তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করুন : জেবেল রহমান গানি

E-mail JRGhaniভারতের আভ্যন্তরিন রাজনীতির কারণে তিস্তা একটি মৃত নদীতে পরিনত হতে চলছে। কিন্তু, বাংলাদেশের শাসগোষ্টি এ ব্যাপারে নিরব। ক্ষমতায় টিকে থাকা আর ক্ষমতার যাওয়ার লড়াইয়ে সোচ্চার হলেও শাসক দলগুলো দেশের স্বার্থে নিরব রয়েছে। তিস্তার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ন্যাপ নেতৃবৃন্দ।

আজ রবিবার সকালে নয়াপল্টনস্থ যাদু মিয়া মিলনায়তনে ‘তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবীতে’ বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগরীর সভায় নগর সভাপতি মোড়ল আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ্ব গোলাম সারওয়ার খান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ শাহজাহান সাজু, স্বপন কুমার সাহা, নগর সাধারন সম্পাদক মোঃ শহীদুননবী ডাবলু, বাংলাদেশ যুব ন্যাপ যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মশিউর রহমান, জাতীয় ছাত্রদল সভাপতি এম.এন. শাওন সাদেকী, ন্যাপ নগর সহ-সভাপতি শাহ মোঃ শাহ আলম, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ শামিম ভুইয়া, সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন ভানু, মেহেদী হাসান সোহেল, জিল্লুর রহমান পলাশ প্রমুখ।

জেবেল রহমান গানি বলেছেন, ভারত গজলডোবা ব্যারেজের সবগুলেআ গেইট বন্ধ করে দিয়ে তিস্তা থেকে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। ফলে পানি শূণ্যতায় ঐ নদীর পাড়ের ১২ উপজেলার প্রায় ৮০হাজার হেক্টর জমির বরো আবাদ বিপর্যয়ের মুখে। এই বিস্তির্ন এলাকার কৃষকসহ কৃষির সাথে জড়িত বিশাল জনগোষ্টির মাঝে হাহাকার শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ভারতের পানি আগ্রাসনের ফলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিখাতে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে এসেছে। ভারতের অব্যাহত পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তথা তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, বাংলাদেশের শাসকগোষ্টির ক্ষমতায় টিকে থাকা ও ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াইয়ে নতজানু ও ভারত তোষননীতির কারনেই গত ৪৩ বছরেও ভারতের নিকট থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে পারিনি। ফারাক্কা, টিপাইমুখ, তিস্তা সমস্যা সমাধানে আমাদের সরকারগুলোর নতজানু পররাষ্ট্রনীতিই অধিকাংশে দায়ি। তিনি বলেন, ভারতের অব্যাহত পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে জাতীয় ঐক্য গঠনের মাধ্যমে গনপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পরলে জাতি হিসাবে আমাদের কঠিন মাশুল দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মোড়ল আমজাদ হোসেন বলেছেন, শুধু নির্বাচিত হলেই একটি সরকার দেশপ্রেমিক হয় না। স্বাধীনতার ৪৩বছরে বার বার ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও ভারতীয় পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে না পারা আমাদের চরম ব্যর্থতা।