বিদ্যুৎ করিডোর পাচ্ছে ভারত

17754_f6বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ করিডোর পাচ্ছে ভারত। ভারতের উত্তর-পূর্ব থেকে পশ্চিম অঞ্চলে ৬০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিয়ে যাওয়ার গ্রিড লাইনের রুটের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে দুই দেশের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি। দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় এ গ্রিড লাইন আসামের রাঙ্গিয়া রাওতা থেকে বড়পুকুরিয়া হয়ে আবার ভারতে যাবে। এ গ্রিডের বিদ্যুৎ বাংলাদেশও ব্যবহার করতে পারবে বলে স্টিয়ারিং কমিটি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে স্টিয়ারিং কমিটির সপ্তম বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সে দেশের বিদ্যুৎ সচিব পি কে সিনহা। বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হয় দুই পক্ষ থেকে। তবে এ করিডোর থেকে বাংলাদেশ কি সুবিধা পাবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম বলেন, এখানে আজকের সবচেয়ে সফল বিষয় হচ্ছে, ভারত-বাংলাদেশের যৌথ কারিগরি কমিটি একটা প্রতিবেদন দিয়েছে। তাদের সেই প্রতিবেদন আমরা নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছি। অনুমোদনের প্রেক্ষিতে অন্য একটি কারিগরি টিম করে দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় গ্রিড লাইনের বিষয় তারা পরীক্ষা করে দেখবেন। করিডোর অনুমোদন করাকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন ভারতের বিদ্যুৎ সচিব পি কে সিনহা। এ করিডোর থেকে বাংলাদেশ কি সুবিধা পাবে এমন প্রশ্নে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, আমাদের মনে হয় এখনও হিসাব করার সময় আসেনি। রিজিওনাল কো-অপারেশন ইজ এ উইন উইন সিচুয়েশন। এখানে উভয় দেশের বেনিফিট অবশ্যই। আমরা ওখান থেকে অবশ্যই কিছু বিদ্যুৎ পাবো। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভারতকে বিদ্যুৎ করিডোর দেয়ার বিষয় ছাড়াও বৈঠকে ভারত থেকে ১৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ভেড়ামারা-বহরমপুর আন্তঃদেশীয় গ্রিড লাইনের মাধ্যমে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি কারিগরি কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালের মধ্যে বিদ্যুৎ সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ভারতের বিদ্যুৎ সচিব। কিভাবে এই দেশগুলো বিদ্যুৎ নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা করতে পারে তা নিয়ে মে মাসে দিল্লিতে বৈঠক হবে বলে জানান তিনি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রামপালের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট উৎপাদন শুরু করবে বলেও জানান ভারতের বিদ্যুৎ সচিব। তিনি বলেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে বাংলাদেশ-ভারত ১৫ শতাংশ করে ৩০ শতাংশ অর্থায়ন করবে। আর ৭০ শতাংশ অর্থ আসবে ঋণের মাধ্যমে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য সুখের বিষয়টি হচ্ছে ভারত ১৫ শতাংশ বিনিয়োগ করলেও কোন বিদ্যুৎ নেবে না। পুরো বিদ্যুৎই পাবে বাংলাদেশ। বিদ্যুতের মূল্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ফাইন্যান্সিয়াল ক্লোজিং হলে বিষয়টি বলা যাবে। তিনি বলেন, ভারতে এ ধরনের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ পড়ছে বাংলাদেশী টাকায় সাড়ে ৬ টাকার মতো। এর সঙ্গে ঋণের বিষয়টি যুক্ত হয়ে বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হবে। বৈঠকে বাংলাদেশী প্রতিনিধি দলের অন্যদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক নিলুফার আহমেদ, বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব আনোয়ার হোসেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য তমাল চক্রবর্তী, পাওয়ার গ্রিড অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুম আল বেরুনী। ভারতের প্রতিনিধি দলে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ, ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব যুথি অরোরা, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী, এনটিপিসির চেয়ারম্যান অরূপ রায় চৌধুরীসহ ১২ জন অংশ নেন বৈঠকে।