কুড়িগ্রামে সার্কাস ও লটারীর নামে চলছে জমজমাট প্রতারনার ব্যবসা

korigramসৌরভ কুমার ঘোষ,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
প্রশাসনের অনুমতিতেই কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার আনন্দ বাজার নামক এলাকায় দি রওশন সার্কাস ও র‌্যাফেল ড্র লটারীর নামে চলছে জমজমাট প্রতারনার ব্যবসা। প্রতারিত হচ্ছেন গ্রামাঞ্চলের দারিদ্র নারী-পুরুষসহ খেটে খাওয়া মানুষ জন। এরই মধ্যে প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। লোভে পড়ে টিকিট কেটে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ। প্রশাসন খুঁজছে চিত্ত বিনোদন।

জানা গেছে, গত ৮ মার্চ থেকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই উলিপুরের আনন্দ বাজারের জিয়াপুকুর এলাকায় সার্কাসের পাশাপাশি বাইসাইকেল, টেলিভিশন ও মটর সাইকেলের মতো আর্কষনীয় পুরস্কার ঘোষনা করে লটারির টিকিট বিক্রি করে আসছে। প্রতিদিনই উলিপুর, রাজারহাট, চিলমারী, কুড়িগ্রাম সদরসহ পার্শ্ববতী উপজেলা গুলোতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি করছে লটারী কতৃপক্ষ। এর মধ্যে মাত্র দেড় থেকে ২ লাখ টাকার পুরস্কার দিয়ে বাকী টাকা সার্কাস ও লটারীর পরিচালনা মালিকসহ আয়োজক কমিটি হাতিয়ে নিচ্ছে।

এ অবস্থায় লটারী পরিচালনা কমিটি ঘোষিত পুরস্কার মটর সাইকেল পাওয়ার আশায় ২০ টাকা মুল্যের ১০ থেকে ৫০টি টিকিট প্রতিদিনই কিনছেন একেক জন মানুষ। ভাগ্য বদলের আশায় গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি নারী-পুরুষ প্রতিদিনই ২ শ টাকা থেকে ১ হাজার টাকার পর্যন্ত টিকিট কিনলেও দীর্ঘ ২২ দিনেও তাদের ভাগ্যে জোটেনী কোন পুরস্কার।

রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের বালাকান্দি গ্রামের রানা মন্ডল জানান, এ গ্রামের মহিলারা জমানো টাকা ছাড়াও ধান-চাল বিক্রি  করে লটারীর টিকিট ক্রয় করলেও এখন পর্যন্ত কারও ভাগ্যে কোন পুরস্কার জোটেনী। তবুও সারাদিন হারভাঙ্গা পরিশ্রমের পর দিন মজুরের টাকায় লটারীর টিকিট কাটছেন এ গ্রামের মানুষ। এতে করে অনেকের ঘরে খাবার না থাকলেও সে চিন্তা বাদ দিয়ে লটারীর দিকে ঝুকে পড়েছেন সবাই।

উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার মনছের আলী জানান, লটারীর টিকিট কিনতে কিনতে এ এলাকার মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে প্রায় প্রতিটি গ্রামে সুপারী চুরির ঘটনা ঘটছে। এভাবে চলতে থাকলে অহরহ চুরির পাশাপাশি ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটবে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি শনিবার রাত সাড়ে ১১ টায় উলিপুর থেকে কুড়িগ্রামে আসতে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের আনন্দ বাজারের জিয়াপুকুর এলাকায় এসে অবাক হয়েছি। শিশু বৃদ্ধসহ সকল বয়সের মানুষের ভীড়ে আমার লটারীর স্থান পার হতে সময় লেগেছে দেড় ঘন্টা। প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ লটারী শুরুর অপেক্ষায় ভীড় জমিয়েছে।

লটারীতে মটর সাইকেল পাওয়া রাজারহাট উপজেলার আব্দুস ছালাম জানান, লটারীতে যে মটর সাইকেল দিয়েছে তার দাম ৫০হাজার টাকাও হয় না। এমনকি এ মটর সাইকেলটি কেউ কিনতেও চাচ্ছে না।

এছাড়া রং উঠা ও পুরাতন মটর সাইকেল দেয়ার অভিযোগও করেন অনেকে।

এ ব্যাপারে লটারীর পরিচালক আতাউর জানান, আমি লটারীর এ প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করি। সার্কাস ও লটারী পরিচালনায় স্থানীয় কমিটি প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই চালাচ্ছে।

লটারী ও সার্কাস কমিটির সভাপতি নুর ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, জেলা প্রশাসকের অনুমতি স্বাপেক্ষে এখানে লটারী পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রথমে ১৫ দিনের অনুমতি শেষ হয়ে গেলে আবারো ১০ দিনের অনুমতি নেয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক এ বি এম আজাদ জানান, সাধারণ মানুষের চিত্ত বিনোদনের বিষয়টি বিবেচনা করে সার্কাসের পাশাপাশি র‌্যাফেল ড্র এর অনুমতি দেয়া হয়েছে। এতে সাধারন মানুষের কোন ক্ষতি হবে না বরং এখান থেকে সাধারন মানুষ বিনোদন পাবে।