মনপুরার জেলেরা অন্য পেশা খুজছেন

Vola-001 মোঃ ছালাহউদ্দিন,মনপুারা প্রতিনিধি :
চারিদিকে মেঘনা নদী বেষ্ঠিত মনপুরার জনপদ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভুমি মনপুরার অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মতস্য শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে পরিবার পরিজনের ভরন পোষন জোগাড় করে সংসার চালায়। উপজেলার৭ হাজার ৪শত৭৪জন  জেলে নিবন্ধিত হয়েছেন। এখানকার মানুষের প্রধান পেশা কৃষি ও মতস্য। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে জেলেরা মেঘনায় মাছ শিকারের কাজে ব্যস্ত থাকেন। ইলিশ মৌসুম শেষে জেলেরা বেকার হয়ে পড়ে। এখানকার জেলেরা অত্যান্ত গরীব। অধিকাংশ জেলেরা মতস্য আড়তদারের কাছে জিম্মী। জেলেরা লক্ষ লক্ষ টাকা দাদন নিয়ে জাল,নৌকা বা ট্রলার তৈরি করে অভাবের তাড়নায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেঘনায় ইলিশ মাছ শিকার করে। মার্চ ও এপ্রিল ২মাস মেঘনায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় এবং অন্য কোন আয়ের উৎস্য না থাকায় পরিবার পরিজনের ভরন পোষন জোগাতে জেলে পেশা ছেড়ে দিয়ে দিন মজুর,শ্রমিকের কাজ হন্য হয়ে খুজছেন জেলেরা। আবার অনেক জেলেকে দেখা যায় রিক্্রা চালাতে। জেলেদের বিকল্প কোন কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা না থাকায় তারা পরিবারের ভরন পোষন জোগাড় করতে অন্য পেশায় ধাবিত হচ্ছেন। রবি মৌসুম শেষ পর্যায়ে অন্য কোন কাজ না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রতিদিন শত শত জেলে ঢাকা,নোয়াখালী,চট্রগ্রাম কাজের খুজে ছুটছেন।সেখানে গিয়ে জেলেরা শ্রমিক পেশা হিসেবে কাজ করছেন।আবার অনেকে দিন মজুর হিসাবে কাজ করছেন। মেঘনা পাড়ে হাটতে হাটতে দেখা মিলে চরজ্ঞানের মোঃ মোছলেহউদ্দিন মাঝি,জসিম মাঝি, মিজান মাঝির সাথে। আলাপ আলোচনার এক পর্যায়ের বলেন আংগো সব জাগা জমি মেঘনা নদীর মাঝে।আংগো এহন কোন জাগা জমি নাই।বর্ষা মৌসুমে ইলশ মাছ ধইরা পোলাইন ছাইনগুলো লইয়া দুগা ডাল ভাত খাই। এহন কোন কাজ কাম নাই।শত শত লোক প্রতিদিন সংসারের ভরন পোষন জোগাতে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। ইলিশ মৌসুম শেষে জেলেদের জন্য বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় তারা পরিবার পরিজন নিয়ে দুঃখ কষ্টে জীবন কাটায়। আবার অনেককে দেখা যায় বিভিন্ন এন.জিও থেকে লোন নিয়ে সংসার চালাতে। মতস্য মৌসুম ছাড়া বাকি সময় জেলেরা শ্রমিক পেশা হিসেবে কাজ করে। অভাব অনটন ,দুঃখ-দুর্দশা লাগব করার লক্ষ্যে জেলেরা অন্য পেশা খুজছে।