সিগন্যাল মিলল ব্ল্যাক বক্সের!

17948_bbবিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে ব্ল্যাক বক্স থেকে আসা সিগন্যালের মতো সিগন্যাল পেয়েছে চীনের একটি জাহাজ। এ জাহাজটি মালয়েশিয়ার বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পর সমন্বিত উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। চীন দাবি করেছে তাদের জাহাজ সাইসুন-০১ ওই সিগন্যাল পেয়েছে। প্রতি সেকেন্ডে এর কম্পন ৩৭.৫ হার্টজ। নিখোঁজ বিমানের ব্ল্যাক বক্সের সিগন্যালের সমান এই কম্পনাংক। ফলে অনেকেই ধারণা করছেন, ওই সিগন্যাল আসছে নিখোঁজ বিমানের ব্ল্যাক বক্স থেকে। চীনের সরকারি একটি সংবাদ সংস্থা বলেছে, ওই জাহাজে একটি ব্ল্যাক বক্স চিহ্নিতকারী যন্ত্র ছিল। তাতেই গতকালই ধরা পড়ে ওই সিগন্যাল। এ খবর প্রচার হওয়ার পর লোকজনের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, নিখোঁজ বিমানের ব্ল্যাক বক্স পাওয়া গেছে। গতকাল এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। যদি এই তথ্য সত্যি হয় এবং তা নিখোঁজ বিমান বোয়িং৭৭৭-এর হয় তাহলে তা নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। গত ৮ই মার্চ এমএইচ ৩৭০ মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে চীনের উদ্দেশে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। তারপর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বড় প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। কিন্তু রহস্যের কোনই কূল-কিনারা হচ্ছে না। চীনের জাহাজে সিগন্যাল ধরা পড়লেও তা যে নিখোঁজ বিমানের ব্ল্যাক বক্সের নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ওদিকে, বিমান নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক মাস কেটে গেছে। এখনও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন তথ্য মেলেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে বিমানটি। এ ধারণা থেকেই বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারে শুরু হয়েছে জোর তৎপরতা। অনুসন্ধানে সমন্বয় করছে জয়েন্ট এজেন্সি কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (জেএসিসি)। অস্ট্রেলিয়ার পার্থ থেকে জেএসিসি’র কর্মকর্তারা বলেছেন, গতকাল এ উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছে ১৩টি বিমান ও ১১টি জাহাজ। ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারে ব্যবহার করা হচ্ছে সর্বশেষ প্রযুক্তি। সমুদ্রে নিমজ্জিত থাকায় দ্রুত ব্ল্যাক বক্সের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শুক্রবারে অস্ট্রেলিয়ার উদ্ধারকারী দলের প্রধান অঙ্গাস হাউসটন বলেছেন, ব্লাক বক্সের ব্যাটারি ৩০ দিন পরেই শেষ হয়ে যেতে থাকে। এ জন্য স্বল্পতম সময়ে তা উদ্ধারে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। জেএসিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, এখন ২ লাখ ১৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। মালয়েশিয়া এ বিষয়ে গঠন করেছে তিনটি কমিটি। সেগুলোর একটি নিখোঁজ বিমানের আরোহীদের স্বজনদের পরিবারকে দেখবে। দ্বিতীয়টি অনুসন্ধান দলের ওপর নজরদারি করবে। তৃতীয় কমিটি সম্পদ বিনিয়োগের বিষয়টি দেখবে। এ ঘোষণা দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা ও পরিবহন মন্ত্রী হিশাম উদ্দিন হোসেন। তিনি বলেছেন, এ উদ্ধার অভিযানে বৃটিশ সাবমেরিন এইচএমএস টায়ারলেস অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। বৃটিশ রয়েল নেভির অনুসন্ধানী জাহাজ এইচএমএস ইকো এবং অস্ট্রেলিয়ার ওশিন সিল্ড ৬৫০০ ফুট থেকে ১৩০০০ ফুট গভীরে অনুসন্ধান চালাচ্ছে, এর মাধ্যমে ব্ল্যাক বক্সের বা কোন ধ্বংসাবশেষের কোন তথ্য মেলে কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে।