চারবারের মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী?

নিজ নিজ রাজ্যে জনপ্রিয়তায় তুঙ্গে রয়েছেন মমতা, জয়ললিতা ও মায়াবতী। রাজ্যে মমতাকে ‘দিদি’, জয়ললিতা ‘আম্মা’ ও মায়াবতীকে ‘বেহেনজি’ বলে ডাকেন তাদের সমর্থকরা। এবারের নির্বাচনের আগে তাদের মুখে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস জোটের সমালোচনা শোনা গেছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা তো এরই মধ্যে কংগ্রেস জোট থেকে বের হয়ে এসেছেন। তার মুখে প্রায়ই কংগ্রেসের সমালোচনা শোনা যায়; একই সঙ্গে সমালোচনা করেছেন বিজেপিরও। তবে সম্প্রতি বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গ সফরকালে মমতা ব্যানার্জির প্রশংসা করে গেছেন। এতে মন গলেনি দিদির। এনডিটিভি জানায়, সম্প্রতি এক বক্তব্যে মমতা বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস দিলি্লতে নতুন সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করবে। ওই বক্তব্যে তিনি কংগ্রেস, বিজেপি ও সিপিএমের সমালোচনা করেন। বিজেপির বিরুদ্ধে ‘দাঙ্গা বাধানোর’ অভিযোগ তোলেন তিনি।

ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের সমালোচনা শোনা গেছে উত্তর প্রদেশের বেহেনজির (মায়াবতী) মুখেও। পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়, কংগ্রেসকে ভোট না দিতে মুসলিম ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী মায়াবতী। শনিবার তিনি বলেন, কংগ্রেসকে ভোট না দেয়ার জন্য আমি মুসলিম ভাইদের আহ্বান জানাব। তবে কংগ্রেসকে সমর্থন করেননি বলে বিজেপি ও সমাজবাদী পার্টিকেও সমর্থন দেননি মায়াবতী। তিনি বিজেপিকেও ভোট না দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, উত্তর প্রদেশের বিজনর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে মোদির কঠোর সমালোচনা করে মায়াবতী বলেন, যদি মোদি প্রধানমন্ত্রী হন, তিনি দেশের সামাজিক ঐক্যকে ভেঙে দেবেন; কারণ তিনিই সেই লোক, যিনি ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গায় উসকানি দিয়েছিলেন।

তামলিলনাড়ুর আম্মাও (জয়ললিতা) সরাসরি মোদিকে সমর্থন করার ঘোষণা দেননি। তবে কংগ্রেসের সঙ্গে তার যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে, সেটা প্রায় পরিষ্কার। কিছুদিন আগে রাজিব গান্ধীর হত্যাকারীদের মৃত্যুদ- দেয় ভারতের সুপ্রিমকোর্ট। কিন্তু জয়ললিতা হত্যাকারীদের মুক্ত করে দেবেন বলে জানান। এআইএডিএমকে দলের নেত্রী জয়ললিতা সরকার গঠনে মোদির সঙ্গে যেতেও পারেন_ বাতাসে এমন গুঞ্জন রয়েছে। তবে ওয়ান ইন্ডিয়ার খবরে জানা যায়, জয়ললিতা এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি বিজেপি কিংবা কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গঠন করবেন না। তার দলের লোকজন তাকে প্রধানমন্ত্রী করার আওয়াজও তুলছেন।

নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনে দিদি, আম্মা আর বেহেনজি কোন পক্ষে যাবেন_ এটা এখনও স্পষ্ট নয়। এরই মধ্যে তিনজনেরই নাম সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় উঠেছে। তাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বাসনা তাদের মনে রয়েছে অন্তর্নিহিতভাবে। হয়তো এ কারণেই ভবিষ্যতে বড় দল হয়ে আত্মপ্রকাশের তাগিদে তারা কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএমকে একই সঙ্গে সমালোচনা করে চলেন।

এবার দেখা যাক, মমতা, জয়ললিতা আর মায়াবতীর হাতে কতটুকু ক্ষমতা রয়েছে। এ তিনজনই নিজ রাজ্যে আসল মহারানী; জনসমর্থন তাদের পক্ষে। সম্প্রতি সিএনএন আইবিএনের জরিপে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস এ লোকসভা নির্বাচনে আসন পেতে পারে ২৩ থেকে ২৯টি, তামিলনাড়ুর জয়ললিতার এআইএডিএমকে পেতে পারে ১৫ থেকে ২১টি, আর উত্তর প্রদেশের মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি পেতে পারে ১০ থেকে ১৬টি আসন।

দিদি, আম্মা আর বেহেনজি মিলে যদি ৬০টির বেশি আসন পেয়েই যান, ভারতের নতুন সরকার গঠনে তা হতে পারে এক বড় বিষয়; অর্থাৎ এ তিনজনকে বাদ দিয়ে কংগ্রেস, কিংবা বিজেপির ক্ষমতায় যাওয়াটা কঠিন হতে পারে। প্রসঙ্গত, লোকসভায় ৫৪৩টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ২৭২টি। বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় আশাবাদী; অন্যদিকে দুর্নীতি, ক্ষমতায় থাকাকালে দেশে নারী নির্যাতনের ঘটনাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বেকায়দায় থাকা কংগ্রেসও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এজন্য সরকার গঠনের জটিল সমিকরণে বড় ভূমিকায় থাকতে পারে আঞ্চলিক দলগুলো_ বিশেষ করে তৃণমূল, এআইএডিএমকে কিংবা বহুজন সমাজ পার্টির মতো দলগুলো।