জম্পেশ পার্টি করেছে শ্রীলঙ্কা

1_64746বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : সোনারগাঁও হোটেল থেকে রূপসী বাংলা হোটেল পায়ে হাঁটা দূরত্ব। শান-শওকতের দিক থেকে দুই হোটেলই সমান। গত একটা মাস বিদেশি দলগুলো সেটা দেখে এসেছে এবং উপভোগ করেছে। সার্বক্ষণিক হৈ-হুল্লোড়, উৎসবমুখর একটি পরিবেশ ছিল রোববার দুপুরেও। অথচ রাতের পরিবেশ এতটাই বিপরীত ছিল যে, একটার সঙ্গে অন্যটার মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সোনারগাঁও হোটেল সুনশান। ওখানে যে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ক্রিকেট দল রয়েছে, কেউ বুঝতেই পারেনি। শেরেবাংলা স্টেডিয়াম থেকে হোটেলে ফিরে ভারতের ক্রিকেটাররা গেছেন যে যার রুমে। রাতের ওই কয়েক ঘণ্টা সময় তাদের কাছে বিভীষিকাময় হয়ে ওঠে। পানশালা জমেনি। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে হোটেলের পানশালায় সুরার সরবরাহ বাড়ানো হয়েছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের আগেই। ভারত জিতলে পার্টি করবে-তার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল হোটেল কর্তৃপক্ষ। অথচ হৈ-হুল্লোড়ের জায়গায় ওই রাতে মরাবাড়ির নীরবতা নেমে এসেছিল সোনারগাঁওয়ে।

রূপসী বাংলায় ছিল তার উল্টো চিত্র। বাস থেকে হৈচৈ করে নামেন শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড়রা। হোটেলে ঢুকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা। হোটেলের নিবাসীদের কেউ আপত্তি করেননি তাদের শোরগোলে; বরং তারাও যে উপলক্ষ পেয়েছিলেন রাতে উৎসব করার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী শ্রীলঙ্কা দলের খেলোয়াড়রা রোববার মধ্য রাত থেকে পার্টি করেছেন সোমবার সকাল পর্যন্ত। গতকাল বেলা ১১টায় হোটেল রূপসী বাংলায় পৌঁছে পাওয়া যায় শ্রীলঙ্কার ম্যানেজার মাইকেল ডি জয়সাকে। তিনি জানালেন, জম্পেশ পার্টি করে সকাল ৭টায় ঘুমাতে গেছেন তার দলের খেলোয়াড়রা। বর্ষীয়ান ম্যানেজার ফুর্তিবাজ কম নন। বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে তিনিও পার্টিতে ডুবে ছিলেন। রূপসী বাংলার পানশালার একাংশ আলাদা করে দেয়া হয়েছিল লঙ্কানদের জন্য। সবাই আকণ্ঠ পান করে তবেই না রুমে গেছেন।

চ্যাম্পিয়ন দলের কোচ পল ফারব্রেস জানালেন, পার্টি বেশি বড় হয়নি। বিশ্বকাপজয়ী দলের কোচের মন ভরার কথাও নয়। দেশে গেলে এর চেয়েও বেশি এবং বড় পরিসরে বিজয় উদযাপন পার্টি করবেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা। রোববার রাতে খেলা শেষ হলেও গতকাল পর্যন্ত দেশে ফেরেনি শ্রীলঙ্কা দল। আজ দুপুরে দেশে ফেরার বিমান ধরবে তারা। দেশে তাদের জন্য হয়তো রাজসিক অভ্যর্থনা অপেক্ষা করছে। ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতিতেই যা যা হয়েছে, পেঁৗছানোর পর না জানি কী হবে। ১৯৯৬ সালে অর্জুনা রানাতুঙ্গার অধীনে পাকিস্তানের মাঠে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। ১৮ বছর পর দ্বিতীয়বার ঢাকায় আইসিসির টুর্নামেন্টের ফাইনাল জিতেছে তারা। অথচ আরও চার-চারবার শ্রীলঙ্কার সুযোগ এসেছিল ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার। প্রতিটি ফাইনালই দুঃখ হয়ে এসেছে দুই অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারার। তিনবারের প্রচেষ্টায় জিতেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সুতরাং ১৮ বছর চেপে রাখা আবেগের বহিঃপ্রকাশ উন্মাদনায় রূপ নিতেই পারে সিংহলরাজ্যে।

রূপসী বাংলা হোটেল শুধু শ্রীলঙ্কার দখলেই ছিল না, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আরেক চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া নারী দলও পার্টি করেছে। তারা অবশ্য শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের মতো নতুন সূর্য দেখে ঘুমাতে যায়নি। হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতে মাঠ থেকে হোটেলে ফিরেছে সন্ধ্যা সন্ধ্যায়। সবার আগে রূপসী বাংলার পানশালা তাদের দখলেই ছিল। শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড়রা মধ্যরাতে যোগ দিয়েছেন। লঙ্কান খেলোয়াড়দের সবাই যখন অচেতন ঘুমে, অস্ট্রেলিয়ার মহিলা ক্রিকেট দল তখন আইসিসির অনুষ্ঠানে ট্রফি নিয়ে ছবি তোলায় ব্যস্ত। লাসিথ মালিঙ্গাকেও ট্রফি হাতে মহিলা দলের অধিনায়কের পাশে বসতে হয়েছিল ছবির পোজ দিতে। অসি মহিলা দল সোমবার রাতে দেশে ফেরার বিমান ধরেছে। রানার্সআপ ভারত গতকাল দুপুরে দেশে ফিরেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনো দলই আজ আর বাংলাদেশে থাকছে না। বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গন আবার চেনা পরিচয়ে ফিরবে।