গোবিন্দগঞ্জে ভেজাল পাট বীজে সয়লাব, চাষীরা দিশেহারা

gaibandhaগাইবান্ধা থেকে েেমাঃ আঃ খালেক মন্ডলঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভেজাল ও নিম্ন মানের পাট বীজের সয়লাভ ঘটায় পাট চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। টাকা খরচ করে বীজ বপনের পর সেখান থেকে চারা না গজানোর আশংকা করছেন অনেকেই। জানা গেছে উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়নেই পাট চাষীরা পুরাদমে চলতি মৌসুমের পাট চাষের ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে। অনেকেই জমিতে বীজ বপনের পর সেখানে তুলনা মূলক কম চারা গজানোয় দিশেহারা হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারী অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠা অনেক দোকানে দেদারছে পাট বীজ বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন মুদির দোকানেও রং বে-রংগের প্যাকেট ছাড়াও খোলা পাট বীজ বিক্রি করা হচ্ছে নিবিঘেœ। ভারতীয় বঙ্গবীর, বঙ্গরাজ, মহারাষ্ট্র, ট্রাক্টর ছাড়াও দেশীয় নূর, সরকার সহ বিভিন্ন চমকপ্রদ নামের সুন্দর সুন্দর প্যাকেটে এসব বীজ বিক্রি হচ্ছে ।  একটি সূত্রে জানায়, গোবিন্দগঞ্জের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় সময় উত্তির্ন হওয়া গত বছরের পাট বীজ এবছরের পাট বীজের সাথে মিশিয়ে উল্ল্যেখিত নামের প্যাকেটে প্যাকেটজাত করে গোবিন্দগঞ্জের বিভিন্ন জায়গার সরকার অনুমোন ছাড়া দোকান গুলোতে কিছু কম দামে ছেড়ে দিচ্ছে। এসব ভেজাল ও নিম্ন মানের বীজ তারা চাষীদের ভুলিয়ে চড়া দামে বিক্রি করছে। উপজেলার কামদিয়া, কাটাবাড়ী, সাপমারা, শাখাহার, রাজাহার, গুমানীগঞ্জ, কামারদহ, দরবস্ত, তালুককানুপুর ও মহিমাগঞ্জ সহ আরো  কয়েটি ইউনিয়নের বেশ কিছু পাট চাষী জানায়, বাজার থেকে বীজ কিনে জমিতে বপন করার পর সেই সব বীজ থেকে অনেক কম চারা গজিয়েছে। তারা আসল বীজ চিনতে না পারায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে। গোবিন্দগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় বর্তমানে খোলা বাজারে ভারতীয় উল্ল্রেখিত নামের ২ কেজি ওজনের প্রতি প্যাকেট পাট বীজ ১শ ৮০ থেকে ৯০ টাকা ও দেশীয়। এদিকে বিএডিসি পাট বীজ ৭শ ৭৫ গ্রাম ওজনের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা এছাড়াও দেশীয় বিভিন্ন নামের ১ কেজি প্যকেট ও খোলা পাট বীজ ১শ ২০ থেকে ১শ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, চলতি মৌসুসে গোবিন্দগঞ্জের উপজেলায় মোট প্রায় সাড়ে ১৪শ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এরমধ্যে তোষা পাট ১২শ ৫০ হেক্টর ও দেশী পাট ১শ ৫০ হেক্টর। তবে বৃষ্টি বেশি হলে লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।