মনিরামপুরে লোডশেডিংয়ে ইরি-বোরো আবাদ ব্যাহত হবার আশঙ্কা

578মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি :
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং লো-ভোল্টেজের কারনে যশোরের মনিরামপুরে চলতি ইরি-বোরো আবাদের উৎপাদন ব্যাহত হবার আশংকা দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকরা সেচের জন্য পানির স্তর পেতে মাটি খুঁড়ে সেচযন্ত্র স্থাপন করেও রেহাই পাচ্ছেনা। লো-ভোল্টেজের কারনে রোববার রাতে ১০ কেভি একটি ট্রান্সফরমার জ্বলে গেছে। ফলে সেচ দিতে না পেরে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় ২৯ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে প্রতিকুল আবহাওয়া সহ বিভিন্ন কারনে আবাদের লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়নি। তার ওপর বিদ্যুতের লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারনে কৃষকরা তাদের জমিতে চাহিদা অনুযায়ি সেচ দিতে না পারায় ধান ক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে অত্যাধিক খরার কারনে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ সেচ পাম্প দিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় পানি উঠছে খুবই সীমিত।এসব কারনেই ইরি-বোরোর আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের পরিসংখ্যাণ অনুযায়ি চলতি মৌসুমে ১২ হাজার ৬৮৩ টি বিভিন্ন ধরনের সেচ যন্ত্রের সাহায্যে চাষাবাদ করছেন চাষীরা। এর মধ্যে বিদ্যুৎ চালিত ২ হাজার ৮৯৮ টি, ডিজেল চালিত ৯ হাজার ৭৮৫ টি । উপজেলার এড়েন্দা গ্রামের বোরো চাষী আবু মূছা জানান, একেতো পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া তার ওপর বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং লো-ভোল্টেজের কারনে তার নলকুপে পানি উঠছে খুবই সীমিত। ফলে জমিতে প্রয়োজন মাফিক সেচ দিতে না পারায় উৎপাদন নিয়ে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন। বিদ্যুতের লো-ভেল্টোজের কারনে রোববার রাত ১০ টার দিকে শিরালী-মদনপুর গ্রামের ইদ্রিস আলীর গভীর নলকুপের ১০ কেভি ট্রান্সফরমারটি জ্বলে নষ্ট হয়েছে গেছে। ফলে এ নলকুপের আওতায় ১২০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু বিদ্যুৎ সংকটই নয়, খরার কারনে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় ৯/১০ ফুট মাটি খুড়ে সেচ পাম্পটি স্থাপন করতে হয়েছে। হানুয়ার গ্রামের কৃষক সেলিম রেজা বলেন, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ডিজেল চালিত স্যালো মেশিনে প্রচুর তেল খরচ হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। উপজেলা ক্ষুদ্র সেচ যন্ত্র মালিক সমিতির সভাপতি তবিবুর রহমান বলেন, প্রয়োজনীয় সেচের অভাবে কৃষকদের এবার বোরো উৎপাদনে বেশ লোকসান গুনতে হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, এখনও যদি বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় এবং মাটি খুড়ে ৯/১০ ফুট নিচে সেচ পাম্প স্থাপন করা হলে ইরি-বোরো উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা পুরন হতে পারে। এ ব্যাপারে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার(জিএম) সালাহ উদ্দিন-আল-বিতার বলেন, বিদ্যুতের তেমন সমস্যা না থাকলেও সঞ্চালন লাইন অনেক পুরাতন হওয়ায় লোড ম্যানেজমেন্ট করতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি আরো জানান এ ক্ষেত্রে পিক আওয়ারে কলকারখানা, রাইসকুকার, ম্যাজিক চুলা, হিটার, এসি বন্ধ রাখলে লো-ভোল্টেজ কিছুটা লাঘব হবে।