লোকসভা নির্বাচন শুরু : কে বসছেন দিল্লির মসনদে

2_64588বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য আসাম ও ত্রিপুরায় ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে আজ থেকে শুরু হচ্ছে লোকসভা নির্বাচন। নির্বাচনে একদিকে রয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট, অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট। এনডিএর পক্ষ থেকে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদির নাম ঘোষণা করা হলে ইউপিএ এখনও প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নিয়ে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধীকেই সম্ভাব্যের তালিকায় রাখা হচ্ছে। তিল থেকে তাল হয়ে ওঠা আম আদমি পার্টির (আপ) অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নামও তুলছেন কেউ কেউ। প্রশ্ন আসছে, তাহলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে কে এগিয়ে আছেন; কে বসছেন দিলি্লর মসনদে? লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারতে, এমনকি বিদেশেও অনেক জরিপ হয়েছে। ভারতের এনডিটিভি, জিনিউজ, সিএনএন-আইবিএন ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের পিউ রিসার্চ জরিপে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদিকে এগিয়ে রাখছে। শুক্রবার জি-তালিম জরিপে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে উঠে আসবে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি। জিনিউজের এ জরিপে দেখা গেছে, ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভারতীয় বিজেপিকে ভোট দেবেন। পক্ষান্তরে ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার কংগ্রেসকে সমর্থন করেছেন। আর অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির সমর্থন করেছেন প্রায় ৩ শতাংশ ভারতীয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভারতীয় নরেন্দ্র মোদিকে দেখতে চান। রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান ২১ দশমিক ৩ শতাংশ ভারতীয়। চার শতাংশ ভারতীয় কেজরিওয়ালকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান। এ জরিপে বলা হয়, ভারতের রাজধানী দিলি্ল ও হরিয়ানা রাজ্যে নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে অনেক বেশি। এতে বলা হয়, নির্বাচনে বিজেপি যেখানে এককভাবে ২১৫ থেকে ২২৫ আসন পেতে পারে, সেখানে কংগ্রেস পেতে পারে ১২১ থেকে ১৩২টি আসন। কংগ্রেসের জনপ্রিয়তা কমার পেছনে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দুর্নীতি ও বেকারত্বকে দায়ী করেছেন ভারতীয়রা। ভারতের লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশ গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত। কারণ সেখানে ৮০টি লোকসভা আসন রয়েছে। ভারতের আরেকটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির জরিপে বলা হয়, উত্তর প্রদেশে এবার ব্যাপক সাড়া পেতে পারে বিজেপি। সেখানে ৫৩টি আসন তাদের ঝুলিতে আসতে পারে। উত্তর প্রদেশের একটি আসন থেকে লড়ছেন খোদ নরেন্দ্র মোদিও। এর আগে ২০০৯ সালের নির্বাচনে উত্তর প্রদেশ থেকে মাত্র ১০টি আসন পায় বিজেপি। ১৯৯৮ সালে বিজেপি সেখানে ৫৭টি আসন পেয়েছিল। লোকসভা নির্বাচন নিয়ে ভারতের বাইরে থেকেও বিশেষজ্ঞরা জরিপ চালিয়েছেন। সেসব জরিপেও নরেন্দ্র মোদিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চের জরিপে বলা হয়, অসুখী ভারতীয়রা বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের দিকে হেলছেন। এতে বলা হয়, ৬৩ শতাংশ ভারতীয় বিজেপিকে সমর্থন করছেন, আর কংগ্রেসকে সমর্থন করছেন ১৯ শতাংশ ভারতীয়। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত এ জরিপ চালানো হয়। জরিপে বলা হয়, ক্ষমতাসীন সরকার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৭০ শতাংশ ভারতীয়। এছাড়া কংগ্রেসের চেয়ে বিজেপিকেই বেশি পছন্দ করছেন তরুণরা। জরিপে বিজেপি এগিয়ে থাকায় নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু ভারতের মতো বড় দেশে নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জটিল সমিকরণে ভিন্ন কিছু হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়ার মতো নয়। সেক্ষেত্রে জাতীয় দলগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক দলগুলোও এগিয়ে আসতে পারে সামনে। উত্তর প্রদেশের মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি, ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিএম), শরদ পাওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির মতো দলগুলোর সঙ্গে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস, জয়ললিতার এআইএডিএমকে বড় ভূমিকায় আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এসব দলেরও কোনো কোনো নেতা নিজেদের সামনে নিয়ে আসছেন।

আসাম ও ত্রিপুরায় ভোটগ্রহণ : আসাম ও ত্রিপুরায় ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু ৯ দফা লোকসভা নির্বাচন চলবে ১২ মে পর্যন্ত। নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে ১৬ মে। এ নিয়ে রাজ্য দুটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শনিবার নির্বাচনী প্রচারাভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। ত্রিপুরা কেন্দ্রে মূলত লড়াই সিপিআইএম ও কংগ্রেসের মধ্যে হলেও এবারই প্রথম সেখানে প্রার্থী দিয়েছে মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূল কংগ্রেস। লড়াইয়ে রয়েছে বিজেপিও। এছাড়া কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ত্রিপুরা প্রগতিশীল গ্রামীণ কংগ্রেসের সুবল ভৌমিক। ৯ এপ্রিল-পরবর্তী ভোটগ্রহণ হবে অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ড রাজ্যে। ১০ এপ্রিল নির্বাচন হবে বিহার, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা, জম্মু-কাশ্মীর, ঝাড়খন্ড, কেরালা, মধ্য প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, উড়িষ্যা, উত্তর প্রদেশ, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লাক্ষা দ্বীপে। ১২ এপ্রিল ভোট হবে আসাম, সিকিম, ত্রিপুরা, চন্ডিগড় ও দাদরা অ্যান্ড নগর হাভেলিতে। এরপর ১৭ এপ্রিল ভোট চলবে বিহার, ছত্তিশগড়, গোয়া, জম্মু-কাশ্মীর, ঝাড়খন্ড, কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, মণিপুর, উড়িষ্যা, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে। ২৪ এপ্রিল ভোট হবে আসাম, বিহার, ছত্তিশগড়, জম্মু-কাশ্মীর, ঝাড়খন্ড, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, উত্তর প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে। ৩০ এপ্রিল ভোট হবে বিহার, গুজরাট, জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর প্রদেশে। ৭ মে ভোট অনুষ্ঠিত হবে বিহার, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর, উত্তরাখন্ড, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর প্রদেশে। এরপর শেষ দফা ভোট অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। এদিন পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উত্তর প্রদেশে ভোট হবে। ইভিএম মেশিনের সাহায্যে হবে এবারের ভোটগ্রহণ। ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় জানা যাবে দিল্লির মসনদে কে বসছেন।