দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের -কেসিসি মেয়র

Kcc (30-3-14)খুলনা ব্যুরো : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেছেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের। অতীতে এ অঞ্চলে মিষ্টি পানির প্রবাহের স্বল্পতা ছিল না। কিন্তু নদী শাসন ও ধীরে ধীরে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করায় পানির প্রবাহ কমে আসে এবং পানিতে লবনাক্ততার হার বৃদ্ধি পেতে থাকে। এছাড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানের অপরিশোধিত বর্জ্য অবাধে নদী ও বিভিন্ন জলাশয়ে ফেলার কারণে সুপেয় পানির জলাধার, পুকুর ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।সিটি মেয়র রবিবার সকাল ১০টায় নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘‘খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নিরাপদ পানি সংকট ও তার ভবিষ্যৎ’’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। বিশ্ব পানি দিবস ২০১৪ উপলক্ষে ‘পানি ও শক্তি’ প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে সিডা ও ওয়াটার এইড এর সহযোগিতায় স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা নবলোক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সিটি মেয়র আরো বলেন মহানগরীর অভ্যন্তরীণ লেক, পুকুর বা যে কোন জলাধার পরিবেশেরই অংশ। কেসিসি’র পক্ষ থেকে এগুলি সংরক্ষণের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নদী ও খালগুলি বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অবৈধ দখলদার ও অসচেতনতা খালগুলি রক্ষা করার বড় অন্তরায় উল্লেখ করে তিনি বলেন সুপেয় পানি আমরা উৎপাদন করতে পারবো না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে হলে সরকারি পর্যায় থেকে সঠিক পানি নীতি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে। খুলনা ওয়াসা’কে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদের সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। নবলোক-এর প্রধান নির্বাহী কাজী ওয়াহিদুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন খুলনা ওয়াসা’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মাদুসুর রহমান। স্বাগত বক্তৃতা করেন নবলোক-এর সমন্বয়কারী নূর মোহাম্মদ। সভায় জানানো হয় উপকূলীয় শহর খুলনায় বর্তমান জনসংখ্যা ১ মিলিয়ন এবং আগামী ২০৫০ সাল নাগদ এ জনসংখ্যা দাড়াবে প্রায় ২ মিলিয়নে। তখন পানির চাহিদা দাড়াবে দৈনিক ৪৮৫ মিলিয়ন লিটার। বর্তমানে ওয়াসা মাত্র নগরীর ১৭ ভাগ এলাকায় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এখানে পানির প্রধান সমস্যা লবনাক্ততা। সম্প্রতি ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ভূ-গর্ভস্থ পানির পাশাপাশি মধুমতি নদীর পানিকে নগরীতে সরবরাহের ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু গবেষনায় দেখা গেছে সেটিও ভবিষ্যতে লবনাক্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। বক্তারা সুপেয় পানির সংকট উত্তরণে বিকল্প পানির উৎস হিসেবে মহানগরীর অভ্যন্তরীণ পুকুর বা জলাধারগুলি রক্ষণাবেক্ষণ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।