অবশেষে রাইমার বিয়ে?

raima_sen_marriage_s_62438বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : মহানায়িকার সর্বশেষ ইচ্ছেটাও বুঝি পূরণ হতে চলল এতদিনে! যতই নিভৃতচারিণী হয়ে থাকুন না কেন মিসেস সেন, নাতনিরাই তো ছিল তাঁর চোখের তারা। তার মধ্যে বড় নাতনি রাইমার বিয়ের জন্য বড়ই অস্থির হয়ে পড়েছিলেন তিনি। মৃত্যুশয্যাতেও জানিয়ে গিয়েছিলেন সে কথাই, রাইমার তাড়াতাড়ি বিয়ে হোক!

এবার বোধহয় সেটা সত্যি সত্যিই হচ্ছে। টলিপাড়ায় কান পাতলে এখন কেবল একটাই গুজগুজ ফিসফিস- ওরে, রাইমা ফের বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছে রে!

তা, ‘ফের’ শব্দটা দেখে চোখে বালি পড়ল না তো?

পড়লেই বা কী! একটু খোঁজ নিলেই তো জানা যাবে রাইমার আগের বিয়ের গোপন কথা। বাস্ রে, সেই ২০১২ সালে কী কান্ডটাই না ঘটিয়েছিলেন কন্যে! কারওরই তো কিছু জানতে বাকি ছিল না তখন সোশ্যাল মিডিয়ার সৌজন্যে।

এখন খোদ রাইমা-ই যদি ট্যুইট করে জনে জনে বিয়ের খবর রটিয়ে বেড়ান, তাতেও বিশ্বাস করা যাবে না? ‘আমি বিয়ে করতে চলেছি। হ্যাঁ সত্যি। আমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ডকে বিয়ে করছি’। এই সবই তো সেই সময়ে ট্যুইট করেছিলেন রাইমা।

ভাবছেন তো, এই ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’-টি কে? সৎপাত্রের নাম বরুণ থাপার। কলকাতার এক নাইট ক্লাবে হুল্লোড় করার সময়েই নাকি রাইমার কাছে বিয়ের প্রস্তাবটি পাড়েন ছেলে। রাইমারও তখন ঢুলুঢুলু গোলাপি দশা, তায় আবার প্রস্তাবটি এসেছে ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’-এর কাছ থেকে। তখন আর ‘হ্যাঁ’ বলতে দেরি করলে চলে?

দেরি অবিশ্যি করেননিও কন্যে। হাসিখুশি রাজি তো হয়ে গেছিলেনই, আবার আংটি বদলের পাঁচ-পাঁচটা ছবিও দিয়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে। তারপর?

আর কী! ভোরে হ্যাংওভারের মধ্যেই মায়ের বকুনি খেয়ে ‘ওসব নিছক দুষ্টুমি’ বলে ভুল শুধরে নিয়েছিলেন রাইমা।

তবে মুনমুন কিন্তু কোনও ভুল করেননি। বুঝতে পেরেছিলেন, মেয়ের বিয়ে না দিলেই নয়। বিয়ে-থা হলে হয়তো উড়ুক্কু স্বভাবটাও পাল্টাবে! সেই মতো কোমর বেঁধে লেগে পড়েছিলেন তিনি জামাই খুঁজতে। তাঁর জন্য যেমন রাজকীয় বর খুঁজে এনেছিলেন রমা সেন, ঠিক তেমনটাই মেয়ের জন্যও চাইছিলেন মুনমুন।

তা, চাইলেই কি আর রাজপুত্তুর মেলে? রাইমার জন্যও মিলল না।

তাহলে? কোন পরিবারে বিয়ে হচ্ছে রাইমার?

কানাঘুঁষোয় খবর, রাইমা নাকি খুব চেয়েছিলেন মণীশ মলহোত্রকে বিয়ে করতে! কিন্তু ওসব বায়নাক্কায় কান দেওয়ার মতো মেয়েই নন মুনমুন। মেয়ের ইচ্ছে খারিজ করে সোজা দিল্লিনিবাসী এক পঞ্জাবি বণিকপুত্তুরকে জামাই হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। রাজপুত্তুর নাই বা হল, রাজধানীর পুত্তুরই বা মন্দ কি?

কিন্তু মোদ্দা কথাটা এখনও বাকি। বিয়েটা হচ্ছে কবে?

প্রথমে ঠিক ছিল, চলতি বছরের মে মাসেই পিঁড়িতে বসিয়ে, সাত পাকে ঘুরিয়ে রাইমাকে শ্বশুড়বাড়ি পাঠিয়ে দেবেন রমা আর মুনমুন। হ্যাঁ, এসব যখনকার পরিকল্পনা, তখনও মহানায়িকা বেঁচে ছিলেন। এমনকী, শুরুও হয়ে গিয়েছিল রাইমার বিয়ের কেনাকাটা। সেই জন্যই তো মিসেস সেনের অন্তিম ইচ্ছা ছিল রাইমার বিয়ে!

কিন্তু ললাট লিখন! সেটাকে তো আর বদলানো যাবে না। তার ওপর কিছু সামাজিক আচারও আছে। হিসেব মতো, এখন কালাশৌচের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন সেন-পরিবার। তার মাঝে তো আর বিয়ের সানাই বাজতে পারে না। এর ওপর আবার মুনমুনও খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ইদানিং লোকসভার নির্বাচন নিয়ে। সে সব ঝক্কি সামলে বিয়ের জোগাড়যন্তরে মন দেওয়াটা কি মুখের কথা? নাকি দু’ নৌকোয় পা দিয়ে চলা এতই সহজ?

তাহলে বিয়ের তারিখ? আহা, অপেক্ষা করুনই না একটুখানি!