প্রধানমন্ত্রীকে যা বলেছেন ডানকান

 17756_f4বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : প্রায় চল্লিশ মিনিটের আলোচনা। শুরু উষ্ণ অভ্যর্থনা আর প্রশংসায়। বিদায়ও ঠিক সে ভাবেই। জাতীয় সংসদ অধিবেশনকেন্দ্রিক ব্যস্ততার সঙ্গে মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের সিডিউল ঠিক হয়। বৈঠকের স্থান সংসদ নেতার কার্যালয়। সময় বুধবার রাত পৌনে ৭টা। নির্ধারিত সময়ের মিনিট পাঁচেক আগেই জাতীয় সংসদ ভবনে পৌঁছান বৃটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এলান ডানকান। সঙ্গে ঢাকাস্থ বৃটিশ হাই কমিশনার রবার্ট গিবসন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর যুক্তরাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোন মন্ত্রীর প্রথম সফর এটি। সঙ্গত কারণেই আলোচনায় দশম সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গ। বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোট ছাড়াও সরকারি জোটের বাইরে থাকা অনেক রাজনৈতিক দল ওই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ডানকানের ভাষায়, নির্বাচনটি ছিল অস্বাভাবিক, তবে অবৈধ নয়। বৃটেনের সঙ্গে এ অঞ্চলের সম্পর্ক-যোগাযোগ বহুমাত্রিক। বরাবরই তারা বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণকামী। ক্যামেরন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি ডানকান প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার সরকারের সেই অবস্থান ও ভূমিকা স্পষ্ট করেছেন। জানিয়েছেন, এ দেশের মানুষের কল্যাণে অতীতে বৃটেন যেভাবে অবদান রেখেছে ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। তার পুনঃনির্বাচিত হওয়া ও সরকার গঠনকে ‘ইতিহাসের নতুন অধ্যায়’ বলে মন্তব্যও করেছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গার্মেন্ট শিল্পের নারী শ্রমিকদের উন্নয়ন ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। আগামী জুনে লন্ডনে যৌন নিপীড়ন বিরোধী শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। তবে সদ্যসমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাল ভোট ও সহিংসতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে হতাশা সেটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন বৃটিশ প্রতিমন্ত্রী। খোলাসা করেই বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়- আন্তর্জাতিক মহলকে এমন ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, আমলা ও কূটনীতিকরা। বিভিন্ন বৈঠকে তারা জোর দিয়ে এটি বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ডানকান বলেন, অতীতেও আপনার অধীনে অনেক স্থানীয় নির্বাচন হয়েছে। তাতেও এমন চিত্র দেখা যায়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা তো আপনি-ই (প্রধানমন্ত্রী) তৈরি করেছেন। দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠন করা ‘শক্তিশালী শেখ হাসিনা’র অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে- এটাই তো ছিল কাঙ্ক্ষিত। তাছাড়া, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনে দৃষ্টি ছিল সবার। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে সরকারের চেষ্টার কথা বলেছেন। স্থানীয় নির্বাচনে অনেক কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে- সেই বাস্তবতাও তুলে ধরেছেন। বিএনপি কার পরামর্শে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছে- বৈঠকে এ বিষয়টি জানার চেষ্টা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। বৃটিশ মন্ত্রীর সঙ্গে থাকা হাই কমিশনার রবার্ট গিবসন অবশ্য তার তরফে এমন পরামর্শ দেয়া হয়নি বলে আশ্বস্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন বৃটিশ মন্ত্রী। রাতে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনে প্রায় চল্লিশ মিনিট স্থায়ী হয় ওই বৈঠক। চার দিনের সফর শেষে গতকাল তিনি লন্ডনে ফিরে গেছেন।