মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

17763_b5বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : রাজধানীতে এক ব্যবসায়ীকে বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। তার নাম আনিসুর রহমান। গতকাল সকাল সোয়া সাতটায় মোহাম্মদপুর থানাধীন কাটাসুরে সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, চাঁদার টাকা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা আনিসুর রহমানকে গুলি করে হত্যা করেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বসিলা রোডের ময়ূরী ভিলার পেছনে সকাল সোয়া ৭টার দিকে একটি মাইক্রোবাস ও দু’টি মোটর সাইকেলের ৪-৫ আরোহী আনিসুর রহমানকে গুলি করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ, র‌্যাব ও সিআইডি ক্রাইম সিন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ঘটনাস্থল থেকে হত্যা আলামত সংগ্রহ করেন। মোহাম্মদপুর থানার ওসি আজিজুর রহমান জানান, অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তিনি জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আনিসুরকে হত্যা করেছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের সনাক্ত করতে পুলিশের সব তৎপরতা চলছে। পুলিশ স্থানীয় সূত্র ও স্বজনেরা জানান, ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান মোহাম্মদপুরের পশ্চিম কাঁটাসুরের ১ নম্বর বসিলা রোডের ২৪৯/৫ নম্বর আবদুুল মতিনের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে গত তিন মাস আগে ভাড়ায় ওঠেন। অনিক ও আনিতা নামে তার দু’টি সন্তান আছে। তারা দু’জনে মোম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের শিক্ষার্থী। আনিস কাঁটাসুর এলাকায় গত ২০ বছর ধরে গ্রিল ব্যবসায় জড়িত। সম্প্রতি তিনি গ্রিল ব্যবসা বন্ধ করে জমি কেনা-বেচার ব্যবসা শুরু করেন। আশুলিয়া ও কেরানীগঞ্জের আটিবাজার, সিরাজনগরের আশপাশ এলাকায় জায়গা কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন। স্ত্রী ইসমত আরা অসুস্থতার জন্য গতকাল সকালে ছোট ছেলে অনিক ও বড় মেয়ে আনিতাকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে রিকশাযোগে বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কাঁটাসুরের তিন রাস্তার মোড়ে সন্ত্রাসীরা (তার বাসার সামনে) তাকে লক্ষ্য করে ক’রাউন্ড গুলি ছোড়ে। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে পথচারী ও এলাকার বাসিন্দারা তখন আতঙ্কিত হয়ে উঠেন। এ সময় পথচারীরা প্রাণ বাঁচানোর জন্য ভয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ত্রাসীরা হত্যা অপারেশনে একটি মাইক্রোবাস ও দু’টি মোটর সাইকেল ব্যবহার করে। মাইক্রোবাসটি ঘটনাস্থলের অদুরে দাঁড় করানো ছিল। আনিসুর রহমান রিকশা নিয়ে বাসার কাছে এলে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা পায়ে হেঁেট আসার পথে খুব কাছে থেকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি আনিসুর রহমানের বুকের ডান পাশে বিদ্ধ হওয়ার পর বাম পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরে সন্ত্রাসীরা  দ্রুত মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্বজনেরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। নিহতের ছোট ভাই মুক্তার জানান, তার বড় ভাই আনিসুরের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল বলে তার জানা নেই। তবে সাভারের আশুলিয়ায় একটি জমি নিয়ে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন সময়ে তাকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাত বলে জানান। তিনি আরও বলেন, বড় ধরনের ঝামেলা এড়ানোর জন্য তার ভাই দু’মাস আগে জমিটি একটি বড় কোম্পানির কাছে আড়াই কোটি টাকায় বিক্রি করেন। অপর একটি সূত্র জানায়, ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের সাত মসজিদ মার্কেটের একটি সমিতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সমিতির পক্ষ থেকে সাভারের আশুলিয়ায় ওই জায়গা ক্রয় করা হয়। পরে আশুলিয়ার কিছু লোকজনের সঙ্গে ঝামেলা হওয়ায় জায়গাটি বিক্রি করে দেয়া হয়। জমি বিক্রির পরে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা আনিসুরের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল বলে সূত্র জানায়। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। নিহতের স্ত্রী জানান, তার শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার স্বামী সকালে তার দুই সন্তানকে স্কুলে দিতে যান। যাওয়ার সময় আমাকে বলেছিল সকালের নাস্তা হোটেল থেকে নিয়ে আসবে। আমার জন্য নাস্তা এনেছিল ঠিকই কিন্তু সেই নাস্তা আর খাওয়া হয়নি। বাড়ির নিচতলার ভাড়াটিয়া আবুল বাশারের স্ত্রী রহিমা বেগম জানান, সকালে তিনি গেটের সামনে কয়েকটি শব্দ শুনতে পান। পরে দরজা খুলে দেখেন ব্যবসায়ী আনিস গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন।